বিজেপির
বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইকে সংসদ চত্বর থেকে বের করে রাজপথে নিয়ে এলেন
কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। গতকাল শুক্রবার সকালে সমাবেশ-বিষয়ক আইন
অমান্য করে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তিনি গ্রেপ্তার বরণও করলেন। তবে তার
আগে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘকে (আরএসএস) সাবধান করে দিয়ে সোনিয়া
বললেন, ‘আমাদের ভয় দেখাবেন না। ভুলেও ভাববেন না কংগ্রেস দুর্বল।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হতে আমরা দেব না।’ অগাস্টা
ওয়েস্টল্যান্ড হেলিকপ্টার বেচাকেনায় ঘুষ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপির সঙ্গে
কংগ্রেসের যে চাপান-উতোর শুরু হয়েছে, সোনিয়ার হুঁশিয়ারি তারই অঙ্গ।
গতকাল সকালে সংসদ ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে যন্তর মন্তরে কংগ্রেসের পক্ষ
থেকে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী ছাড়াও
সেই সমাবেশে যোগ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, মল্লিকার্জুন
খাগড়ে, গোলাম নবী আজাদ, আহমেদ প্যাটেল, অম্বিকা সোনিসহ দলের অধিকাংশ
শীর্ষ নেতা। সমাবেশের মূল স্লোগান ছিল ‘গণতন্ত্র রক্ষা’। সোনিয়া, মনমোহন
সিংয়ের ভাষণেও ছিল গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষার সংকল্প।
সোনিয়া বলেন, ‘নাগপুর থেকে আরএসএসের ইশারায় মোদি সরকার চালিত হচ্ছে।
সরকারের সুরে যারা সুর মেলাচ্ছে না তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। মানহানি করা
হচ্ছে। আমরা এটা হতে দেব না।’ ‘চপারকাণ্ড’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা
হেলিকপ্টার কেলেঙ্কারির সরাসরি উল্লেখ না করে বিজেপির উদ্দেশে সোনিয়া
বলেন, ‘শাসকদের এই বার্তাই দিতে চাই যে তোমাদের দিন শেষ হয়ে এসেছে। এভাবে
চললে মানুষই তাদের উচিত শিক্ষা দেবে।’ সমাবেশ শেষে সোনিয়া, মনমোহন,
রাহুলসহ কংগ্রেসের নেতারা সরাসরি বিজেপি সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সংসদ ভবন
অভিযান শুরু করেন। সংসদ মার্গে ছিল ব্যাপক পুলিশি পাহারা। নিয়ম অনুযায়ী ওই
এলাকায় ২৪ ঘণ্টাই ১৪৪ ধারা জারি থাকে। এ আইন অমান্যের কারণে পুলিশ
সোনিয়াদের গ্রেপ্তার করে সংসদ ভবন থানায় নিয়ে যায়। ৩৯ বছর আগে তাঁর
শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীকে গ্রেপ্তার করে এই থানাতেই নিয়ে আসা হয়েছিল। ১০
মিনিটের মধ্যেই অবশ্য আটক নেতাদের ব্যক্তিগত জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। সংসদ
মার্গ থেকে কংগ্রেসের নেতারা সবাই চলে যান সংসদ ভবনে। সেখানেও শুরু হয়
বিজেপি-কংগ্রেস তীব্র বাদানুবাদ। লোকসভায় চপারকাণ্ড নিয়ে বলতে ওঠেন
প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর। তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল কংগ্রেস।
পারিকর বলেন, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধানসহ যাঁদের সিবিআই জেরা করছে, তাঁরা
সবাই ক্ষুদ্র মানুষ। গঙ্গা দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবাহে তাঁরা হাত ধুয়েছেন।
গঙ্গার প্রবাহ কোন খাতে গড়িয়েছে সরকার সেটাই তদন্ত করছে। কংগ্রেসিদের
তীব্র বিরোধিতার মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো কারও নাম করিনি।
আপনারা তা হলে কেন উত্তেজিত? তার মানে আপনারা জানেন, গঙ্গার প্রবাহ কোন
দিকে বয়েছিল।’ এই গোলমালের মধ্যে কংগ্রেস সদস্যরা একসময় ওয়াকআউট করেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment