![]() |
| বাঘ নেই। শূন্য পড়ে আছে খাঁচাটি |
রাজশাহীর
শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় বাঘ ও সিংহের
খাঁচা শূন্য। এভাবে এই চিড়িয়াখানার বেশির ভাগ খাঁচাই খালি। দর্শনীয়
পশুপাখি এখানে নেই বললেই চলে। সিংহের খাঁচায় রাখা হয়েছে একটি পেলিক্যান
পাখি। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অধীনে পরিচালিত চিড়িয়াখানাটি আধুনিকায়নের
জন্য ২০১০ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত
প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা দিয়ে সীমানাপ্রাচীর ও ভেতরে হাঁটার পথ
ছাড়াও বাঘ, ভালুক, সিংহ, বানর, গাধা ও হরিণের জন্য খাঁচা তৈরি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঘের নতুন খাঁচায় বাঘ নেই। খাঁচার ভেতরে
কর্মচারীরা তাঁদের বাইসাইকেল ও অন্যান্য জিনিসপত্র রেখেছেন। ১৯৯৭ সালের
জুনে ছয় বছর চার মাস বয়সের একটি বাঘ ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে রাজশাহী
চিড়িয়াখানায় আনা হয়। সেটির নাম দেওয়া হয়েছিল সম্রাট। বাঘটির কোনো সঙ্গী ছিল
না। ১২ বছর নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর দুপুরে সেটি মারা
যায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাঘটি পুরোনো খাঁচায় ছিল। আর এখন বাঘের জন্য
নতুন খাঁচা বানানো হয়েছে, কিন্তু বাঘ নেই। সরেজমিনে সিংহের খাঁচায় একটি
পেলিক্যান পাখি দেখা গেছে। আগে চিড়িয়াখানায় একটি সিংহ ও একটি সিংহী ছিল।
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল ১৪ বছর বয়সে সিংহী মারা যায়। তখনই সিংহের শারীরিক
অবস্থা খুব খারাপ ছিল। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর সেটিও মারা যায়। সেই থেকে খালি
ছিল খাঁচাটি। পরে এখানে পেলিক্যান পাখিটি রাখা হয়। কর্মচারীরা জানান, এখানে
উট ও হায়েনা ছিল, সেগুলোও মারা গেছে। ২২টি গরু ছিল, তা বিক্রি করে দেওয়া
হয়েছে। এদের খাঁচাও আর নেই। গত বছরের ২৩ এপ্রিল চিড়িয়াখানার পুরোনো খাঁচা
থেকে পালিয়ে যাওয়া অজগরটির আর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
![]() |
| সিংহের খাঁচায় ঠাঁই হয়েছে পেলিক্যান পাখিটির |
এখন
পুরোনো খাঁচাতেই আরেকটি ছোট অজগর রাখা হয়েছে। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে
একটি মেছো বাঘ খাঁচার ফাঁক গলে পালিয়ে যায়। পরে নগরের হড়গ্রাম এলাকার লোকজন
এটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। এর আগে আরেকটি মেছো বাঘ অন্ধ হয়ে মারা যায়। অবশ্য
এখন লোকালয়ে ধরা পড়া দুটি মেছো বাঘ এনে পুরোনো খাঁচায় রাখা হয়েছে। এ
ছাড়া পুরোনো খাঁচায় একটি সাদা ময়ূর ও স্থানীয় কিছু পশুপাখি রাখা আছে।
বানর, গাধা ও হরিণের জন্য তৈরি নতুন খাঁচায় কয়েকটি বানর, গাধা ও হরিণ
রয়েছে। ভালুকের জন্য একসঙ্গে সংযুক্ত দুটি নতুন খাঁচার একটি খালি। অপরটিতে
একটি ভালুক রয়েছে। চিড়িয়াখানায় এখন একমাত্র দর্শনীয় প্রাণী বলতে এই ভালুকই।
২০১০ সালে চিড়িয়াখানা আধুনিকায়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও নতুন খাঁচাগুলো
যেদিকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে, সেদিকে কোনো গাছ লাগানো হয়নি। পরিবেশটাও
দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত করা হয়নি। ভেতরে ঘাস বড় হয়ে জঙ্গলের মতো হয়ে
গেছে। ১২ এপ্রিল নাটোরের সিংড়া উপজেলা থেকে পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায়
এসেছিলেন প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে
চাকরি করেন। তিনি বললেন, ঢাকা চিড়িয়াখানা সারা দিন ঘুরে শেষ করা যায় না।
এখানে মানুষ ২০ টাকা দর্শনীর বিনিময়ে কেন ঢুকবে? এত সুন্দর করে চিড়িয়াখানায়
বেড়া দেওয়া হয়েছে, ফটক বানানো হয়েছে। অথচ ভেতরে কিছু নেই। যোগাযোগ করলে
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ২০১০ সালের
প্রকল্পটির সব কাজ এখনো শেষ হয়নি। খাঁচা ও ল্যান্ডস্কেপের কাজ বাকি রয়েছে।
শেষ করতে আরও অন্তত পাঁচ কোটি টাকার প্রয়োজন। নতুন প্রাণী নিয়ে আসার
ব্যাপারে তিনি বলেন, সরাসরি বিদেশ থেকে কোনো দর্শনীয় প্রাণী নিয়ে আসার মতো
তহবিল তাঁদের নেই। ঢাকা চিড়িয়াখানায় থাকলে সেখান থেকে তাঁরা আনতে পারেন।
অতীতে এভাবেই কিছু প্রাণী আনা হয়েছিল।


No comments:
Post a Comment