Tuesday, May 10, 2016

আ.লীগ প্রার্থীর ‘নির্বাচনী ভোজ’

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউপি নির্বাচনে
মনোনয়নপত্র জমাদান শেষে পাঁচ পীরতলা মাদ্রাসা মাঠে
নির্বাচনী ভোজের আয়োজন করেন আওয়ামী লীগ
মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। ভোজের আগে
চলছে রান্নার কাজ। গতকাল দুপুরে
তোলা ছবি l প্রথম আলো
মাদ্রাসা মাঠের এক পাশে জ্বলছে সাতটি চুলা। বড় বড় হাঁড়িতে চলছে ছয় হাজার কর্মী-সমর্থকের জন্য রান্না। ব্যস্ত ১৫ জন বাবুর্চি। জবাই হয়েছে পাঁচটি গরু ও একটি খাসি। চলছে ‘নির্বাচনী ভোজ’-এর আয়োজন।মাদ্রাসা মাঠের অপর পাশে নির্বাচনী সমাবেশে সমবেত হয়েছেন কয়েক হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক। মাইকে চলছে কান ফাটানো বক্তব্য। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর বক্তব্য শেষে শ খানেক মোটরসাইল নিয়ে শুরু হয় মিছিল-শোভাযাত্রা। সামনে নৌকা মার্কার ফেস্টুন। শোভাযাত্রায় প্রার্থীকে বহনের জন্য নৌকার আদলে ফুল-বেলুন, রঙিন কাপড় আর নৌকা প্রতীকের লিফলেট-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো টমটম গাড়ি। এভাবে তিন কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদরে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর নেতা-কর্মীরা যোগ দেন ‘নির্বাচনী ভোজে’। এ ভোজের আয়োজন ও নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুরে। উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ফারুকের পক্ষে এ আয়োজনের কারণে গতকাল সোমবার পাঁচ পীরতলা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধ ছিল। তবে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বেলাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমাবেশ, রান্না ও খাবার আয়োজন করা হলেও পাঠদান বন্ধ ছিল না। এ বিষয়ে জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ইউনুচ আলী প্রথম আলোকে বলেন, মিছিল, শোভাযাত্রা, সমাবেশ বা নেতা-কর্মীর বহর নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল বেআইনি ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। নেতা-কর্মীর জন্য ভোজের আয়োজন করাও অপরাধ। প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ লিফলেট, ফেস্টুন, পোস্টার ছাপিয়ে বা প্রতীকের আদলে কোনো কিছু টাঙিয়ে প্রচারণা চালালে সেটাও নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী। আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবশ্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কোনো ‘নির্বাচনী ভোজ নয়, ৫০-৬০ জন মুরব্বির জন্য দুপুরে একটু ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’ গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলা সদর থেকে খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন সদরে যাওয়ার পথে খলিশাকান্দি পণ্ডিতপাড়া তিনমাথা মোড়ে চোখে পড়ে ঢাউস আকারের টাঙানো একটি রঙিন নৌকা। লাল, কালো, হলুদ কাপড় দিয়ে তৈরি এ নৌকার চারপাশে প্যাঁচানো রঙিন বৈদ্যুতিক বাতি। সামনে খলিশাকান্দি মাদারতলা-ডা. মতিন সড়কের মোড়ে টাঙানো আরেকটি অভিন্ন আকৃতির নৌকা। এ নৌকাতেও ভোটারের যাতে চোখ পড়ে, সে জন্য তা জড়ানো হয়েছে রঙিন বৈদ্যুতিক বাতিতে। এই বাতিতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খুঁটি থেকে। আর মাদ্রাসামাঠে রান্নায় ব্যস্ত বাবুর্চিরা। প্রধান বাবুর্চি আনসার আলী বলেন, ১৮ মণ চালের ভাত আর ৫ মণ গরুর মাংসের সঙ্গে ১৫ মণ আলু দিয়ে তরকারি রান্না চলছে। পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষকে খাওয়ানো হবে। উপজেলা সদরে রওনার আগে সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি বলেন, ‘নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই গণজোয়ার ধরে রাখতে হবে। এখানে প্রতিপক্ষের লোকজনও থাকতে পারে। যে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে পারে। সবাই এখানে ফিরে আসবেন। খাবারের ব্যবস্থা আছে।’

No comments:

Post a Comment