Saturday, April 30, 2016

বিদেশ থেকে অর্থ পেতে কষ্ট কমবে by আশরাফুল ইসলাম

সাক্ষাৎকারে মাস্টারকার্ডের এশিয়া-প্যাসিফিকের
গ্রুপ এক্সিকিউটিভ ম্যাথিউ ড্রাইভার
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবারের একটি বড় অংশ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা। এ কারণে প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ লেনদেন করা তাদের জন্য বেশ কঠিন। বিদেশ থেকে অর্থ বাংলাদেশে এলেও সেই অর্থ তোলার জন্য স্বজনদের তাই অনেক কষ্ট করতে হয়। মুঠোফোনভিত্তিক প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) সেবা বাংলাদেশের মানুষের এই কষ্ট অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে। প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এমন তথ্যই জানান প্রযুক্তিভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মাস্টারকার্ডের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গ্লোবাল প্রোডাক্টস অ্যান্ড সলিউশনের গ্রুপ এক্সিকিউটিভ ম্যাথিউ ড্রাইভার। প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে সম্প্রতি মুঠোফোনভিত্তিক রেমিট্যান্স সেবা বাংলাদেশে যৌথভাবে চালু করেছে বিকাশ, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মাস্টারকার্ড ও ব্র্যাক ব্যাংক। এ সেবার উদ্বোধন উপলক্ষে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে আসেন মাস্টারকার্ডের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা। যৌথভাবে বাংলাদেশে এ সেবা চালুর কারণ সম্পর্কে ম্যাথিউ ড্রাইভার বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০ লাখ বাংলাদেশি এখন কাজ করছেন। বিদেশ থেকে অর্থ বাংলাদেশে এলেও দেখা যায় সেই অর্থ তোলার জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত স্বজনকে দিনের কাজ বাদ দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ব্যাংকে যেতে হয়। একই সঙ্গে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকিও থেকে যায়। বিদেশ থেকে পাঠানো প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ সহজে তাঁদের স্বজনদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেই ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ও মাস্টারকার্ডের এই যৌথ উদ্যোগ। এ প্রক্রিয়ায় আমরা বিকাশকে বেছে নিয়েছি, যাদের সারা বাংলাদেশে ২ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক ও অর্থ লেনদেনের বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। যৌথ উদ্যোগে এমন সেবা বাংলাদেশেই প্রথম।’ যৌথ এ উদ্যোগের সফলতার সম্ভাবনা সম্পর্কে ম্যাথিউ ড্রাইভার বলেন, ‘আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিকাশ যে ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, সেটি এত দিন বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেটিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ব্যবসায়িক দিক থেকে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মাস্টারকার্ড যার যার ক্ষেত্রে সেরা। তিনটি সেরা প্রতিষ্ঠান এক হয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত আয় সহজে ও নিরাপদে এই দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এ সেবার সাফল্যের ব্যাপারে তাই আমরা খুব আশাবাদী। বাংলাদেশে এই উদ্যোগ সফল হলে তা অন্যান্য দেশে চালু করার চিন্তাভাবনা আমাদের রয়েছে।’

No comments:

Post a Comment