Sunday, May 8, 2016

২৩ বছর পর সেই মসজিদ

ঠিক ২৩ বছর আগে গৃহযুদ্ধের সময় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বসনিয়ার ঐতিহাসিক ফেরহাত-পাশা মসজিদ। সেই মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করে গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ শেষের এত দিন পরও বসনিয়ার মানুষ জাতিগতভাবে বিভক্ত। তাই মুসলমান এবং অর্থোডক্স ও ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের মধ্যে সহিষ্ণুতা বাড়ার আশার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে এ ঘটনাকে। বসনিয়ার স্বায়ত্তশাসিত সার্ব প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বানিয়া লুকায় ষোড়শ শতকে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন অটোমান শাসকেরা। শহরটি সার্ব সংখ্যাগরিষ্ঠ, যারা মূলত অর্থোডক্স খ্রিষ্টান। এ কারণে সেখানে মুসলিমদের আবার নামাজের জন্য ফিরে আসাকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গতকাল মসজিদটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তুরস্কের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু। মসজিদটি পুনর্নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করেছে তুরস্ক সরকার। এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বানিয়া লুকায় এক হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ফেরহাত-পাশা মসজিদ অটোমান সাম্রাজ্যের বিশেষ স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে ইউনেসকোর সংরক্ষিত স্থাপনার তালিকায় আছে। ২০০১ সালে মসজিদটির পুনর্নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও স্থানীয় জাতীয়তাবাদী সার্ব ও ক্রোয়েটদের বাধার কারণে কাজের অনুমতি পেতে ১৫ বছরের বেশি সময় লেগে যায়। তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে বসনিয়ায় ৬১৪টি মসজিদ ভেঙে দিয়েছিল উগ্র সার্ব ও ক্রোয়েট বাহিনী। বর্তমানে বানিয়া লুকা শহরের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মুসলমান। যুদ্ধের সময় যারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল, তারা আর ফিরে আসেনি। আইসা নেজিরোভিচ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মসজিদটি আবার খুলে দেওয়ায় তিনি খুবই খুশি। এর ফলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মুসলমানরা আবার নিজের ভিটায় ফিরতে সাহস পাবে বলে তাঁর আশা। বসনিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান এফেন্দি হুসেইন কাভাজোভিচও বলেন, এ ঘটনা তাঁদের আশাবাদী করে তুলেছে।

No comments:

Post a Comment