প্রধানমন্ত্রীর
পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ে একাউন্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের
রিজার্ভ চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিকেই আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে নাটক
সাজানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী
আহমেদ। একইসঙ্গে ইসরাইলের সঙ্গে বিএনপির নয়, আওয়ামী লীগের সম্পর্ক রয়েছে
অভিযোগ করেন তিনি। আজ সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়েজিত এক
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের
একাউন্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি এখন মানুষের
মুখে মুখে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভারত বাংলাদেশ ভ্রাতৃতম বন্ধুদেশ। আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের নিবিড়
সর্ম্পক রয়েছে। বিনাভোটে নির্বাচিত বর্তমান শাসকদলকে তারা সমর্থন দিয়ে
আসছে। সেখানে গিয়ে আসলাম চৌধুরী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়ডন্ত্র করবে এটা
হাস্যকর। তিনি বলেন, সরকারের পতন শেষ প্রান্তে পৌছেছে। সেখান থেকে
উত্তোরণে ভিন্ন কৌশলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এখন তারা ইসরাইল,
ইসরাইল বলে বেড়াচ্ছে। ভারতে বসে যদি বিএনপির কোন নেতা সরকার উৎখাতের
ষড়যন্ত্রে গোপন বৈঠক করে থাকেন তাহলে তো ঘন্টায় ঘন্টায় তাদের সেই ছবি
ফেসবুকে পোস্ট করা হতো না।যা ইতিহাসের একটা বিরল ঘটনা। বিএনপির এই নেতা
বলেন, ২০১৪ সালের জুন মাসে ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংদেশের রাষ্ট্রদূত জন গমেজ
রাষ্ট্রীয় পতাকার নিচে বসে যদি ইসলাইলের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ডিনার করেছিলো
তাতে এটাই কি প্রমাণ করে না আওয়ামী লীগই মোসাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছে।
ভোটারবিহীন সরকারের বেআইনি বন্দুকের শাসন জারির কারণেই ইউপি নির্বাচনগুলোতে
বিনাভোটে জয়ের হিড়িক পড়ে গেছে মন্তব্য করে রিজভী আহমেদ বলেন, পঞ্চম ধাপেও
চেয়ারম্যান পদে ৪২ জন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়
নির্বাচিত হয়েছেন। কারণ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীরা
এলাকাছাড়া, মনোনয়ন ক্রয় ও জমাদানে বাধা, জমা দেয়ার পরও জোর করে অপহরণের
মাধ্যমে অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রত্যাহারে বাধ্য করা, ভোটের দিন ভোটারদেরকে
ভোটকেন্দ্রে যেতে হুমকি প্রদানের মতো অভিনব নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলা
হয়েছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়জয়কার। ব্যারিস্টার রফিকুল
ইসলাম মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নিন্দা জানিয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, সরকারের
ঘৃণ্য চক্রান্তেই একজন খ্যাতিমান আইনজীবীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা গণতন্ত্রে অনুমোদিত বিষয়। কিন্তু বর্তমান
ভোটারবিহীন সরকার তাদের বিরোধিতার কথা শুনলেই চমকে উঠে। কারণ তারা জনগণ
কর্তৃক নির্বাচিত নয়। সেজন্য সমালোচনা শুনলেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। সরকারের
বিভিন্ন অনাচার আর অপকীর্তির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই রফিকুল ইসলাম মিয়া
রোষানলে পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলাই চক্রান্তমূলক। অবিলম্বে
তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি। বিএনপি চেয়ারপাসরনের বিরুদ্ধে
মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশ চলাকালে পটুয়াখালী জেলা
বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন, যুব বিষয়ক
সম্পাদক এ্যাডভোকেট তপন, সাবেক কমিশনার লতিফুর রহমানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা
জানিয়ে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন রিজভী আহমেদ। এদিকে গাজীপুর,
কুমিল্লা, ময়মনসিংহ সদর ও নান্দাইল, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বরিশাল, খুলনা
সদরে বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের হামলার নিন্দা তিনি। সংবাদ
সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির
খোকন, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment