![]() |
| কামরাঙ্গীরচরের ছাতা মসজিদ সড়কে পয়োনিষ্কাশন লাইন বন্ধ হয়ে সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের পথটি প্রায় ১০ মাস ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। |
কামরাঙ্গীরচরে
ছাতা মসজিদ সড়কের সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে সেই পয়োনালা এত
দিনেও সংস্কার হয়নি। প্রায় ১০ মাস ধরে এই সড়কে জলাবদ্ধতা। প্রতিদিন ময়লা
পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছে শিক্ষার্থীরা। গত ২৫ মার্চ সড়কের এই
ময়লা পানি অপসারণ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন এলাকার
বাসিন্দা রিকশাচালক মো. জসিম। এ ছাড়া সড়কের গর্তে রিকশা উল্টে প্রায়ই
দুর্ঘটনা ঘটছে। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৫টি দোকান বদ্ধ
হয়ে গেছে। গত বছরের ১৯ নভেম্বর ‘চার মাস ধরে স্কুলের ফটকে ময়লা পানি’
শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও
স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই নিয়মিত
স্কুলে যাচ্ছে না। অনেকে রিকশায় করে পানি পার হচ্ছে। সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড
কলেজে (কলেজ প্রস্তাবিত) প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩৫০
শিক্ষার্থী আছে। এলাকাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৭ নম্বর
ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। ডিএসসিসির ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইদুল
ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ছাতা মসজিদ সড়ক এলাকায় পয়োনালার মুখ বন্ধ হয়ে
যাওয়ায় সড়কে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে পয়োনালা
সংস্কারে দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো কাজ শুরু
করেনি। বিষয়টি ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর
প্রথম আলোকে এক সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বরের মধ্যেই পয়োনালা সংস্কারের কথা
বলেছিলেন সাইদুল ইসলাম। কিন্তু তারপরও সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। গত বুধবার
দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকের সামনে
পয়োনালা ভেঙে বের হচ্ছে ময়লা পানি। এতে আশ্রাফাবাদ লোহার সেতুর ঢাল থেকে
ছাতা মসজিদ পর্যন্ত (প্রায় ৫০০ ফুট) সড়কে হাঁটুপানি জমে আছে। পানি
দুর্গন্ধ। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ আছে। পাশের একটি
বাড়ির ফটক দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে শিক্ষার্থীরা। সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড
কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আশা আক্তার বলেছে, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে
ময়লা পানি জমে আছে। স্কুলে যাতায়াতের সময় সড়কে দ্রুতগতিতে কোনো গাড়ি
চললে ময়লা পানি এসে শরীরে পড়ে। এতে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া কয়েক
দিন আগে স্কুলে আসার সময় রিকশা উল্টে পানিতে পড়ে গিয়ে হাঁটুতে ব্যথা
পাইছি। প্রতিদিন গড়ে দু-তিনজন শিক্ষার্থী এভাবে আহত হচ্ছে। এতে করে
বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’ সথানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক বছর আগে
পয়োনালা বন্ধ হয়ে এই সড়কে পানি জমতে থাকে। পরে প্রায় ছয় মাস আগে সড়কের
পানি সেচ দিতে একটি পানির পাম্প দেন সাইদুল ইসলাম। এই পাম্প দিয়ে দিনে
সাত-আটবার পানি সেচ দিতে হয়। তা না করা হলে আশপাশের বাসাবাড়িতে ঢোকে ময়লা
পানি। এ ছাড়া সড়কে ময়লা পানি থাকায় আশপাশের দোকানে ক্রেতারা আসতে চান
না। নিহত জসিমের স্ত্রী কুলসুম বেগম বলেন, এই বিদ্যালয়ের সামনেই তাঁদের
বাসা। সড়কের পানি বেড়ে যাওয়ায় গত ২৫ মার্চ তিনি সেচ দিতে গিয়েছিলেন। তখন
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। তাঁদের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে রবিউল
ইসলাম ওই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের
প্রধান শিক্ষক বি এম মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এই বিদ্যালয়ে
বর্তমানে শিশু থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু
সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় দেড় শ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে। বছরের
শুরুতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যাও আগের তুলনায় অর্ধেক। তিনি বলেন,
শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য লোহার সেতু এলাকা থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত (২৫০
ফুট) দেড় ফুট প্রস্থ ও আট ইঞ্চি উঁচু করে ইটপাথর বিছানো হয়েছে। কিন্তু
পানি বাড়লেই তা তলিয়ে যায়।

No comments:
Post a Comment