Thursday, May 26, 2016

কমে আসছে হিলারি ও ট্রাম্পের ব্যবধান

হিলারি ও ট্রাম্প
সর্বশেষ জনমত জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কার্যত সমানে সমান। তবে প্রেসিডেন্ট ওবামার ক্রমবর্ধমান ‘ইতিবাচক’ সমর্থন হিলারিকে নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। এনবিসি ও ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের সর্বশেষ জরিপে, হিলারি ও ট্রাম্পের সমর্থন যথাক্রমে ৪৬ শতাংশ ও ৪৩ শতাংশ। সিবিএস ও নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার অন্য একটি জরিপে অবশ্য হিলারি ও ট্রাম্পের মধ্যে ব্যবধান কিঞ্চিৎ বেশি। ৪৭ শতাংশ ও ৪১ শতাংশ। এক মাস আগেও হিলারি ট্রাম্পের তুলনায় ২০ শতাংশ বা এর বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। হিলারির সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান কমে আসার মূল কারণ হিসেবে জরিপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প ইতিমধ্যে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে নিজের মনোনয়ন কার্যত নিশ্চিত করেছেন। হিলারি এখনো সেই প্রাইমারি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বার্নি স্যান্ডার্সের দৃঢ়তার কারণে বাম ঘেঁষা অনেক ভোটার হিলারির ব্যাপারে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত দিন প্রাইমারি নির্বাচন অব্যাহত ছিল, রিপাবলিকান প্রার্থীরা নিজেরাই ট্রাম্পকে নানাভাবে পর্যুদস্ত করছিল। তাঁদের সবাই একে একে নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে ট্রাম্প স্বাভাবিকভাবেই দলের ভেতর নিজের অবস্থান আগের চেয়ে অধিক সংহত করতে পেরেছেন। এক স্পিকার পল রায়ান ছাড়া কার্যত অন্য সব নেতা-নেত্রী তাঁর প্রতি সমর্থনের কথা বলেছেন; সেই সমর্থনের ভাষা যত উত্তাপহীন হোক না কেন। একজন খ্যাতনামা জরিপ বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, বর্তমানে ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী দৌড়ের সবচেয়ে ‘সুসময়’ উপভোগ করছেন। অন্যদিকে হিলারির জন্য তা সবচেয়ে মন্দ সময়। একবার তাঁর মনোনয়ন নিশ্চিত হলে হিলারিও অনুরূপ ‘সুসময়’ উপভোগের সুযোগ পাবেন, যদিও তা খুব দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ডেমোক্রেটিক নির্বাচনী কৌশলবিদ লিজ স্মিথ মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী হওয়ায় যেসব ডেমোক্র্যাট আনন্দিত, তাঁদের মাথায় রাখা উচিত, হিলারির বিরুদ্ধে চরম নোংরা কথা বলে ভোটারদের খেপিয়ে তুলতে ট্রাম্প দ্বিধা করবে না। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে তলানিতে পৌঁছানোর দৌড়।’ তবে হিলারির জন্য সুখবর, দেশের মধ্যপন্থী ভোটার যাঁরা নিজেদের কোনো একটি দলের প্রতি অনুগত নন বলে জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই মনে করেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য। অন্যদিকে হিলারির যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করেন এমন মধ্যপন্থীর সংখ্যা নামমাত্র। ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদেরা আশা করছেন, এই মধ্যপন্থীদের সমর্থনেই হিলারি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে সক্ষম হবেন। জিততে হলে তাঁকে এই মধ্যপন্থী ভোটারদের কমপক্ষে ৫৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে এই মধ্যপন্থী ও স্বতন্ত্র ভোটারদের কথা মাথায় রেখে হিলারি প্রচার চালাচ্ছেন। আর তাঁদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ—এমন বিষয়গুলোতেই তিনি প্রচার চালাচ্ছেন। এদিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ক্ষেত্র থেকে নতুন সমর্থন পেয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। ঐতিহাসিকভাবে, নির্বাচনের ঠিক আগে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সমর্থন যদি ৫০ শতাংশের অধিক হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁর দলের প্রার্থী বিজয়ী হন। গ্যালপের দেওয়া হিসাব অনুসারে, গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন অল্প অল্প করে বেড়ে তা এখন ৫২ শতাংশ বা তার অধিক দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে, বেকারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম, জ্বালানি তেলের দাম এখন সর্বনিম্নে। সে জন্যই ওবামার প্রতি জনসমর্থনের ঊর্ধ্বগতি। ওবামা যদি তাঁর এই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেন, হিলারির জন্য তা হবে সবচেয়ে বড় সুখবর।

No comments:

Post a Comment