![]() |
| এনামুল হক-নাঈম ইসলাম জুনিয়রের হাসিই বলে দিচ্ছে, ম্যাচে তাঁরা উজ্জ্বল ছিলেন কতটা! কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুই স্পিনারের অসাধারণ বোলিংয়ে গাজী গ্রুপকে অনায়াসে হারিয়ে দিয়েছে মোহামেডান l শামসুল হক |
ঢাকা
প্রিমিয়ার লিগে কাল মোহামেডান-গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ম্যাচের দিকেই সবার
আগ্রহ ছিল বেশি। দুই দলই শক্তির পাল্লায় কাছাকাছি, আগের তিন ম্যাচ শেষে
দুদলের পয়েন্টও ছিল সমান। সব মিলিয়ে জমজমাট এক ম্যাচেরই ইঙ্গিত মিলছিল। হা
হতোম্মি! রোমাঞ্চ দূরে থাক, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল কোনো
প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। গাজী গ্রুপকে হেসেখেলে ৭ উইকেটে হারিয়েছে
মোহামেডান। এই জয়ে চতুর্থ রাউন্ড শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে
উঠে এসেছে মুশফিকের দল। শুরুটা মন্দ হয়নি গাজী গ্রুপের। এনামুল হক-শামসুর
রহমানের ওপেনিং জুটি তুলেছিল ৩৭ রান। এরপরই নাঈম ইসলাম জুনিয়রের ঘূর্ণিতে
খেই হারিয়ে ফেলল তারা। গাজী গ্রুপের টপ অর্ডার একাই ধসিয়ে দিয়েছেন
মোহামেডানের এই বাঁহাতি স্পিনার। ৩৭ থেকে ৮২—৪৫ রানের ব্যবধানে হারানো
গাজী গ্রুপের ৫ উইকেটের ৪টিই নিয়েছেন তিনি। নাঈম যদি শুরু করেন, উইকেট
শিকারের অভিযানটি শেষ করেছেন এনামুল হক জুনিয়র। শেষ ৫ উইকেটের ৪টিই নিয়েছেন
এনামুল। দুই ‘জুনিয়রে’ই দিশেহারা গাজী গ্রুপ! বাকি ২ উইকেট নিয়েছেন
মোহামেডানের আরেক স্পিনার হাবিবুর রহমান। মোহামেডানের স্পিনারদের কৃতিত্ব
তো আছেই, ১৪১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পেছনে গাজী গ্রুপের দায়িত্বহীন ব্যাটিংও
কম দায়ী নয়। তবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই জেগে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন অলক
কাপালি। হাফ সেঞ্চুরি থেকে ২ রান দূরে থেকে দলের শেষ উইকেট হিসেবে আউট
হয়েছেন গাজী গ্রুপের অধিনায়ক। ১৩ রানে পড়েছে প্রথম উইকেট। ১৪২ রান তাড়া
করতে নেমে এটা কি আর বাধা! মোটেই সমস্যা হয়নি মোহামেডানের। তৃতীয়
উইকেট-জুটিতে হেলেদুলেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়েছেন উপুল থারাঙ্গা ও সৈকত আলী।
স্ট্রোক প্লে দিয়ে মাঝেমধ্যে বিনোদনও জুগিয়েছেন দুই ব্যাটসম্যান। তবে
থারাঙ্গার একটু আফসোস হতে পারে হাফ সেঞ্চুরি না করতে পারায়।
ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সে মোহামেডানের ব্যাটিং কোচ আফতাব আহমেদ ভীষণ
খুশি, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। আজও (কাল) ভালো
ব্যাটিং করেছে।’ গাজী গ্রুপের বিপক্ষে মোহামেডানের এই বড় জয়ে বোলারদের
অবদানই অবশ্য বেশি। আফতাব সেটি স্বীকার করেও প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন
ব্যাটসম্যানদের, ‘বোলাররা ভালো করেছে। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা ভালো না
করলে আজ (কাল) বড় জয় কি পেতাম?’ ম্যাচ শেষের খানিক পর রানিং শুরু করলেন
লিগে ধারাবাহিক ভালো করে যাওয়া মুশফিকুর রহিম। কাল যদিও ব্যাটিংয়েই নামতে
হয়নি তাঁকে। মোহামেডান অধিনায়কের লম্বা দৌড় দেখে মনে হতে পারে এই
সাফল্যেও তৃপ্ত নন তিনি; তাঁকে ও তাঁর দলকে যেতে হবে বহুদূর।

No comments:
Post a Comment