![]() |
| শিমলা |
ফোনের
ওপারে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন অভিনেত্রী শিমলা। কান্নার মাঝেই ফুঁপিয়ে
ফুঁপিয়ে তিনি যা বললেন, বোঝা গেল তাঁর পক্ষে গুছিয়ে কিছুই বলা সম্ভব না।
তাঁর কান্না শুনে মনে হলো তাঁকে যিনি হাত ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিয়ে
এসেছিলেন, তিনি নির্মাতা নন, তাঁর বাবাই যেন মারা গেছেন। দীর্ঘ রোগভোগের পর
আজ সোমবার সকালে ইন্তেকাল করেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি পরিচালক
শহীদুল ইসলাম খোকন। তাঁর হাত ধরেই ১৯৯৯ সালে চলচ্চিত্রে এসেছিলেন শিমলা।
প্রথম ছবি ‘ম্যাডাম ফুলি’ দিয়েই বাজিমাত করেন শিমলা। নাম-যশ-খ্যাতি সবই
পেয়ে যান এক ছবির মাধ্যমে। দীর্ঘ ১৭ বছরে আরও অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করলেও
এখনো বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে ‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবির শিমলা নামেই চেনেন। এ
ছবিতে অভিনয় করে অর্জন করে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। সকালে শহীদুল
ইসলাম খোকনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই শিমলার মন ভীষণ খারাপ। প্রথম
আলোর সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর কণ্ঠ জড়িয়ে আসছিল। ফোন ধরতেই শোনা গেল
কান্নার শব্দ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিমলা বলেন, ‘আমার আসলে মাথা কাজ করছে না।
কী বলব বুঝেও উঠতে পারছি না। তিনি নেই—এ কথা বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার
সারাটা শরীর অবশ হয়ে আসছে। তিনি শুধু আমাকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসেননি। তিনি
আমার বাবার মতোই একজন মানুষ। আমার মনে হচ্ছে, বাবা মারা গেছেন।’ চলচ্চিত্রে
আজ শিমলার যে অবস্থান তার পুরোটাই শহীদুল ইসলাম খোকনের কারণে উল্লেখ করে
শিমলা বলেন, ‘আমাকে হাত ধরেই তিনি চলচ্চিত্রে নিয়ে এসেছেন। সবকিছু ধরে ধরে
শিখিয়েছেন। এই জগতের কোনো কিছুই আমি জানতাম না। তিনি আমাকে জানিয়েছেন এবং
দেখিয়েছেন। চলচ্চিত্রে আমি যা কিছু হতে পেরেছি, সে শুধু তাঁর কারণেই।’
শিমলা আরও বলেন, ‘দেড় যুগে আমি কিন্তু অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছি। কিন্তু
এখনো আমাকে কোথাও দেখলে “ম্যাডাম ফুলি”র শিমলা বলে ডাকেন। একজন
অভিনয়শিল্পীর সার্থকতা এখানেই। খোকন ভাই, আমাকে সেই সার্থকতা এনে দিয়েছেন।
বলতে গেলে, তাঁকে নিয়ে অনেক কিছুই বলতে হবে। তার পরও তাঁকে নিয়ে বলা শেষ
হবে না। সবার কাছে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চাই।’

No comments:
Post a Comment