![]() |
| মেয়ে খালেদা বেগমের টানে মা সাজেদা বেগম এখনো আসেন রানা প্লাজার স্থানে |
সন্ধ্যা
ঘনিয়ে এলে সাজেদা বেগমের মন মানে না। ছুটে আসেন ধসে যাওয়া রানা প্লাজার
স্থানে। এখানে এসে নিহত মেয়ে খালেদা বেগমকে খুঁজে পান তিনি। গভীর মমতায়
মেয়েকে অনুভব করেন। চোখের জলে বুক ভাসান। ষাটোর্ধ্ব সাজেদার কান্নার কারণ
হঠাৎ দেখে বোঝার উপায় নেই। তাই কাছে গিয়ে জানতে চাই, ‘কাঁদছেন কেন, চাচি?’
কিছুক্ষণ থমকে থাকেন সাজেদা। তারপর হু হু করে আবেগ বেরিয়ে আসে। গত রোববার
সন্ধ্যায় সাভারের রানা প্লাজার স্থানে সাজেদার সঙ্গে কথা হয়। তিনি প্রথম
আলোকে বলেন, ‘মাইয়্যার লইগ্যা আসি। প্রত্যেক দিনই আইস্যা পড়ি। এই হানে আইলে
মনে হয়, মাইয়্যারে যেন কাছে পাইছি।’ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে
পড়ে। এতে সহস্রাধিক পোশাকশ্রমিক প্রাণ হারান। আহত হন হাজারো মানুষ। ওই
ঘটনায় সাজেদার মেয়ে খালেদাও প্রাণ হারান। তবে তাঁর লাশ পাওয়া যায়নি। তাই
মেয়ের টানে হরহামেশা রানা প্লাজার স্থানে ছুটে আসেন মা।মেয়ের সঙ্গে শেষ
স্মৃতিগুলো মনে করতে গিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যান সাজেদা। তারপর বলতে থাকেন,
ঘটনার দিন হরতাল ছিল।
![]() |
| রানা প্লাজার স্থানে এসে মেয়ে খালেদাকে অনুভব করেন মা সাজেদা। |
গরমটাও
খুব বেশি পড়েছিল। তাই খালেদা তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে রেখে কাজে যেতে
চাননি। কিন্তু রানা প্লাজায় থাকা কারখানা থেকে সকালে ফোন করে খালেদাকে
কাজের জন্য ডেকে নেওয়া হয়।সাজেদা জানান, তাঁর দুই মেয়ের মধ্যে খালেদা ছোট।
মিম নামে তাঁর একটি মেয়ে আছে। মিমের জন্মের পর খালেদার স্বামী ক্যানসারে
মারা যান। জীবিকার জন্য সাভারে আসেন খালেদা। চাকরি নেন রানা প্লাজায় থাকা
ফ্যানটম নামের পোশাক কারখানায়। রানা প্লাজা ধসে পড়লে খালেদার কয়েকজন সঙ্গী
বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। কিন্তু খালেদার খোঁজ মেলেনি। লাশও পাওয়া যায়নি।
সাজেদা আরও জানান, মিমের দায়িত্ব নিয়েছেন তার খালা কাকলী। তিনি (সাজেদা) বড়
মেয়ে কাকলীর সঙ্গে রানা প্লাজার পেছনের দিকের ডগরমুড়া এলাকায় থাকেন। মিম
স্কুলে যায়। সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সাজেদা বলেন, মা-বাবার জন্য মিমের মন
কাঁদে। সময়-অসময় তাঁদের কথা জানতে চায়। সাজেদার অভিযোগ, মেয়ের লাশ পাননি
বলে সরকারি সাহায্যও মেলেনি। তবে বিদেশি বায়ারদের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ
টাকা পেয়েছেন। সাজেদা বলেন, ‘এক লাখ ট্যাকায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মিমের
নামে জমি কিনছি। বাকি ট্যাকা ব্যাংকে রাখছি। ওইডাই ওর সম্বল।’


No comments:
Post a Comment