![]() |
| নরেন্দ্র মোদি |
ভারতের
শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির দুই শীর্ষ নেতা ঘটা করে প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া সত্ত্বেও বিতর্কের অবসান
ঘটল না। কারণ, আম আদমি পার্টিও জানিয়ে দিল, বিজেপি নেতারা যে তথ্য দাখিল
করেছেন, তা জাল। এএপি পার্টি বলেছে, নম্বরপত্রে ও সনদে মোদির নামের বানানের
মিল নেই। একটি নম্বরপত্রে ‘মোদি’র ইংরেজি বানান ‘এম ও ডি ওয়াই’, অন্য
একটিতে ‘এম ও ডি আই’। লোকসভা নির্বাচনে হলফনামায় নরেন্দ্র মোদি
জানিয়েছিলেন, তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও গুজরাট
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেছেন। এ নিয়ে তথ্য জানার অধিকার আইনে কেউ
কেউ প্রশ্ন তুললেও দিল্লি ও গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য দিতে অস্বীকার করে।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দেশের মুখ্য
তথ্য কমিশনারকে (সিআইসি) চিঠি লিখে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন। সেই চিঠির
পরই সিআইসি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কে ডিগ্রি-সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে
সাহায্যের অনুরোধ জানান। আজ সোমবার দুপুরে বিজেপির সদর দপ্তরে দলীয় সভাপতি
অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সাংবাদিকদের কাছে মোদির
ডিগ্রি ও মার্কশিটের কপি তুলে দিয়ে আম আদমি পার্টিকে একহাত নেন। দিল্লি
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের প্রতিলিপিতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৭৮ সালে তিনি
তৃতীয় বিভাগে বিএ পাস করেছেন। আর গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৮৩
সালে প্রথম বিভাগে এমএ পাস করেছেন। এই দুই সার্টিফিকেটের সঙ্গে মোদির
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কশিটের কপিও সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়ে অমিত
শাহ বলেন, কেজরিওয়াল শুধু রাজনীতির মানই নিচে নামাননি, দেশেরও মানহানি
ঘটিয়েছেন। অমিত শাহ ও অরুণ জেটলি বলেন, দেশবাসীর সঙ্গে এই মিথ্যাচার করার
জন্য দেশবাসীর কাছে কেজরিওয়ালের ক্ষমা চাওয়া উচিত। বিজেপির সংবাদ
সম্মেলনের এক ঘণ্টার মধ্যেই আম আদমি পার্টি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডেকে বলে,
বিজেপি মোদির যে ডিগ্রি পেশ করেছে, তা জাল। আম আদমি পার্টির নেতা সাবেক
সাংবাদিক আশুতোষ বলেন, বিজেপির পেশ করা তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, নম্বরপত্রে
পরীক্ষার্থী হিসেবে যে নাম রয়েছে, মোদির সনদের সঙ্গে তার মিল নেই। আশুতোষ
দেখান, একটি নম্বরপত্রের নাম ‘নরেন্দ্র কুমার দামোদর দাস মোদি’, একটিতে
‘মোদি’র ইংরেজি বানান ‘এম ও ডি ওয়াই’, অন্য একটিতে ‘এম ও ডি আই’। আশুতোষের
দাবি, নম্বরপত্র ও ডিগ্রিতে কখনো দুই ধরনের নাম হয় না। তিনি বলেন, ‘শাহ ও
জেটলি খুব চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছেন। অমিত শাহ
ভগবান নন। যেকোনো ডিগ্রি দেখিয়ে তা সত্য বলে দাবি করলেই দেশবাসী তা মেনে
নেবে না।’ আশুতোষ বলেন, নাম বদল করতে হলে হলফনামা দিতে হয়। বিজেপি বরং
মোদির সেই হলফনামা দেখাক। বিজেপির পেশ করা নথি অনুযায়ী, মোদি ১৯৭৫ সালে
‘করেসপনডেন্ট কোর্সে’ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস কোর্সে পার্ট
ওয়ানে অকৃতকার্য হন। ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালেও পাস করতে পারেননি। ১৯৭৮ সালে
তৃতীয় বিভাগে পাস করেন। ১২০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পান ৪৮৯। তিনবার
অকৃতকার্য হওয়ার কারণ হিসেবে বিজেপি নেতারা বলেন, সে সময় দেশে জরুরি
অবস্থা চলছিল। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মোদির নজর ও দায়দায়িত্ব ছিল
ভিন্ন। পড়াশোনা ছিল গৌণ।

No comments:
Post a Comment