![]() |
| শিশু লাবিবা |
২৭
মাসের লাবিবা জানে ওর ‘রুনা মা’ অফিসে গেছে। তাই ঘুম থেকে উঠে এবং
ঘুমানোর সময় মাকে খোঁজে। দিন গড়িয়ে যায়। মায়ের জন্য লাবিবার অপেক্ষা।
বয়স সাড়ে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে। মা আর আসে না। ও জানে না, মা আর আসবে না।
বেপরোয়া গতির দুই মোটরসাইকেল আরোহীর বখাটেপনা কেড়ে নিয়েছে তার ‘রুনা
মা’য়ের প্রাণ। গত বছরের ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর মতিঝিলে এজিবি
কলোনি হাসপাতাল জোন বি টাইপ কোয়ার্টারের গেটের সামনে রিকশার জন্য অপেক্ষা
করছিলেন গণপূর্ত বিভাগের হিসাব সহকারী (সেগুনবাগিচা, মেডিকেল বিভাগ) রুনা
আক্তার ও তাঁর বোন তানিয়া আক্তার। তানিয়া প্রথম আলোকে জানান, কলোনির
গেটে রিকশা না পেয়ে রাস্তা পার হওয়ার জন্য সড়ক বিভাজকের ওপর দাঁড়ান। এ
সময় পরপর চারটি মোটরসাইকেল বিকট হর্ন বাজিয়ে অত্যন্ত দ্রুতবেগে তাঁদের পাশ
দিয়ে চলে যায়। এরপর রুনা সড়ক বিভাজক থেকে সবে এক পা নামিয়েছেন, এমন সময়
দ্রুতবেগে আরেকটি মোটরসাইকেল চলে আসে। মোটরসাইকেলটির হেডলাইটও ছিল না,
চালক হর্নও বাজাননি। মোটরসাইকেলের এক আরোহী রুনার ওড়না ধরে টান দেন।
রুনা মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে যান। চাকার সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে যায়। সেই অবস্থায়
চালক দ্রুতবেগে বেশ কিছুদূর তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। গুরুতর আহত রুনাকে
হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। রুনার ওড়না পেঁচিয়ে
মোটরসাইকেল বন্ধ হয়ে যায়। মোটরসাইকেলের পেছনের আরোহী পালিয়ে গেলেও
এলাকাবাসী ও পুলিশ চালক আল আমিনকে ধরে ফেলে। রুনার স্বামী লুৎফর রহমান বাদী
হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযুক্ত মোটরসাইকেলের চালক আল
আমিনের (১৯) নাম উল্লেখ করা হয়। গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে আল আমিন
অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে আছেন। রুনার স্বামী ও মেয়ে লাবিবা এখন এ কলোনিতেই
রুনার বড় বোন শাহনাজ বেগমের বাসায় থাকেন। লাবিবা শাহনাজকে ডাকে ‘বড় মা’।
শাহনাজ বেগম বলেন, ‘মেয়েটা একদম শুকাইয়্যা গেছে। মায়ের অপেক্ষায় থাকে।
ভাবে, মা অফিস থেকে ফিরবে। ঘুম থেকে উইঠাই রুনা মায়ের খোঁজ করে। রাতে
ঘুমানোর সময় আমার বুকে ঘুমায়। ওকে রুনার ছবি দেখাই না। দেখাইলে ওই দিন খুব
জ্বালাতন করে।’ রুনার বাবা বলেন, ‘মামলার চার্জশিট দেয় নাই। মামলার
আসামি জামিনে। ওরা হুমকি-ধমকি দিতাছে।’ রুনার বোন শাহনাজ বলেন, বাইকের টহল
বন্ধ হয়নি। থানা-পুলিশ, মিডিয়া কেউ কিছু করতে পারবে না বলে বেড়াচ্ছেন আল
আমিন ও তাঁর বাবা। আল আমিনের বাবা শাহ আলম বলেন, ‘দুই পক্ষেরই ক্ষতি হইছে।
তবে রুনার মেয়ের পুরো জীবনের ভরণপোষণ দিতে চাইছি। আপস করতে চাইছি। কিন্তু
সরাসরি কথা বলতে সাহস পাই না।’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিঝিল থানার
এসআই দুলাল চন্দ্র কুণ্ড মামলাটি তদন্তাধীন জানিয়ে বলেন, রুনার ময়নাতদন্ত
প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যায়নি, তাই অভিযোগপত্র দাখিল করা যাচ্ছে না।
আসামিপক্ষ রুনার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে, সে অভিযোগ জানা নেই বলেও জানান
তিনি। মোটরসাইকেলের অপর আরোহীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

No comments:
Post a Comment