Saturday, April 23, 2016

আগুন নেভাতে বাইকে ছুটে চলা by মানসুরা হোসাইন

অগ্নিকাণ্ডের সময় যানজট এড়িয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে
ফায়ার সার্ভিস ব্যবহার করছে মোটরসাইকেল
লাল টুকটুকে মোটরবাইক। দুই পাশে দুটি সিলিন্ডার। একটিতে ২০ লিটার পানি, অন্যটিতে ২০ লিটার ফোম (কেমিক্যাল)। বাইকের পেছনে ১০০ ফুট পানির পাইপ পেঁচিয়ে রাখা। আরেক সিলিন্ডারে শুধু বাতাস। এ বাতাসে চাপ দিয়েই পানি ও ফোম দিয়ে বা পানি ও ফোমকে একসঙ্গে মিশিয়ে আগুন নেভানো হয়। সংকেতবাতির (বেকন লাইট) পাশাপাশি আছে সাইরেন বাজানোর ব্যবস্থা। জনগণের সঙ্গে কথা বলার জন্য আছে মাইক্রোফোন। সব মিলে এই বাইকের ওজন ৩০৫ কেজি। এই বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ফায়ারম্যানরা। কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে সবাই তাঁদের দেখেন। সাইরেনের শব্দ শুনে দ্রুত ছুটে যাওয়ার জন্য রাস্তাও ছেড়ে দেন। ফায়ারম্যানরা ছুটছেন আগুন নেভাতে।  রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় এই ফায়ারম্যানদের ছুটে যেতে দেখা মিলছে বেশ কয়েক মাস ধরে। চীন সরকারের অনুদান হিসেবে বাইকগুলো বাংলাদেশে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের যে ফায়ারম্যান মোটরবাইক চালাতে পারেন, তাঁদের এই নতুন বাইক চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন সারা দেশে ১৫০টি এ ধরনের মোটরবাইক আছে। রাজধানীতে প্রতিটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে আছে দুটো করে। বাসাবাড়িতে গ্যাসের চুলা, ইলেকট্রিক শর্টসার্কিট সার্কিট, গাড়ি বা মোটরবাইকে আগুন ধরে গেলে ফায়ারম্যানরা
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। আসাদগেটে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে তরুণ ফায়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মোটরবাইকের কাছে গিয়ে বাইকের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দেখাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আগুন লাগার পর দ্রুত এই বাইক নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে অনেকেই বলে, বাহ্ বাংলাদেশ তো আসলেই ডিজিটাল হয়ে গেছে। বাইক নিয়ে দ্রুত সরু গলি দিয়ে ছুটি। ফলে আগুন বেড়ে ওঠার আগেই বাগে আনতে পারি।’ এই ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (ইনচার্জ) আবু বকর বলেন, বর্তমানে শহরে যানজটের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি চট করে ঘটনাস্থলে যেতে পারে না। এখন বাইকগুলো সেই কাজটা সহজ করে দিচ্ছে। ফায়ারম্যান আবদুর রহিমের মতে, এই বাইক চালানোর জন্য কায়িক পরিশ্রম হয় অনেক বেশি। তাই তাঁদের বাইক চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি শরীরও ঠিক রাখতে হয়। কখন কোথায় আগুন লাগে—এ চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায় সারাক্ষণ। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, যেকোনো জায়গায় আগুন লাগলে খবর পাওয়ামাত্র বাইকগুলো নিয়ে ফায়ারম্যানরা বের হয়ে যান। আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার আগে ছোট থাকতেই তাঁরা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। এ বাইকে যে ধরনের ব্যবস্থাপনা থাকে, তাতে আগুন নেভাতে খুব বেশি পানির প্রয়োজন হয় না। তিনি জানালেন, আরও নতুন ধরনের ২৪টি মোটরবাইক মাঠে নামানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে।

No comments:

Post a Comment