![]() |
| কিছুদিন আগেই কার্পেটিং করা হয়েছে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনে আয়ুর্বেদিক কলেজের সামনের এই সড়কটি। সেই সড়কের মাঝ বরাবর আবার খোঁড়া হয়েছে |
মিরপুর
১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশনের প্রধান ও সংযোগ সড়কে তিনটি অংশে রাস্তা
খোঁড়া হয়েছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেই এই সড়ক কার্পেটিং করা হয়েছিল। আবার
ভালো থাকা সত্ত্বেও সড়ক বিভাজকের (ডিভাইডার) ব্লক খুলে ফেলা হচ্ছে। গতকাল
বুধবার সকালে দেখা গেল, ১৩ নম্বর সেকশনে আয়ুর্বেদিক কলেজের বিপরীত দিকে
সড়কের মাঝখানে কাটা। স্থানীয় দোকানিরা বলেন, এই সড়ক কার্পেটিং করা হয়েছে
কিছুদিন আগে। গতকাল সেখানে কয়েকজন শ্রমিককে দেখা গেল রাস্তা খুঁড়তে।
দোকানিরা জানান, তাঁরা তত্ত্বাবধায়কের (সুপারভাইজার) কাছে জানতে
চেয়েছিলেন। জবাব এসেছে, সরকারি কাজ, তাই কথা বলার কিছু নেই। একটি ফাস্টফুড
দোকানের ব্যবস্থাপক নিজের নাম প্রকাশ না বলে বললেন, দীর্ঘদিন এই সড়ক
চলাচলের অনুপযোগী ছিল, যখন-তখন রিকশা-অটোরিকশা উল্টে যেত, জাতীয় সংসদ
নির্বাচনের আগে মেরামত করা হয়। সম্প্রতি কার্পেটিংও করা হয়। কিন্তু এক
মাসের মধ্যে ভালো রাস্তা কাটা হয়। পরে দায়সারাভাবে কিছু ইট-বালু ফেলা
হয়েছে। গাড়ি চললে ধুলাবালিতে দোকানে বসা যায় না। মিরপুর ১৩ নম্বরে ন্যাম
ভবনের উত্তরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ১ নম্বর ভবনের পাশের সড়কেও (প্রধান
সড়কের সঙ্গে যুক্ত) রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। খোঁড়া স্থানে উঁচু হয়ে আছে
ইটের খণ্ড। সেখানে একটি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক বলেন, ওয়াসা তিন দিন আগে
এখানে রাস্তা খুঁড়ে পাইপ ঢুকিয়েছে। খোঁড়ার পর সেই রাস্তায় ইট-বালু ভরে
দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হয়। চলতে গেলেই পথচারীরা হোঁচট খান। জাতীয় গৃহায়ণ
কর্তৃপক্ষের ১ নম্বর ভবনের বাসিন্দা আবদুর নূর বলেন, গত ৪ মার্চ সন্ধ্যায়
দূর থেকে রাস্তায় কালো ধোঁয়া আর আগুন দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলেন বাসিন্দারা।
তাঁরা ভেবেছিলেন, সেখানে আগুন লেগেছে। পরে বুঝতে পারেন, রাস্তায় আগুন
জ্বেলে পিচ জাল দেওয়া হচ্ছে। শুধু ভালো সড়ক কাটা নয়, সড়ক বিভাজকের ভালো
ব্লক খুলে রাস্তায় ফেলে রাখার দৃশ্য দেখা যায়, ১০ নম্বরে সিএনজি স্টেশনের
কাছে। সিএনজি স্টেশনের কর্মী ছাড়াও স্থানীয় তিনজন দোকানি বলেন, বিভাজকের
ব্লকগুলো বেশি দিন আগে বসানো হয়নি। এখন কেন আবার পাল্টানো হচ্ছে, তাঁরা
বুঝতে পারছেন না। রাস্তায় যানজট হচ্ছে। যোগাযোগ করা হলে ঢাকা উত্তর সিটি
করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কুদরতউল্লাহ প্রথম
আলোকে বলেন, কেন বিভাজকের ভালো ব্লক খোলা হচ্ছে, খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
রাস্তা খোঁড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই
কোম্পানি (ডেসকো) এবং ঢাকা ওয়াসা রাস্তা খুঁড়েছে। কাজ শেষ হলেও সংস্থা
দুটি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তাই খোঁড়া সড়ক
পাকাপোক্তভাবে মেরামত করা যাচ্ছে না। ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি
এম কামরুল আলম চৌধুরী বলেন, ঢাকা ওয়াসা যেখানেই রাস্তা খুঁড়ে মেরামতের
জন্য সিটি করপোরেশনকে অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখে। মেরামতকাজ শেষ হয়েছে কি না,
অনেক সময় ঠিকাদার তা জানতে দেরি করেন।

No comments:
Post a Comment