Wednesday, May 4, 2016

চালের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে

চালের দাম কমায় এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আরও কমেছে। মাসওয়ারি ভিত্তিতে সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ হয়েছে। গত মার্চ ও ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬৫ এবং ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এতে তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে থাকল। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি ও জাতীয় মজুরি সূচক হিসাবে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গত মাসে চালের দাম কমেছে। এটাই মূল্যস্ফীতি কমার মূল কারণ। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গড় মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাস (জুলাই-এপ্রিল) পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ০০৮ শতাংশে নেমে এসেছে। গত বছরের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এরপর মূল্যস্ফীতি কমতে কমতে ফেব্রুয়ারি মাসে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ হয়। ৪০ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচে নামে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো আছে। এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিবিএস আরও বলছে, ডাল, মাছ-মাংস, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে বেড়েছে দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। একই সময়ে পরিধেয় বস্ত্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বাড়িভাড়া, আসবাব ও গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। বিবিএসের হিসাবে, এপ্রিল মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে মূল্যস্ফীতি কমেছে। এ মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মার্চ মাসে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মার্চ মাসে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বিবিএসের প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে গ্রামের চেয়ে শহরের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি। এপ্রিল মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ; গ্রামে ছিল এ হার ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে এ চাপ মার্চ মাসের চেয়ে কম। এদিকে মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়েছে। বিবিএসের জাতীয় মজুরি হার সূচকে দেখা গেছে, মার্চ মাসে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এপ্রিল মাসে এর হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ১৩ শতাংশে। মজুরি বৃদ্ধির হার কমলেও তা মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়ছে না। কেননা, সার্বিক মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি। এটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সক্ষমতা নির্দেশক বলে বিসিএস জানায়।

No comments:

Post a Comment