![]() |
| তৈরি পোশাকশিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন (মাঝে) বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান l প্রথম আলো |
প্রধানমন্ত্রীর
নির্দেশ সত্ত্বেও পোশাক কারখানায় নতুন গ্যাস-সংযোগ, পুরোনো লাইন
স্থানান্তর ও লোড বাড়ানো হচ্ছে না। গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ
কম থাকায় কারখানার যন্ত্রপাতি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ ছাড়া
আশুলিয়া, গাজীপুর, কোনাবাড়ী, সাভার, রূপগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায় দিনে
পাঁচ-সাত ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। আবার বিদ্যুতের নতুন সংযোগ ও লাইন
স্থানান্তরে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হন। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন
বিজিএমইএর শীর্ষস্থানীয় নেতারা গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ
করেন। এতে তাঁরা তৈরি পোশাকশিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময়
নেতারা পোশাক খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ওয়ানস্টপ
সেল গঠন করার ওপর জোর দেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর কার্যালয়ের
সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির
সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ফারুক
হাসান, এস এম মান্নান, মোহাম্মদ নাছির, মাহমুদ হাসান খান ও ফেরদৌস পারভেজ
এবং পরিচালক এ এন এম সাইফুদ্দিন, মিরান আলী ও আশিকুর রহমান। বক্তব্যের
শুরুতেই বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক
প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে পোশাকশিল্পকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।
তিনি
বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য পোশাকপণ্যগুলোর মূল্য ৪০ শতাংশ
কমেছে। আর প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। গত চার বছরে
ডলারের বিপরীতে স্থানীয় টাকার বিনিময় হার ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। টাকার
এই অতিমূল্যায়ন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির ফলে প্রচ্ছন্নভাবে পোশাক কারখানার
প্রকৃত আয় কমছে। এরপর স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা প্রসঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের
কথা বলেন বিজিএমইএর সভাপতি। তিনি পোশাকশিল্পের ৬৩ কারখানার গ্যাসের সংযোগ
স্থানান্তর, ৭৩ কারখানার গ্যাসের লোড বৃদ্ধি ও ৬৪ কারখানা নতুন সংযোগের
জন্য আবেদন করেও তা পাচ্ছে না—এমন তথ্য দিয়ে বলেন, ‘আমরা জানি, গ্যাসের
স্বল্পতা আছে। সরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও সরবরাহের
কথা ভাবছে। তবে বিষয়গুলো শিগগিরই পরিষ্কার হওয়া উচিত, যাতে উদ্যোক্তারা
বিদ্যুৎ নাকি গ্যাসভিত্তিক কারখানা গড়ে তুলবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে
পারেন।
এ জন্য জ্বালানি নীতি প্রয়োজন।’
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘কারখানায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ডিজেলচালিত
জেনারেটর দিয়ে আমাদের সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন,
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদের হারও বেশি থাকায় শিল্পে
কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসছে না। ফলে অর্থনীতিতে যথেষ্ট কর্মসংস্থান হচ্ছে না।
কর্মসংস্থানের জন্য হলেও পোশাকশিল্প খাতে গ্যাস-বিদ্যুৎ দেওয়া প্রয়োজন। গত
তিন বছরে ৬১৮টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। নতুন করে ৩১৯টি কারখানা
বন্ধ হওয়ার পথে আছে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় টিকতে না পেরে কারখানাগুলোর এই
পরিণতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিজিএমইএর সভাপতি। তবে নতুন করে প্রায় ২৫০টি
কারখানা উৎপাদনে এসেছে বলেও জানান তিনি। শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে
রাখা এবং ২০২১ সালে দেশের পোশাক রপ্তানি পাঁচ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যেতে
আসন্ন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নে সরকারের
দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিজিএমইএর সভাপতি। তিনি পোশাকশিল্পের জন্য ১০ শতাংশ
হ্রাসকৃত হারে কর আরোপের সুবিধা আগামী পাঁচ বছরের জন্য বৃদ্ধির প্রস্তাব
করেন। এ ছাড়া রপ্তানিমুখী এই শিল্পের উৎসে কর হার এখনকার মতো শূন্য দশমিক
৩০ শতাংশ ও পোশাকশিল্পের সহযোগী খাতগুলোকে মূল্য সংযোজন কর বা মূসকমুক্ত
রাখা এবং অগ্নিনির্বাপক ও আধুনিক বিদ্যুৎসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির আমদানি
শুল্কমুক্ত করার দাবি জানান বিজিএমইএর সভাপতি।

No comments:
Post a Comment