Monday, May 30, 2016

মুস্তাফিজদের অধিনায়কের বাজিতেই বাজিমাৎ!

যখন খারাপ খেলছিলাম, এই সমর্থকরাই আমাদের পাশে ছিলেন। বেঙ্গালুরুর এই জনগণই আমাদের হয়ে গালা ফাটিয়েছিল। আগে দু’বার ফাইনাল খেললেও গন্ডিটা টপকাতে পারিনি। এবার এই সমর্থকদের জন্যই ছবিটা বদলাতে চাই।’‌ ফাইনাল শুরু হতে তখনও অনেকটা সময় বাকি। তার আগেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কে বিরাট কোহলির একটা পোস্টটা ক্রমশ ভাইরাল হয়ে উঠতে শুরু করল। ঘরের মাঠে কোহলি, ডি’ভিলিয়ার্সদের জন্যই যে সমর্থকদের সিংহভাগ গলা ফাটাবে সেটা একরকম প্রত্যাশিতই ছিল। রোবারের চিন্নাস্বামীতে তার অন্যথাও হল না। কিন্তু তাতেও কাজ হলো না। সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েও তিনবারের বারও আইপিএল জেতা হলো না বেঙ্গালুরুর। সানরাইজার্সের কাছে হারতে হলো ৮ রানে। ১৪ ওভারের মাথায় শ্রীনাথ অরবিন্দের বলে ডেভিড ওয়ার্নার (‌৩৮ বলে ৬৯)‌ আউট হতেই জনতার শব্দ ডেসিবেলের মাত্রা ছাড়িয়েছিল।
শিখর ধাওয়ানকে নিয়ে পরিচিত ছন্দেই শুরুটা করেছিলেন ওয়ার্নার। পাওয়ার প্লে–র ওভারে গড়ে দশের ওপর রান তুললেন। ধাওয়ান ২৮ করে সাজঘরে ফিরলেও স্বমেজাজে ছিলেন ওয়ার্নার। ২৪ বলে নিজের অর্ধশতরান করলেন। যখন আউট হলেন ততক্ষণে দলকে বড় রানের মঞ্চ গড়ে দিয়েছিলেন। যেটা মাতানোর সুযোগ ছিল যুবরাজদের সামনে। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সেভাবে শুরুও করেছিলেন যুবি। কিন্তু ২৩ বলে ৩৮ রানের বেশি ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেন না। তিন নম্বরে নামা হেনরিকসও (৪) ব্যর্থ। রান পাননি দীপক হুডাও (৩)। এদিন ব্যাটিং অর্ডারে অনেকটা নিচের দিকে নামিয়েছিলেন নমন ওঝাকে। অহেতুক ঝুঁকি নিতে গিয়ে তিনিও রান আউট হলেন। টস জিতলেই প্রথমে বিপক্ষকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে দাও। এবারের আই পি এলে এটা যেন প্রায় অঘোষিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বিরাট কোহলির মাথাতেও যে সেই চিন্তাই প্রতিফলিত হচ্ছিল, নিজেই সেকথা স্বীকার করে নিয়ে বলে গেলেন, ‘যেনতেন প্রকারেণ প্রথমে বল করতে চাইছিলাম। নকআউট পরিস্থিতিতে আমরা এখানে চার ম্যাচের চারটি জিতেছিলাম। যা টুর্নামেন্টের টার্নিং পয়েন্ট। এদিনও সেই খেলাটাই খেলতে চাই।’ অথচ বেঙ্গালুরুতে টস জিতে প্রথম ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন সানরাইজার্স অধিনায়ক। যুক্তি, ‘আমাদের প্রধান শক্তি দলের বোলিং আক্রমণ। ওদের রান তাড়া করা। জেতার জন্য নিজেদের সেরটাই দিতে হবে। এটা তারই অঙ্গ।’ দেখা গেল, দিনের শেষে সেটাই ছিল তুরুপের তাস। অসি ক্রিকেটারের বাজি অদ্ভূতভাবে বাজিটা মেরে দিলেন। বড় রান তাড়া করতে হবে জেনে শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল বাঙ্গালোর। যিনি এই আইপিএলের একটি ম্যাচ বাদে গোটা টুর্নামেন্টেই নিষ্প্রভ ছিলেন, সেই ক্রিস গেইলকে দেখা গেল অন্য মেজাজে। যাকে সামনে পাচ্ছিলেন, ওড়াচ্ছিলেন। ছয় ছাড়া কিছু হচ্ছিলই না।
উল্টোদিকে নিজের মতোই ছিলেন কোহলি। গেইলকে যথাযথ সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এগারো ওভারের মাথায় গেইলের হাত তেকে নিস্তার দিলেন কাটিং। কানায় লেগে থার্ডম্যানে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ নিলেন বিপুল শর্মা। ম্যাচে ফেরার সেই শুরু হায়দরাবাদের। আর সি বি–র তারকা ব্যাটসম্যানরা এর পর রীতিমতো আসা–যাওয়া করতে লাগলেন। এ বি ডি’‌ভিলিয়ার্স (‌৫), কে এল রাহুল (‌১১)‌, শেন ওয়াটসন (‌১১)‌, যেদিন খেলার দরকার সেদিন সবাই চূড়ান্ত ব্যর্থ। মাঝখান থেকে, বারিন্দার স্রানের স্লোয়ারে বোকা বনে ফিরে গেলেন কোহলিও (‌৫৪)‌। ব্যস!‌ ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় ওখানেই। শেষ পর্যন্ত ৮ রান পিছনে থামতে বাধ্য হলেন কোহলিরা।‌

No comments:

Post a Comment