![]() |
| ফাইনাল জয়ের পর ট্রফি নিয়ে গেইল-ব্র্যাভো–স্যামিদের উদ্যাপন। স্টেফানি টেলররাও যোগ দেওয়ায় পূর্ণতা পেল ইডেনে ক্যারিবীয় উৎসব |
এই
দলের সঙ্গেই আছেন কার্টলি অ্যামব্রোস। খেলোয়াড়ি জীবনে যাঁর প্রিয় একটা কথা
ছিল, ‘সাবধান, আমাকে রাগিও না। রেগে যাওয়া কার্টলি অ্যামব্রোস খুব ভয়ংকর।’
এখন তো দেখা যাচ্ছে শুধু কার্টলি অ্যামব্রোসই নন, রেগে যাওয়া ওয়েস্ট
ইন্ডিয়ান মাত্রই ভয়ংকর। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি দল! সবাইকে
দেখিয়ে দেওয়ার রাগ-জেদ ড্যারেন স্যামির এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে এমনই অদম্য
বানিয়ে দিয়েছে যে, শেষ ওভারে ১৯ রান দরকার থাকলে মাত্র অষ্টম টি-টোয়েন্টিতে
পঞ্চম ইনিংস খেলতে নামা অনভিজ্ঞ এক তরুণ পরপর চার বলে ছক্কা মেরে দেন!
ম্যাচসেরার ট্রফি নিতে গিয়ে মারলন স্যামুয়েলস সোজা বলে দিলেন, এই ট্রফিটা
শেন ওয়ার্নের জন্য। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই দেখছিলাম, লোকটা বকবক
করেই যাচ্ছে। অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই আবার তোপ
দাগলেন মার্ক নিকোলাসের দিকে। ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনেও
এ-সংক্রান্ত প্রশ্নেই সবচেয়ে বড় উত্তর দিয়েছেন। তবে নামটা উল্লেখ করেননি।
এবার আর রাখঢাক নেই। সরাসরি নাম বলেই জানিয়ে দিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের
মাথায় মস্তিষ্কের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিকোলাসের ওই মন্তব্যই এই দলকে
একতাবদ্ধ করায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এই টুর্নামেন্ট খেলতে আসার আগে
স্যামির ভাষায় ‘তথাকথিত’ বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট
বোর্ডও তাঁর দলের প্রতি যে তাচ্ছিল্য দেখিয়েছে, সেটিই নাকি তাতিয়ে দিয়েছিল
সবাইকে। প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়েছেন, কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড
থেকে কোনো ফোন না পাওয়ার কথাও জানিয়ে দিলেন প্রকাশ্যে। পরে সংবাদ সম্মেলনেও
যেভাবে বোর্ডের সমালোচনা করলেন, তাতে মনে হতেই পারে স্যামি ওয়েস্ট
ইন্ডিজের পক্ষে শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন না তো! এই প্রশ্নের উত্তর এখনই জানার
উপায় নেই। তবে স্যামি এই বলে দুঃখ করলেন, দলের বাকি খেলোয়াড়দের আবার কবে
এক ড্রেসিংরুমে পাবেন, সেটি তিনি জানেন না। এ বছর সামনে কোনো টি-টোয়েন্টি
নেই, ভবিষ্যতে এই ‘পনেরো ম্যাচ উইনার’ আবার কবে একসঙ্গে মাঠে নামবেন, আদৌ
নামবেন কি না কে জানে! প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
তাঁর। এবারের টুর্নামেন্ট-পূর্ব পরিস্থিতির কারণে অনায়াসে পেছনে পড়ে যাচ্ছে
২০১২। ছেলেদের আগে ফাইনাল জিতেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েরা। ‘ডাবল’ তো সবার
চোখের সামনেই ঘটল। স্যামি এর সঙ্গে বাংলাদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯
বিশ্বকাপকেও যোগ করে ‘ট্রেবল’ বানিয়ে দিলেন। পনেরো ম্যাচ উইনারের
ব্যাখ্যায় বললেন, ‘সবাই তো বলছিল আমরা নাকি একজনের দল। তা প্রথম ম্যাচে
সেঞ্চুরির পর ক্রিস (গেইল) তো আর কিছু করতে পারেনি। তারপরও আমরা ঠিকই এগিয়ে
গেলাম। কারণ, আমাদের মধ্যে বিশ্বাস ছিল।’ সেই বিশ্বাস এমনই যে, ম্যাচ যখন
শেষ ওভারের অনিশ্চয়তায় এসে দাঁড়াল, তখনো নাকি স্যামির মনে হয়নি ওয়েস্ট
ইন্ডিজ হারতে পারে! বোর্ডের সঙ্গে বিরোধ, এতজনের এত কথা—এসব অনুপ্রেরণার
জ্বালানি হয়েছে। আরেকটা জ্বালা মেটানোরও ছিল। দুদিন পরপর টাকাপয়সা নিয়ে
বোর্ডের বিরোধের কারণে একটা ধারণা ছড়িয়ে পড়েছিল বা ছড়িয়ে দেওয়া
হয়েছিল-ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়েরা শুধুই টাকার কথা ভাবেন, ক্যারিবীয়
দ্বীপপুঞ্জের মানুষের ভালোবাসার প্রতি তাঁদের কোনো দায় নেই। স্যামির আগে
স্যামুয়েলসও বলে গেছেন, শিরোপা জিতেই এর জবাব দিতে চেয়েছিলেন তাঁরা। এই
সাফল্যের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য, এটি ক্যারিবীয়দের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ক্রিকেট
খেলে এর চেয়ে বড় কিছু পাওয়ার নেই তাঁদের। এমন আবেগ, এমন মনপ্রাণ দিয়ে
ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই টুর্নামেন্টটা খেলল যে, কথাটা বিশ্বাস করতেই হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment