![]() |
| জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে বাড়ি। গতকাল সেখানে ধ্বংসস্তূপ সরাতে ব্যস্ত এক ব্যক্তি। ছবিটি কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চলের মাশিকি এলাকার |
প্রকৃতি
যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে এত অগ্রগতির পরও তার কাছে
কতটা অসহায় জাপানবাসীর জীবন। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রধান দ্বীপ কিউশুর
কুমামোতো জেলায় বৃহস্পতিবার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর যখন উদ্ধার তৎপরতা
চালাতে কর্তৃপক্ষ দিশেহারা; তার মধ্যেই শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে আরও
শক্তিশালী ভূমিকম্প একই এলাকায় আঘাত হেনেছে। জাপানের আবহাওয়া এজেন্সি বলছে,
রিখটার স্কেলে সর্বশেষ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। এই আঘাতে হতাহত ও
ক্ষয়ক্ষতির বিস্তৃতি অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার আঘাত হানে ৬
দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প। সব মিলিয়ে দুই দিনের ভূমিকম্পে অন্তত ৪১ জন নিহত
হয়েছে। আহত হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষ। পাঁচ বছর আগে প্রচণ্ড শক্তিশালী
ভূমিকম্পের পর সুনামি জাপানের প্রায় ২০ হাজার প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। মাত্র এক
মাস আগে জাপান পালন করেছে সেই ধ্বংসযজ্ঞের বার্ষিকী। পাঁচ বছর আগে প্রকৃতি
তার খামখেয়ালিপনার খেলা দেখিয়েছিল উত্তর-পশ্চিম জাপানের বিস্তৃত
এলাকাজুড়ে। আর ঠিক পাঁচ বছর পর প্রকৃতি বেছে নিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে।
কুমামোতোর পর্যায়ক্রমিক ভূমিকম্প থেকে সুনামি দেখা না দেওয়াকে অনেকেই আংশিক
সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। কেননা, সে রকম কিছু হলে পরিণতি হয়তো হতে পারত আরও
ভয়াবহ। দ্বিতীয় ভূমিকম্পের পর কুমামোতো এবং আশপাশের অন্যান্য শহর ও বসতির
অনেক লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। অটোমোবাইল এবং
ইলেকট্রনিকস কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় দুই লাখ বাড়িঘরে
বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং প্রায় সমপরিমাণ আবাসন পানি সরবরাহ
থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া দূরবর্তী অনেক জায়গায় ধসে পড়া বাড়িঘরের নিচে
আটকা পড়ে যাওয়া লোকজন সম্পর্কেও খবরাখবর সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কুমামোতো শহর ও আশপাশের অন্যান্য জনবসতির যেসব লোক বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে আশ্রয়
নিয়েছে, তাদের সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠে আসার অনুরোধ
জানিয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা বলেছে, ভূমিকম্প আঘাত হানা এলাকাসহ
কুমামোতো ও পাশের কয়েকটি জেলায় টানা বর্ষণ শুরু হতে পারে। বৃষ্টিপাতের
পরিমাণ হতে পারে ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার। ভূমিকম্পে বিশেষ করে পাহাড়ি
এলাকায় উপরিভাগের মাটি আলগা হয়ে পড়ায় বৃষ্টি থেকে কাদার ধস নামার আশঙ্কা
রয়েছে। এ কারণেই স্থানীয় অধিবাসীদের সতর্ক করে দিয়ে উন্মুক্ত জায়গায়
অবস্থান না করে অস্থায়ী বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠে আসার পরামর্শ দেওয়া
হয়েছে। কুমামোতো জেলার স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯২ হাজার লোক
বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে দুর্গত এলাকায় গতকাল শনিবার
ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পন দিনব্যাপী অনুভূত হওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে
আতঙ্ক বেড়ে গেছে।

No comments:
Post a Comment