![]() |
| মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় |
নির্বাচনের
প্রায় শেষ লগ্নে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র কলকাতার ভবানীপুরে
ভোট গ্রহণ করা হবে আজ শনিবার। পাঁচ বছর আগে বামপন্থীদের ৩৪ বছরের শাসনের
ইতি ঘটিয়ে যখন মমতা মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। সেই
সঙ্গে মমতার ব্যক্তিত্ব ঘিরে জনমানসে ধারণা ছিল, তিনি সততার প্রতিমূর্তি,
অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন। গত কয় বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের
নেতা–কর্মীদের অনেক কুকর্ম ও দুর্নীতি মানুষের সামনে এলেও মমতা সম্পর্কে
মানুষের ধারণা পাল্টায়নি। বরং মমতার সততার ভাবমূর্তি ও আপসহীন মনোভাবই ছিল
তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় পুঁজি। মমতার ভাইদের নানা ব্যবসা ও সম্পত্তি
রাতারাতি ফেঁপে ফুলে ওঠা নিয়ে কানাঘুষা ছিল। কিন্তু প্রকাশ্যে সেসব নিয়ে
কেউই প্রশ্ন তুলতে সাহস করেননি। সারদা চিটফান্ডের সময় মমতা যেভাবে তাঁর
মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের প্রাণপণে আড়াল করার চেষ্টা করে গেছেন, সেটা মানুষ
দেখেছে। তারপরে নারদ ঘুষকাণ্ডে নেতা ও মন্ত্রীদের টাকা নিতে দেখার পরও
যেভাবে তিনি তাঁদের বাঁচাতে চেষ্টা করেছেন, সেটাও দেখা গেছে। কলকাতার বুকে
নির্মীয়মাণ উড়ালসেতু ভেঙে ২৭ জন মানুষের প্রাণ গেলে সেই কেলেঙ্কারিতে
মমতার ভূমিকা আবারও সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে মাত্র পাঁচ বছরে মমতার সেই
ভাবমূর্তি এখন অনেকটাই মলিন। শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতার পথে ট্রেনের
কামরায় বাউলদের গাইতে শোনা যায়, দিদির পায়ে হাওয়াই চটি, ভাইয়েরা সব
কোটিপতি। সেই গান ভোটের আগে বহরমপুর শহরে মাইক বাজিয়ে প্রচার করতে দেখা ও
শোনার অভিজ্ঞতা এই প্রতিবেদকেরও হয়েছে। কদিন ধরেই মমতা একের পর এক
নির্বাচনী জনসভায় প্রাণপণে বলার চেষ্টা করেছেন, তিনি চোর নন। গতকাল
শুক্রবার সিপিএম তার দলীয় মুখপত্র গণশক্তির প্রথম পাতায় তিনটি বাড়ির ছবি
ছেপেছে। সঙ্গে প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী কি বলবেন ওই বাড়িগুলোর মালিক কারা? এই
বাড়ি তিনটি মমতার কালীঘাটের বাড়ির এলাকাতেই। গণশক্তির দাবি, এ সবই তাঁর
ভাইদের নিয়ন্ত্রণে। একটিতে তিন তারকা হোটেল হয়েছে। ওখানে একটি রঙের
দোকানও আছে, যা থেকে কলকাতা ও অন্যত্র সরকারি বাড়িতে যত নীল-সাদা রং
লাগানো হচ্ছে, তা সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে রিপোর্টে মমতার আয়-ব্যয়ের
হিসাব যা আয়কর ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দাখিল করা, তা তুলে ধরা হয়েছে। ওই
হিসাবে মমতার বার্ষিক আয় এখন ৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা। আর অস্থাবর সম্পত্তির
পরিমাণ ৩০ লাখ টাকা। ২০০৯ সালের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তখন তাঁর অস্থাবর
সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ, এই আট বছরে তা ৫৪৩
শতাংশ বেড়েছে। মমতা বারবার বলেছেন, তিনি সরকার থেকে কোনো বেতন নেন না। বই
লিখে, ছবি এঁকে দল চালান। তা হলে তাঁর সম্পত্তি কোন মন্ত্রে বেড়ে চলেছে,
তার ব্যাখ্যা নেই। তাঁর ছবি বিক্রির উল্লেখ কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের
সাম্প্রতিক আয়-ব্যয়ের হিসাবে নেই। অথচ ২০০৪ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তৃণমূল
কংগ্রেসের দেওয়া হিসাবে ছবি বিক্রি বাবদ ৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আয়ের কথা
উল্লেখ ছিল। মমতা কখনোই কারা ছবি কিনেছেন, তা জানাতে রাজি হননি। সব
মিলিয়ে মমতাকে এখন নিজের এই বদলে যাওয়া ভাবমূর্তি নিয়েই ভোটযুদ্ধে লড়তে
হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment