Tuesday, April 12, 2016

ঝামেলা ছাড়াই শেষ আসাম নির্বাচন by তরুণ চক্রবর্তী

ভোট দিলেন আসামের ‘ভাড়াটিয়া’ তথা
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং
শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো উত্তর-পূর্ব ভারতে আসামের বিধানসভার ভোট গ্রহণ পর্ব। তবে সোমবার সরভোগ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ পর্ব চলার সময় নিরাপত্তারক্ষীদের লাঠির আঘাতে এক বৃদ্ধ প্রাণ হারান। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় লাঠি চালিয়েছেন আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচন কমিশন ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ১২৬ সদস্যের রাজ্য বিধানসভার ৬১টি আসনে সোমবার আর কোনো রক্তপাতের খবর পাওয়া যায়নি। তীব্র উত্তেজনা আর বিক্ষিপ্ত গোলমালের খবর থাকলেও আসামের ভোট গ্রহণ পর্বের শেষ দিনেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়। দ্বিতীয় দফাতেও ৮০ শতাংশের বেশি ভোট দানের আশা করছে নির্বাচন কমিশন। এদিন ভারতীয় সময় সকাল সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হলেও ভোর পাঁচটা থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটাররা লাইন দিতে শুরু করেন। তেমনি ভোট গ্রহণের সময় শেষ হলেও অনেক জায়গায়ই রয়েছে ভোটারদের লাইন। তাই সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন দপ্তর ভোটের হার বলতে পারেনি। বেলা একটার সময় পাওয়া খবর অনুযায়ী, ৫৫ শতাংশেরও বেশি ভোট সেই সময় পড়ে। এদিন নির্বাচনী প্রথা ভেঙে ভোট চলাকালেই সংবাদ সম্মেলন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈ। নির্বাচন কমিশন থেকে তাঁকে নিষেধ করা হলেও তিনি তা শোনেননি। এ নিয়ে বিতর্কের শুরু হয়েছে। খোদ নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়ে গণমাধ্যমকে নির্দেশ দিয়েছে সেই সংবাদ সম্মেলন সম্প্রচার না করার। তরুণ গগৈকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বিজেপি। দলের সাবেক রাজ্য সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যের মতে, কমিশনের নির্দেশ অবমাননার জন্য তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্তের দাবি, আইন মেনেই সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশন এখনো অবশ্য নতুন করে কোনো নির্দেশ দেয়নি। এই দুটি ঘটনা ছাড়া বড় কোনো গোলমালের খবর পাওয়া যায়নি। রাজ্যের ১২ হাজার ৬৯৯টি বুথে ১ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৩১ জন ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। মোট প্রার্থী ছিলেন ৫২৫ জন। এঁদের মধ্যে ৪৪ জন নারী। অন্যদের সঙ্গে ভোট দিতে দিল্লি থেকে উড়ে এসেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আসাম থেকে নির্বাচিত ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য। শুধু তা-ই নয়, কাগজেকলমে আসামের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়ার বাড়ির এখনো ভাড়াটিয়া। কড়া নিরাপত্তার বলয়ে গুয়াহাটির দিশপুরে তাঁকেও ভোট দিতে দেখা যায়। ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হতেই বিজেপির দাবি, তাদের জোটই সরকার গড়ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিদ্ধার্থ বলেন, রাজ্য পরিবর্তনের হাওয়া স্পষ্ট। আবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, দ্বিতীয় দফায় কম করে ৩০টি আসন পেয়ে তাঁরাই সরকার গড়বেন। প্রসঙ্গত, প্রথম দফার ভোটে ৬৫টির মধ্যে ৪৩টি আসন পাওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। এআইইউডিএফের দাবি, এবারের ভোটে তাঁদের হাতেই থাকবে সরকার গঠনের চাবি। কিন্তু কারা জিতবেন, সেটা জানা যাবে ১৯ মে। এখন চলবে জল্পনাকল্পনা। এই জল্পনাকল্পনার মধ্যেই গোটা আসাম কাল মঙ্গলবার থেকেই ফের মেতে উঠতে চলেছে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব বিহুর ছন্দে।

No comments:

Post a Comment