![]() |
| মো. হাবিবুর রহমান। |
১৯৯৫
সালের সেপ্টেম্বরে যাত্রা শুরু করে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক। বাণিজ্যিক
ব্যাংক হিসেবে ইসলামি শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে
এটি। এরই মধ্যে দুই দশক পার করে ২১ বছরে পা রেখেছে বেসরকারি এ ব্যাংক।
দীর্ঘ এ পথচলায় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ব্যাংকটির অবদান, সাফল্য ও
ব্যর্থতা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক
মো. হাবিবুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুজয় মহাজন
প্রথম আলো: আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ২১ বছরে পর্দাপণ করেছে। দুই দশকের যাত্রায় ব্যাংকটির সাফল্যের দিকগুলো কী?
হাবিবুর রহমান: বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ্ভিত্তিক এ ব্যাংকটির বর্তমান আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা। তার বিপরীতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে আল-আরাফাহ্ সব সময় তহবিল ব্যবস্থাপনায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই এ ব্যাংকে সাধারণত অলস অর্থ বা অতিরিক্ত তারল্য পড়ে থাকে না। বিনিয়োগের প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বাড়তি আমানত সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিবিধান অনুযায়ী, আল-আরাফাহ্ কমপ্লায়েন্স ব্যাংক। এ ব্যাংকের কোনো প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি নেই। এ ছাড়া আমাদের ব্যাংকটি শতভাগ অনলাইনভিত্তিক।
প্রথম আলো: আপনাদের আমানত ও বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় কাছাকাছি। কোন খাতে আপনাদের এ বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে?
হাবিবুর রহমান: আমাদের ব্যাংকের বিনিয়োগ বহুমাত্রিক। বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী গ্রুপে আমাদের বিনিয়োগ রয়েছে। পাশাপাশি বস্ত্র খাত, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত (এসএমই)সহ ক্ষুদ্রঋণ খাতেও আমাদের বিনিয়োগ রয়েছে। আমাদের ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫৩ শতাংশই এসএমই খাতে। এ ছাড়া কৃষি খাতে ৩০০ কোটি ও ক্ষুদ্রঋণ খাতে ৩৩০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ রয়েছে। বিনিয়োগ রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেও।
প্রথম আলো: সাফল্যের অনেক তথ্য তুলে ধরলেন। দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রায় কোনো ব্যর্থতা কি নেই?
হাবিবুর রহমান: তা কেন হবে। ব্যাংকিং সেবা বা ব্যবসায় আমরা শতভাগ সফল এমনটি বলা যাবে না। সফলতার পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে। এর মধ্যে বড় ব্যর্থতা মন্দ ঋণ বা নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল)। মোট বিনিয়োগের সাড়ে ৪ শতাংশেরও বেশি মন্দ ঋণ রয়েছে আমাদের ব্যাংকের। তবে অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে আমাদের ব্যাংকে এ হারটি একটু বেশি হওয়ার পেছনে কিছু কারণও রয়েছে। যেহেতু আমরা শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং করে থাকি, তাই কোনো বিনিয়োগের কিস্তি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেই সেটিকে আমাদের এনপিএলের আওতাভুক্ত করতে হয়।
প্রথম আলো: বিনিয়োগের বিপরীতে যে মন্দ ঋণ তৈরি হচ্ছে, তার জন্য ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও তদারকি দুর্বলতাও অনেকাংশে দায়ী নয় কি?
হাবিবুর রহমান: কিছু দুর্বলতা তো অবশ্যই ব্যাংকের দিক থেকে রয়েছে। বিনিয়োগ বা ঋণ বিতরণের আগে যেভাবে সেটির মূল্যায়ন করা উচিত ছিল, অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথ হয়নি। এ কারণে কিছু বিনিয়োগ মন্দ বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কিছু দুর্বলতা ছিল।
প্রথম আলো: এখন পর্যন্ত কোন খাতে বিনিয়োগ করে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন?
হাবিবুর রহমান: ২০১০ সালের দিকে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কিছু ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী ও জাহাজ নির্মাণশিল্পে বিনিয়োগ করে পরে বেশ চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে সে সময় বিনিয়োগ করে পরবর্তী সময়ে তা ফেরত পাওয়া যায়নি। এর ফলে ব্যাংকের লাভজনক বেশ কিছু শাখা লোকসানি শাখায় পরিণত হয়।
প্রথম আলো: এখন এসে আপনি কি মনে করেন, সে সময় বিভিন্ন ব্যাংক মিলে চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আগ্রাসী অর্থায়ন করায় ঋণের টাকার অপব্যবহারও হয়েছে?
হাবিবুর রহমান: সবক্ষেত্রে না হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো আগ্রাসী অর্থায়ন হয়েছে। তার কারণেই বিভিন্ন ঋণ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ কথাও সত্য, ভোগ্যপণ্য ব্যবসায় অর্থায়ন করে আন্তর্জাতিক বাজারের কারণেও অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সে কারণেও অনেক ঋণ সময়মতো পরিশোধ হয়নি।
প্রথম আলো: আপনাদের ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি এখন কেমন?
হাবিবুর রহমান: ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে এসে আল-আরাফাহ্ ইসলামি ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির আমানত ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি খুব বেশি ছিল না। ২০০৮ সালের পর থেকে ব্যাংকটির আমানত ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য গতিসঞ্চার হয়। সেই সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবসার পরিধিও বেড়েছে। গত মার্চের সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ বছর আয়ের ক্ষেত্রে ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকে আমাদের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিল মাত্র ২০ পয়সা। সেখানে চলতি বছরের মার্চের প্রথম প্রান্তিক শেষে ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক টাকারও বেশি।
প্রথম আলো: ব্যাংকিং ব্যবসার পরিধি বাড়ার কথা বলছিলেন। সেটি সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানতে চাই।
হাবিবুর রহমান: ব্যাংকিং ব্যবসার পাশাপাশি আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চারটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হচ্ছে এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস, এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, এআইবিএল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সলিউশন। এর মধ্যে প্রথম তিনটি শেয়ারবাজারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মিলেনিয়াম ইনফরমেশন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের জন্য ‘আবাবিল’ নামে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, সেটি এ প্রতিষ্ঠানটির তৈরি।
প্রথম আলো: বর্তমানে সারা দেশে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের কতটি শাখা রয়েছে? ব্যাংকের জনবল কত?
হাবিবুর রহমান: সারা দেশে বর্তমানে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ১২৯টি শাখা রয়েছে। আমাদের প্রতিটি শাখায় শতভাগ অনলাইন। জনবলের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। শাখা ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিংয়েও দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে আমাদের ব্যাংকটিও রয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৫টি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে। শিগগিরই তা এক শতে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রথম আলো: আমরা জানি, দেশের প্রতিটি ব্যাংকই সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। আপনার নেতৃত্বাধীন ব্যাংকটির সিএসআর কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।
হাবিবুর রহমান: সিএসআর খাতে প্রতিবছর আমরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে থাকি। তার সিংহভাগই ব্যয় করা হয় স্বাস্থ্য খাতে। ২০১৫ সালে সিএসআর খাতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। সেখানে ভর্তুকি মূল্যে গরিব ও জটিল কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ খাতেও আমাদের সিএসআর কার্যক্রম বিস্তৃত।
প্রথম আলো: আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ২১ বছরে পর্দাপণ করেছে। দুই দশকের যাত্রায় ব্যাংকটির সাফল্যের দিকগুলো কী?
হাবিবুর রহমান: বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ্ভিত্তিক এ ব্যাংকটির বর্তমান আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা। তার বিপরীতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে আল-আরাফাহ্ সব সময় তহবিল ব্যবস্থাপনায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই এ ব্যাংকে সাধারণত অলস অর্থ বা অতিরিক্ত তারল্য পড়ে থাকে না। বিনিয়োগের প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বাড়তি আমানত সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিবিধান অনুযায়ী, আল-আরাফাহ্ কমপ্লায়েন্স ব্যাংক। এ ব্যাংকের কোনো প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি নেই। এ ছাড়া আমাদের ব্যাংকটি শতভাগ অনলাইনভিত্তিক।
প্রথম আলো: আপনাদের আমানত ও বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় কাছাকাছি। কোন খাতে আপনাদের এ বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে?
হাবিবুর রহমান: আমাদের ব্যাংকের বিনিয়োগ বহুমাত্রিক। বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী গ্রুপে আমাদের বিনিয়োগ রয়েছে। পাশাপাশি বস্ত্র খাত, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত (এসএমই)সহ ক্ষুদ্রঋণ খাতেও আমাদের বিনিয়োগ রয়েছে। আমাদের ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫৩ শতাংশই এসএমই খাতে। এ ছাড়া কৃষি খাতে ৩০০ কোটি ও ক্ষুদ্রঋণ খাতে ৩৩০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ রয়েছে। বিনিয়োগ রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেও।
প্রথম আলো: সাফল্যের অনেক তথ্য তুলে ধরলেন। দুই দশকের দীর্ঘ যাত্রায় কোনো ব্যর্থতা কি নেই?
হাবিবুর রহমান: তা কেন হবে। ব্যাংকিং সেবা বা ব্যবসায় আমরা শতভাগ সফল এমনটি বলা যাবে না। সফলতার পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে। এর মধ্যে বড় ব্যর্থতা মন্দ ঋণ বা নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল)। মোট বিনিয়োগের সাড়ে ৪ শতাংশেরও বেশি মন্দ ঋণ রয়েছে আমাদের ব্যাংকের। তবে অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে আমাদের ব্যাংকে এ হারটি একটু বেশি হওয়ার পেছনে কিছু কারণও রয়েছে। যেহেতু আমরা শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং করে থাকি, তাই কোনো বিনিয়োগের কিস্তি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেই সেটিকে আমাদের এনপিএলের আওতাভুক্ত করতে হয়।
প্রথম আলো: বিনিয়োগের বিপরীতে যে মন্দ ঋণ তৈরি হচ্ছে, তার জন্য ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও তদারকি দুর্বলতাও অনেকাংশে দায়ী নয় কি?
হাবিবুর রহমান: কিছু দুর্বলতা তো অবশ্যই ব্যাংকের দিক থেকে রয়েছে। বিনিয়োগ বা ঋণ বিতরণের আগে যেভাবে সেটির মূল্যায়ন করা উচিত ছিল, অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথ হয়নি। এ কারণে কিছু বিনিয়োগ মন্দ বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কিছু দুর্বলতা ছিল।
প্রথম আলো: এখন পর্যন্ত কোন খাতে বিনিয়োগ করে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন?
হাবিবুর রহমান: ২০১০ সালের দিকে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কিছু ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ী ও জাহাজ নির্মাণশিল্পে বিনিয়োগ করে পরে বেশ চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে সে সময় বিনিয়োগ করে পরবর্তী সময়ে তা ফেরত পাওয়া যায়নি। এর ফলে ব্যাংকের লাভজনক বেশ কিছু শাখা লোকসানি শাখায় পরিণত হয়।
প্রথম আলো: এখন এসে আপনি কি মনে করেন, সে সময় বিভিন্ন ব্যাংক মিলে চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আগ্রাসী অর্থায়ন করায় ঋণের টাকার অপব্যবহারও হয়েছে?
হাবিবুর রহমান: সবক্ষেত্রে না হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো আগ্রাসী অর্থায়ন হয়েছে। তার কারণেই বিভিন্ন ঋণ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ কথাও সত্য, ভোগ্যপণ্য ব্যবসায় অর্থায়ন করে আন্তর্জাতিক বাজারের কারণেও অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সে কারণেও অনেক ঋণ সময়মতো পরিশোধ হয়নি।
প্রথম আলো: আপনাদের ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি এখন কেমন?
হাবিবুর রহমান: ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে এসে আল-আরাফাহ্ ইসলামি ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির আমানত ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি খুব বেশি ছিল না। ২০০৮ সালের পর থেকে ব্যাংকটির আমানত ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য গতিসঞ্চার হয়। সেই সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবসার পরিধিও বেড়েছে। গত মার্চের সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ বছর আয়ের ক্ষেত্রে ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকে আমাদের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিল মাত্র ২০ পয়সা। সেখানে চলতি বছরের মার্চের প্রথম প্রান্তিক শেষে ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক টাকারও বেশি।
প্রথম আলো: ব্যাংকিং ব্যবসার পরিধি বাড়ার কথা বলছিলেন। সেটি সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জানতে চাই।
হাবিবুর রহমান: ব্যাংকিং ব্যবসার পাশাপাশি আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চারটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হচ্ছে এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস, এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, এআইবিএল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সলিউশন। এর মধ্যে প্রথম তিনটি শেয়ারবাজারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মিলেনিয়াম ইনফরমেশন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের জন্য ‘আবাবিল’ নামে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, সেটি এ প্রতিষ্ঠানটির তৈরি।
প্রথম আলো: বর্তমানে সারা দেশে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের কতটি শাখা রয়েছে? ব্যাংকের জনবল কত?
হাবিবুর রহমান: সারা দেশে বর্তমানে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ১২৯টি শাখা রয়েছে। আমাদের প্রতিটি শাখায় শতভাগ অনলাইন। জনবলের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। শাখা ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিংয়েও দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে আমাদের ব্যাংকটিও রয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৫টি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে। শিগগিরই তা এক শতে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রথম আলো: আমরা জানি, দেশের প্রতিটি ব্যাংকই সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। আপনার নেতৃত্বাধীন ব্যাংকটির সিএসআর কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।
হাবিবুর রহমান: সিএসআর খাতে প্রতিবছর আমরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে থাকি। তার সিংহভাগই ব্যয় করা হয় স্বাস্থ্য খাতে। ২০১৫ সালে সিএসআর খাতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। সেখানে ভর্তুকি মূল্যে গরিব ও জটিল কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ খাতেও আমাদের সিএসআর কার্যক্রম বিস্তৃত।

No comments:
Post a Comment