Sunday, May 8, 2016

মিসরে দুই সাংবাদিকসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড

অন্যতম দণ্ডিত প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সাবেক
ব্যবস্থাপক আহমেদ আবদেল আতি l রয়টার্স
মিসরের রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য অন্য দেশে পাচার করার অভিযোগে দেশটির আদালত গতকাল শনিবার ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশের সুপারিশ করেছেন। এই ছয়জনের মধ্যে দোহাভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরার দুই সাংবাদিকও আছেন। তবে একই মামলায় অভিযুক্ত হলেও মিসরের কারারুদ্ধ সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির রায় মুলতবি রাখা হয়েছে। এদিকে মিসরের আদালতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের কেউ মুরসির নির্বাচিত সরকারকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজে সহযোগিতা করেনি। এখন ছয় বিবাদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি দেশটির ইসলামি আইনের ব্যাখ্যাকারী সর্বোচ্চ ধর্মীয় (সুন্নি) নেতা মুফতির মতামত চাইবেন। মুফতির প্রতিক্রিয়ার পর ১৮ জুন আবার আদালত বসবে। মুরসিসহ বাকি পাঁচজনের সাজা ও রায়ও তখন দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, আদালত চাইলে মুফতির প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করতে পারেন, আবার না-ও পারেন। রায়টির বিরুদ্ধে বিবাদীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশন বলছে, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছয়জনের একজন হলেন আল-জাজিরার জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ইব্রাহিম মোহামেদ হিলাল। তিনি বর্তমানে মিসরে নেই। তাঁর অনুপস্থিতিতেই রায় শোনানো হয়। প্রতিক্রিয়ায় আল-জাজিরা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হিলাল চ্যানেলটির চেয়ারম্যানের ‘একজন উপদেষ্টা’। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আরেকজন হলেন আল-জাজিরার প্রযোজক জর্ডানের নাগরিক আলা ওমর মোহামেদ সাবলান। আর আসমা মোহামেদ আল খাতিব নামে ব্রাদারহুডপন্থী এক প্রচারমাধ্যম প্রতিবেদকও রয়েছেন মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায়। এই দুজনেরও অনুপস্থিতিতে চলে বিচারকাজ। তিনজনের বিরুদ্ধেই গুরুত্বপূর্ণ নথি কাতারের কাছে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি ইতিমধ্যে পৃথক তিন মামলায় যাবজ্জীবন ও ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি ছিলেন দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পরই গণবিক্ষোভের কথা বলে ২০১৩ সালে সেনা অভ্যুত্থানে উৎখাত করা হয় তাঁকে। মুরসির সরকারকে উৎখাতের পর থেকেই মুসলিম ব্রাদারহুডের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সমর্থকদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হচ্ছে। সে সময়েই নিষিদ্ধ হওয়া মুসলিম ব্রাদারহুড রায়গুলোকে প্রত্যাখ্যান করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করে আসছে।

No comments:

Post a Comment