![]() |
| সেঞ্চুরির পর হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। কাল ফতুল্লায় l প্রথম আলো |
হ্যামিল্টন
মাসাকাদজাকে নিয়ে একটু হতাশই ছিল কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। পরপর তিন ম্যাচে
দলের প্রধান ব্যাটসম্যান উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এলে যে কারোরই হতাশ হওয়ার কথা।
তিন ম্যাচের দুটিতেই জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন উইকেটে সেট হওয়ার
পর। কলাবাগান হেরেছিল ওই তিন ম্যাচেই। কাল চতুর্থ ম্যাচে এসে নিজের ও দলের
ভাগ্য পাল্টালেন মাসাকাদজা। ফতুল্লায় তাঁর দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে
ক্রিকেট কোচিং স্কুলকে (সিসিএস) হারিয়ে লিগে প্রথম জয়ও তুলে নিয়েছে মাশরাফি
বিন মুর্তজার কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। দলের ৪৯ রানের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন
অধিনায়ক নিজেও। ৭ ওভার বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি অসাধারণ তিনটি
ক্যাচও নিয়েছেন মাশরাফি। এগিয়ে থাকবে প্রথম ক্যাচটি। ২৭১ রানের লক্ষ্যে
ব্যাট করছিল সিসিএস। অমিত মজুমদার ও পিনাক ঘোষ ৪ ওভারে ১৯ রান তুলে ফেলার
পর আক্রমণে আসেন মাশরাফি। তৃতীয় বলেই উইকেট, বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ
একটা রিটার্ন ক্যাচ নেন অমিতের। কলাবাগানের প্রথম জয়ে বড় ভূমিকা আরেক বড়
নাম আবদুর রাজ্জাকেরও। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে সবচেয়ে
বেশি উইকেটের মালিক ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তবে দিন শেষে
ম্যাচসেরার পুরস্কারটা উঠেছে মাসাকাদজার হাতেই। দিনটা যে শেষ পর্যন্ত তাঁর
হলো, সে কারণে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ধন্যবাদ দিতে পারেন
প্রতিপক্ষ দলের অমিত মজুমদারকে। অমিতের সাহায্য না পেলে যে ফিফটিই হয় না
তাঁর। ঘটনাটা কলাবাগানের ইনিংসের ২০তম ওভারের। রাজিন সালেহর করা ওই ওভারের
পঞ্চম বলটিতে স্কয়ার লেগে সহজ একটা ক্যাচ তুলেছিলেন মাসাকাদজা। ফিল্ডার
অমিত শুধু ক্যাচটিই নয়, ফেলে দিলেন ম্যাচটিকেই। মাসাকাদজার নামের পাশে তখন
৩৮ রান। এরপর আরও ৭৭ রান যোগ করলেন ৫৫ বলে ফিফটি ও ৯৯ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়া
এই ডানহাতি। সব মিলিয়ে তাঁর ১০৪ বলের ১১৫ রানের ইনিংসে ছিল ১০ চার ও ডিপ
স্কয়ার লেগ দিয়ে মারা বিশাল দুটি ছক্কা। নিজে সেঞ্চুরি পেয়েছেন, দল জিতেছে।
তাতে যেন মাথার ওপর থেকে বড় একটা চাপও সরে গেল মাসাকাদজার। ম্যান অব দ্য
ম্যাচের পুরস্কার নিতে এসে বললেন সে কথাই, ‘আগের ম্যাচগুলোতে ভালো শুরু
করেও বেশি দূর যেতে পারিনি। টিম মিটিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমাকে
শেষ পর্যন্ত খেলে যেতে বলা হয়। আমি আজ সেই চেষ্টাই করেছি।’ চতুর্থ ম্যাচে
প্রথম জয় পেয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানি থেকে ১০ নম্বরে উঠে এসেছে মাশরাফির দল।

No comments:
Post a Comment