Wednesday, May 11, 2016

‘দাদু’ চলছেন অলিম্পিকে, দেখতে নয় খেলতে!

কে বলবে তিনি বুড়ো! ফাইল ছবি
‘দুঃখিত, এটি শুধু অ্যাথলেটদের জন্য!’ বাসে পা রাখতে না রাখতেই চালকের মন্তব্য। জবাবটা তৈরিই ছিল মার্ক টডের মুখে, ‘আমি অ্যাথলেট!’ মুখে মুচকি হাসি ঝুলিয়ে বিস্মিত চালককে গলায় ঝোলানো কার্ডটি দেখিয়ে ধীরে–সুস্থে আসন নিলেন টড।  বেচার চালকের দোষ নেই। পঞ্চাশোর্ধ্ব কেউ নিজেকে অ্যাথলেট বলে দাবি করলেও অবিশ্বাস্য ঠেকেই। যে বয়সে সবাই পেনশন ফান্ড নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। পায়ের ওপর পা তুলে জগৎ–সংসারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কথা যখন, রাস্তায় বাচ্চাদের হট্টগোল শুনে ভ্রুকুটি তোলার কথা ‘এ কী আপদ!’ ভেবে, সেখানে এই লোক কিনা অলিম্পিকের মতো এক মহাযজ্ঞের প্রতিযোগী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে চাচ্ছেন! এই ঘটনা চার বছর আগে, লন্ডন অলিম্পিকের সময়কার। রিও অলিম্পিকেও এই দৃশ্যের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ৬০ বছর বয়সী একজন অলিম্পিয়ানের জন্য এটাই তো স্বাভাবিক। এ তো আর প্রতিদিনকার ঘটনা নয়। মার্ক টডের মতো লোকের দেখাও খুব সহজে মেলে না। এই বয়সে এসেও ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তো যা তা কথা নয়!  তবে অলিম্পিকে অংশগ্রহণটাও তাঁর জন্য নতুন কিছু না। এ নিয়ে সাতবার অংশ নিচ্ছেন অলিম্পিকে। শুরুটা আজ থেকে ৩২ বছর আগে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে, ১৯৮৪ সালে। সেবার ইভেন্টিংয়ে (ঘোড়ার খেলা) সোনা জিতেছিলেন। পরের আসরেও সফল সিউল অলিম্পিকে ব্যক্তিগত সোনা ও দলীয় ব্রোঞ্জ পেয়েছেন। বার্সেলোনা অলিম্পিকেও (১৯৯২) দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন নিউজিল্যান্ডের এই অলিম্পিয়ান। দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে আটলান্টা অলিম্পিকে যাওয়া হয়নি। ঘরের কাছের সিডনি অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেই অবসরে চলে গিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, অনেক হয়েছে।
কিন্তু যাঁর জন্মই হয়েছে অলিম্পিয়ান হতে, তাঁর কী এভাবে থামলে চলে? বেইজিং অলিম্পিকের কিছুদিন আগেই ঠিক করলেন ফিরবেন। আবারও ঘোড়ায় সওয়ার হওয়া, আবারও অলিম্পিকে টড। প্রত্যাবর্তনটি স্মরণীয় হয়নি খুব একটা তবে দেশকে সম্মানজনক একটি অবস্থান ঠিকই এনে দিয়েছিলেন। ইতিহাস গড়লেন লন্ডন অলিম্পিকে, দলীয় ব্রোঞ্জ পদক জিতে। ১৯৮৪-২০১২ অলিম্পিকে প্রথম ও সর্বশেষ পদক জয়ে ২৮ বছরের ব্যবধান, অলিম্পিক ইতিহাস এর আগে শুধু একবারই দেখেছে। সে রেকর্ড শুধুই নিজের করতে চান টড, রিও অলিম্পিকেও পদক জিতে ব্যবধানটি ৩২-এ নিতে চান। মজার বিষয়, এবার ব্রাজিল ইকোয়েস্ট্রিয়ান দলের ট্রেনারও ছিলেন তিনি! নিজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামবেন টড। তবে এ ক্ষেত্রে টডই একমাত্র ব্যতিক্রম ভাবলে ভুল হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক ট্রায়ালে গত ফেব্রুয়ারিতে অংশ নিয়েছিলেন বিল গুইলফয়ল। এই টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের বয়স? মাত্র ৯৩ বছর! গত লন্ডন অলিম্পিকের জন্যও ট্রায়াল দিয়েছিলেন গুইলফয়ল। সেবার ব্যর্থ হয়েও হাল ছাড়েননি, এবারও চেষ্টা করেছেন অলিম্পিয়ান হওয়ার।  লন্ডন অলিম্পিকেই জাপানের হয়ে ৭১ বছর বয়সে ড্রেসেজে (ঘোড়ার খেলা) অংশ নিয়েছিলেন হিরোসি হোকেতসু। তিনি রিও অলিম্পিকেও ফেরার ইচ্ছা জানিয়েছেন জোরেশোরেই। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বয়সী অলিম্পিয়ান হবেন তিনিই। তবে পদক জয়ী অলিম্পিয়ান হিসেবে এগিয়ে আছেন সুইডিশ শ্যুটার অস্কার শন। ৭২ বছর বয়সে ১৯২০ সালে অ্যান্টওয়ার্প অলিম্পিকে রুপা জিতেছিলেন শন । এই শনই ১৯১২ স্টকহোম অলিম্পিকে ৬৪ বছর ২৮০ দিনে সোনা জিতেছিলেন। প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি বয়সে সোনা জেতার রেকর্ডটি এখনো তাঁর। টড ও হোকেতসু কী পারবেন শনের রেকর্ড ভাঙতে?  দেখাই যাক না! সূত্রঃ রয়টার্স, অলিম্পিক ডট অর্গ নিউজিল্যান্ড।

No comments:

Post a Comment