Thursday, May 12, 2016

উঁচু হিলে আপত্তি করায়...

উঁচু হিলে আপত্তি করায় চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে লন্ডনের বহুজাতিক একটি প্রতিষ্ঠানের নারী অভ্যর্থনাকারীকে। এমনকি তাঁকে বেতনও দেওয়া হয়নি। গতকাল বুধবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ২৭ বছরের নিকোলা থর্প বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান পোর্টিকোতে অভ্যর্থনাকারী হিসেবে যোগ দেন। প্রথম দিন তিনি হিল জুতো পরে কাজ করতে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জুতো বদলে দুই থেকে চার ইঞ্চি উঁচু হিলের জুতো কিনে পরতে বলা হয়। ওই হিল পরে নয় ঘণ্টা কাজ করতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। নিকোলা হিল পরে স্বচ্ছন্দ নন বলে জানান। তিনি উঁচু হিল না পরেই অভ্যর্থনাকারীর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারবেন বলেও জানান। পুরুষ অভ্যর্থনাকারীরা হিল না পরে দক্ষতার সঙ্গে অভ্যর্থনাকারী কাজ করতে পারলে তিনি কেন পারবেন না, এ প্রশ্নও তোলেন। কিন্তু চাকরিদাতা এত সব কথা শুনতে নারাজ। সাফ জানিয়ে দেন, কাজ করতে হলে নিকোলাকে উঁচু হিল পরতেই হবে। নইলে তিনি বাড়ি ফিরে যেতে পারেন। বাড়ি ফিরে নিকোলা এই খারাপ অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেন। সেখানে অন্য নারীরাও একই পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন বলে জানান।
নিকোলা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। কারণ, কর্মীদের পোশাকবিধি মেনে চলতে বাধ্য করার অধিকার চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের রয়েছে। তবে নিকোলা একটি আইন করার জন্য আবেদন করেছেন। নিকোলা চান, এমন একটি আইন হোক, যাতে কর্মক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় কোনো পোশাকবিধি মেনে চলতে প্রতিষ্ঠান নারী কর্মীদের বাধ্য করতে না পারে। পোশাকবিধি পরিবর্তনের কথাও বলেছেন নিকোলা। তাঁর মতে, এখন উঁচু জুতো না পরেও একজন নারী দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন। অভ্যর্থনাকারী হওয়ার জন্য নারীদের উঁচু জুতো পরার কোনো প্রয়োজন নেই। নিকোলার এই আবেদনের পক্ষে ১০ হাজার স্বাক্ষর পড়েছে। পোর্টিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমন প্রাত বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাকবিধি রয়েছে। সে অনুযায়ী নিকোলাকে কাজ করতে বলা হয়েছে। তবে পিডব্লিউসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারী ও পুরুষ কর্মীদের জন্য তাদের কোনো নির্দিষ্ট পোশাকবিধি নেই। প্রচলিত আইন অনুসারে চাকরিদাতারা চাইলেই কর্মীদের ওপর যেকোনো সময় পোশাকবিধি চাপিয়ে দিতে পারেন না। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুসারে পোশাক কেনার জন্য কর্মীকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হয়।

No comments:

Post a Comment