![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে স্টিভেন স্পিলবার্গ l ছবি: প্রথম আলো |
ধূসর
নীলচে আর দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত এক জোড়া চোখ। মুখে স্মিত হাসি। পরনে সাদা
শার্ট, কালো কোট। সঙ্গে মানানসই টাই আর স্টাইলিশ মাফলার। গোল চশমার ফাঁক
দিয়ে যখন তাকান, মনে হয় কত দিনের চেনা! মানুষটির নাম স্টিভেন স্পিলবার্গ।
বিশ্ব সিনেমায় হলিউডি রাজত্বের অন্যতম পুরোধা। প্রায় ৪০ বছর ধরে বিমোহিত
করে রেখেছেন সারা দুনিয়ার দর্শককে। বিশ্ব সিনেমার ইতিহাস তাঁর চেয়ে
প্রভাবশালী আর খ্যাতিমান নির্মাতার দেখা পেয়েছে খুব কমই। বিশ্ব চলচ্চিত্রের
সেই কিংবদন্তি সামনে। আগের দুদিন বিশ্বের তাবৎ প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের
চাপে কপাল খুলছিল না। কিন্তু এবার সব মিলিয়ে দুই ঘণ্টার অপেক্ষায় কাঙ্ক্ষিত
সাড়া। মিলল প্রশ্ন করার অনুমতি। ‘বাংলাদেশ থেকে এসেছি।’ শুনে টেবিলের
ওপারে বসা ৬৯ বছর বয়সী মুখটির মায়াভরা হাসিটা কি একটু প্রশস্ত হলো? একটু
খেয়াল করে দেখার চেষ্টা করলেন আমাকে। সুযোগ বুঝে ছুড়ে দিলাম প্রশ্নটা,
‘বিশ্ব সিনেমার ইতিহাস তৈরি করেছেন আপনি। আপনার বিখ্যাত ছবির নাম বলে শেষ
করা যাবে না। সেই আপনি এখনো একের পর এক অসাধারণ ছবি তৈরি করে চলেছেন,
আপনার প্রধান অনুপ্রেরণা কী? কীভাবে আপনি এখনো দ্য বিএফজিরমতো অসাধারণ সব
ছবি বানিয়ে চলেছেন? খানিক নীরবতা। স্পিলবার্গ কি জবাব দেবেন? হ্যাঁ, ভাগ্য
সুপ্রসন্ন। তিনি বলতে শুরু করলেন। ‘ধন্যবাদ। আমি শুধু ভালো একটা গল্প
খুঁজি। আমাদের সবার বেলাতেই এটা সত্যি। আমি নিজে এই বিএফজি (রোয়াল্ড ডালের
গল্প) আমার বাচ্চাদের পড়ে শুনিয়েছি। আমি ছিলাম সেই বইয়ের, যাকে বলে,
স্টোরি টেলার, মানে গল্প শোনানোর লোক। এই ছবির জন্য আমি খুব বেশি সময়
নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছি এমন নয়। এখনো মনে আছে, আমার বাচ্চারা এই গল্প কতটা
বেশি পছন্দ করেছিল। ওদের ভালো লাগা দেখে আমার মনে হয়েছে, এই গল্পটা আমার
হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলে। আমার মনে হয়েছে, এই গল্পটাকে আমি আরও এক ধাপ এগিয়ে
নেওয়ার চেষ্টা করতে পারি।’ লম্বা সময় নিয়ে উত্তর শেষ করলেন স্পিলবার্গ। মনে
হলো ফুরফুরে মেজাজেই আছেন জুরাসিক পার্ক-এর স্রষ্টা। অতএব দ্বিতীয়
প্রশ্ন। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন, এই পৃথিবীরই সমান্তরাল কিংবা
ভিন্নমাত্রার আরেকটা পৃথিবী থাকার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। যদি আপনার ইটি
ছবির মতো সত্যি সত্যি আরেকটা গ্রহ থাকে? আপনি কি মনে করেন, সেই গ্রহে
আরেকজন স্পিলবার্গ আছেন?
কানায় কানায় পূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এবার হাসির রোল উঠল। স্পিলবার্গ নিজেও হেসে ফেললেন। হাসিমুখেই বললেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ। অবশ্যই। আর সে বাস করে বিজারো নামের গ্রহে।’ বলেই মজার একটা ভঙ্গি করলেন স্পিলবার্গ। আবারও হাসির রোল বয়ে গেল গোটা ঘরে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে কেন দ্য বিএফজিরমতোবড় বাজেটের হলিউডি বাণিজ্যিক ছবি—সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। জবাব হতে পারে একটাই—ছবির নির্মাতার নাম স্টিভেন অ্যালান স্পিলবার্গ। মনে রাখতে হবে, এই উৎসবে শুধু নিজের ছবি নিয়ে নয়, বিচারক হিসেবেও হাজির ছিলেন এই মহা প্রভাবশালী নির্মাতা-প্রযোজক। সেই ১৯৮২ সালে ইটি দিয়ে সাড়া ফেলেছিলেন দুনিয়াজুড়ে। পরবর্তীকালে একের পর এক বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে গেছেন এই নির্মাতা। বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, অভিযান, যুদ্ধ, মানবিক আবেদন—কত বিচিত্র ধাঁচের ছবিই না করেছেন তিনি! জস, শিন্ডলার্স লিস্ট, জুরাসিক পার্ক, সেভিং প্রাইভেট রায়ান, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, ইন্ডিয়ানা জোনস—কোনটা ছেড়ে কোনটার নাম বলা যায়? স্পিলবার্গ মানেই বক্স অফিসে তুফান। দুনিয়াজোড়া সাড়া। সেই স্পিলবার্গের উপস্থিতিতেই কাল সারা দিন সরগরম ছিল বিশ্ব চলচ্চিত্রের মহা মিলনমেলা। দৈত্য-দানোর দেশে সোফি গভীর রাত লন্ডনে। ঘুমিয়ে পড়েছে সবাই। শুধু ঘুম নেই সোফি নামের ছোট্ট মেয়েটার চোখে। এতিমখানার ছোট্ট বিছানা থেকে নেমে সোফি গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যায় জানালার কাছে। কত অজানা-অশরীরী ঘুরে বেড়াচ্ছে রাতের অন্ধকারে! বাইরে তাকিয়ে অজানা ভয়ে কেঁপে ওঠে সোফি। আর তখনই... একটা ছায়া পড়ে সোফির গায়ে। বিকট একটা দৈত্য এসে দাঁড়ায় সোফির সামনে। সোফিকে সে চোখের পলকে তুলে নিয়ে যায় দৈত্য-দানোর দেশে। তারপর? জানতে হলে দেখতে হবে স্টিভেন স্পিলবার্গের দ্য বিএফজি।রোয়াল্ড ডালের কল্পকাহিনি অবলম্বনে তৈরি এই ছবি নিয়েই কাল শনিবার উৎসবে হাজির হয়েছেন এই নির্মাতা। এবার উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নেওয়া তাঁর দ্য বিএফজি ছবিটিরউদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়েছে গতকালই।
কানায় কানায় পূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এবার হাসির রোল উঠল। স্পিলবার্গ নিজেও হেসে ফেললেন। হাসিমুখেই বললেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ। অবশ্যই। আর সে বাস করে বিজারো নামের গ্রহে।’ বলেই মজার একটা ভঙ্গি করলেন স্পিলবার্গ। আবারও হাসির রোল বয়ে গেল গোটা ঘরে। কান চলচ্চিত্র উৎসবে কেন দ্য বিএফজিরমতোবড় বাজেটের হলিউডি বাণিজ্যিক ছবি—সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। জবাব হতে পারে একটাই—ছবির নির্মাতার নাম স্টিভেন অ্যালান স্পিলবার্গ। মনে রাখতে হবে, এই উৎসবে শুধু নিজের ছবি নিয়ে নয়, বিচারক হিসেবেও হাজির ছিলেন এই মহা প্রভাবশালী নির্মাতা-প্রযোজক। সেই ১৯৮২ সালে ইটি দিয়ে সাড়া ফেলেছিলেন দুনিয়াজুড়ে। পরবর্তীকালে একের পর এক বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে গেছেন এই নির্মাতা। বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, অভিযান, যুদ্ধ, মানবিক আবেদন—কত বিচিত্র ধাঁচের ছবিই না করেছেন তিনি! জস, শিন্ডলার্স লিস্ট, জুরাসিক পার্ক, সেভিং প্রাইভেট রায়ান, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, ইন্ডিয়ানা জোনস—কোনটা ছেড়ে কোনটার নাম বলা যায়? স্পিলবার্গ মানেই বক্স অফিসে তুফান। দুনিয়াজোড়া সাড়া। সেই স্পিলবার্গের উপস্থিতিতেই কাল সারা দিন সরগরম ছিল বিশ্ব চলচ্চিত্রের মহা মিলনমেলা। দৈত্য-দানোর দেশে সোফি গভীর রাত লন্ডনে। ঘুমিয়ে পড়েছে সবাই। শুধু ঘুম নেই সোফি নামের ছোট্ট মেয়েটার চোখে। এতিমখানার ছোট্ট বিছানা থেকে নেমে সোফি গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যায় জানালার কাছে। কত অজানা-অশরীরী ঘুরে বেড়াচ্ছে রাতের অন্ধকারে! বাইরে তাকিয়ে অজানা ভয়ে কেঁপে ওঠে সোফি। আর তখনই... একটা ছায়া পড়ে সোফির গায়ে। বিকট একটা দৈত্য এসে দাঁড়ায় সোফির সামনে। সোফিকে সে চোখের পলকে তুলে নিয়ে যায় দৈত্য-দানোর দেশে। তারপর? জানতে হলে দেখতে হবে স্টিভেন স্পিলবার্গের দ্য বিএফজি।রোয়াল্ড ডালের কল্পকাহিনি অবলম্বনে তৈরি এই ছবি নিয়েই কাল শনিবার উৎসবে হাজির হয়েছেন এই নির্মাতা। এবার উৎসবের অফিশিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নেওয়া তাঁর দ্য বিএফজি ছবিটিরউদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়েছে গতকালই।

No comments:
Post a Comment