Tuesday, May 17, 2016

ভিয়েতনামের ব্যাংকেও হানা দিয়েছিল হ্যাকাররা

হ্যাকাররা শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্টই হ্যাক করেনি। তারা ভিয়েতনামের একটি ব্যাংকে হ্যাক করে ১১ লাখ ডলার চুরির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভিয়েতনামের ওই ব্যাংকটি হ্যাকারদের  সেই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এতে বলা হয়, হ্যানয়ভিত্তিক তিয়েন ফং ব্যাংকের (টিপি ব্যাংক) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওই অর্থ চুরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। রোববার এ কথা স্বীকার করেছে ব্যাংকটি। তারা বলেছে, গত বছরের শেষ চতুর্ভাগে তারা সন্দেহজনক রিকুয়েস্ট পায় বৈশ্বিক আন্তঃব্যাংক ম্যাসেজিং সংস্থা সুইফট থেকে। তাতে ১১ লাখ ডলার স্থানান্তরের কথা বলা হয়। টিপি ব্যাংক বলেছে, সঙ্গে সঙ্গে তারা ওই অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। এ জন্য তারা দ্রুততার সঙ্গে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে। ফলে ব্যাংকটির কোনো ক্ষতি হয়নি। এতে সুইফট সিস্টেমের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। প্রভাব ফেলেনি ব্যাংক ও এর কাস্টমারদের মধ্যে। সুইফট ব্যাংক ম্যাসেজিং সিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ পাওয়ার জন্য বাইরে থেকে তৎপরতা চালানো হয়েছে। তবে তারা এক্ষেত্রে সার্ভিস প্রভাইডারের নাম প্রকাশ করেনি। টিপি ব্যাংক বলেছে, তারা এক্ষেত্রে বাইরে থেকে চুক্তি করা একটি সেবাদানকারীকে ভাড়া করেছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে তারা। এরপর ব্যবহার করা হয়েছে একটি নতুন সুইচিং সিস্টেম, যা অধিকতর নিরাপদ। এর মাধ্যমে তারা এখন সুইফটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সুইফট। বৃহস্পতিবার তারা বলে যে, বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে টার্গেট করা হয়েছিল মেলওয়্যার ব্যবহার করে। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে যেভাবে হানা দেয়া হয়েছিল এটাও ছিল একই রকম। তবে ভিয়েতনামের টিপি ব্যাংকে হানা দেয়ার বিষয়ে সুইফটকে কবে, কখন সতর্ক করা হয়েছিল তাও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। এমনকি তারা তাদের অন্য ক্লায়েন্টদের একই রকম হামলা থেকে রক্ষায় কী পদক্ষেপ নিয়েছিল তাও জানা যায়নি। উল্লেখ্য, টিপি ব্যাংকে গত বছর হামলা হওয়ার বেশ পরে বাংলাদেশের টাকা চুরি করে হ্যাকাররা। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের এ যাবতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সাইবার হামলা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের অ্যাকাউন্টে। সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তরের বার্তা পাঠানো হয়। এতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু শ্রীলঙ্কার দূরদর্শিতায় তার বড় একটি অঙ্ক রক্ষা পায়। বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার স্থানান্তর হয়ে যায় ফিলিপাইনে। সেখানে ক্যাসিনো, ক্যাসিনো এজেন্টদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়ে যায় সেই অর্থ। এর মধ্যে কিছু অর্থ লাপাত্তা হয়।

No comments:

Post a Comment