Sunday, May 29, 2016

ফালুজা ঘিরে রেখেছে ইরাকি সেনারা, ভিতরে অমানবিক পরিস্থিতি

আইসিলের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফালুজা শহর ঘিরে রেখেছে ইরাকি সেনারা। এ শহরটি আইসিলের দখল থেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইরাকি সেনারা তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথম দফায় তারা সফল হয়েছে। ইরাকের সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। ইরাকি সেনা ও আইসিল যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি বিনিময়ের মধ্যে ওই শহর ছেড়ে পালিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এ সময় উভয় পক্ষের গুলি বিনিময়ের মধ্যে পড়ে অনেকে মারা গেছেন। আবার আহত হয়েছেন অনেকে। শুক্রবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমের এ শহরে দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় শুরু হয়। এতে দ্রুত সেখানে সৃষ্টি হয় এক অমানবীয় দৃশ্যের। শনিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার রাসুল ইয়াহিয়া বলেছেন, ২০১৪ সালে ফালুজা আইসিলের নিয়ন্ত্রণে যায়। তারপর শনিবার ইরাকি সেনারা ফালুজার খুব কাছে পৌঁছে যায়। তিনি বলেন, প্রথম দফা অভিযান শেষ। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি। আমাদের সেনারা ফালুজা শহরকে ঘিরে রেখেছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা শহরটির বাইরের দিক থেকে অনেক অধিবাসীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে শহরের ভিতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। আমরা শহরটির বেসামরিক লোকজনের খুব কাছাকাছি। শত্রুরা শহরের বাইরের এলাকা থেকে সরে গেছে। তারা অবস্থান নিয়েছে ফালুজার ভিতরে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনীর কয়েক হাজার ইরাকি নিরাপত্তা রক্ষী গত সপ্তাহে ফালুজা দখলে আক্রমণ শুরু করে। এতে ব্যবহার করা হয় বিমান বাহিনী। জাতিসংঘ বলছে, গত সপ্তাহে প্রায় ৮০০ মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছে। তারা বেশির ভাগই ফালুজার বাইরের দিকের। এসব এলাকায় আইসিলের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল।
ফলে শহরটির ভিতরের পরিস্থিতি ক্রমশ সঙ্কটময় হয়ে উঠছে। এমন কথা বলেছেন নরওয়ের শরণার্থী বিষয়ক কাউন্সিল ইরাকের পরিচালক নাসর মুফলাহি। ইরাকের সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, বেসামরিক লোকজনকে বেরিয়ে আসার জন্য নিরাপদ করিডোর বের করা হবে। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, আইসিল শহরটির প্রধান প্রধান সড়কে চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে। এর ফলে শহরের ভিতরের মানুষ বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। উপজাতি বিষয়ক একটি কাউন্সিলের সদস্য শেখ আল-হামালি বলেছেন, শিয়া মিলিশিয়ারা আল কারমা এলাকায় বাড়ি ও মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।  তিনি বলেন, ঐতিহাসিক আল কারমাহ ও ইব্রাহিম আলী হাসোন মসজিদ বিস্ফোরক ব্যবহার করে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। জাতিবিদ্বেষী সেøাগান দেয়া হয়েছে। বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক ব্যবহার্য্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে তারা। তবে ইরাকের সেনাবাহিনী এ অভিযোগ ‘বানোয়াট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার ইয়াহিয়া বলেন, মসজিদে হামলা চালানো আমাদের কাজ নয়।
যখন কোন মসজিদ সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করে তখন আমাদেরকে এ বিষয়টি দেখতে হয়। প্রতিটি বিজয়ের পরেই আমরা এমন বাড়িঘর লুট ও পুড়িয়ে দেয়ার বানোয়াট অভিযোগ শুনি। এসব অভিযোগ তারাই করে যারা আইসিলকে সমর্থন করে ও আমাদের বিজয়কে খাট করে দেখে। উল্লেখ্য, ফালুজা হলো সুন্নি অধ্যুষিত শহর। বলা হয়, এ শহরটি আইসিলের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তারা স্বাগত জানিয়েছে। কারণ, তারা মনে করে শিয়া প্রধান সরকার তাদেরকে একপেশে করে রেখেছে। স্থানীয়রা তা সত্ত্বেও বলছেন, আইসিলের নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও সেখানকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বাগদাদে অবস্থানকারী মার্কিন কর্নেল স্টিভ ওয়ারেন বলেন, গত চারদিন ধরে আইসিল যোদ্ধাদের অবস্থান স্থলের ওপর ২০টি হামলা করা হয়েছে। এতে আমরা ফালুজায় আইসিল কমান্ডার মেহের আল বিলাবি সহ কমপক্ষে ৭০ শত্রু যোদ্ধাকে হত্যা করতে পেরেছি।

No comments:

Post a Comment