Saturday, May 21, 2016

আসছে স্বর্ণ পামের দিন

ফটোকলে দ্য লাস্ট ফেস ছবির দুই শিল্পী হাভিয়ের
বারদেম ও শার্লিজ থেরন l ছবি: এএফপি
ঘনিয়ে আসছে সময়। কান সময় ২২ মে রাতে হয়ে যাবে স্বর্ণ পামের ফয়সালা। কার হাতে যাচ্ছে উৎসবের সবচেয়ে বড় পুরস্কার? আগেভাগে বলা মুশকিল। তবু হিসাব-নিকাশ থেমে নেই। এখন পর্যন্ত প্রশংসিত ছবির তালিকায় শোনা যাচ্ছে বেশ কিছু নাম। এর মধ্যে রয়েছে ক্লেবার মেনদোনচা ফিলিওর অ্যাকুয়ারিয়াস (ব্রাজিল), ক্রিস্তি পুইউর সিয়েরানেভাদা (রোমানিয়া), নিকোল গার্সিয়ার ফ্রম দ্য ল্যান্ড অব দ্য মুন (ফ্রান্স), ও ব্রুনো দুমোর স্ল্যাক বে (ফ্রান্স)। কিন্তু বিচারকেরা প্রতিযোগিতা বিভাগের ২১টি ছবির যেকোনোটিকে বেছে নিতে পারেন স্বর্ণ পাম তুলে দেওয়ার জন্য। সেটা কোন ছবি? জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুটা সময়। আর আজ ২১ মে ঘোষণা করা হবে ফিপ্রেসকি জুরি পুরস্কার। হাভিয়ের বারদেম-শার্লিজ থেরন রসায় ছবির বিষয় যুদ্ধবিপর্যস্ত লাইবেরিয়ায় প্রেম। একজন চিকিৎসক। আরেকজন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার পরিচালক। স্পেনের খ্যাতিমান সু–অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম আর হলিউডের দক্ষিণ আফ্রিকার গর্ব শার্লিজ থেরন—দুজনের রোমান্টিক রসায়ন হয়তো জমতে পারত। কিন্তু যেকোনোভাবেই হোক প্রায় ভেস্তে গেছে বারদেম-শার্লিজের রোমাঞ্চ। সমালোচকেরা এ জন্য দুষছেন অবশ্য শন পেনকেই। শার্লিজ থেরনের সঙ্গে তাঁর পুরোনো সম্পর্ক নিয়েও কটুকথা চলছে। অভিনেতা শন পেন নির্মাতা হিসেবে ছিলেন দ্য লাস্ট ফেস ছবিতে। গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে সন্ধ্যায় এই ছবির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীর আগে সাংবাদিক-সমালোচকেরা ছবিটা আগেই দেখার সুযোগ পান। সেখান থেকেই শুরু হয়ে গেছে সমালোচনার ঝড়। সে কারণেই কিনা কে জানে কাল শুক্রবার ছবির সংবাদ সম্মেলনে খানিক বিপর্যস্তই দেখাল হলিউড অভিনেতা ও রাজনৈতিক কর্মী শন পেনকে। অন্যদিকে, আলোচনায় না থেকেও প্রতিযোগিতা বিভাগের আরেক ছবি দ্য নিয়ন ডেমো মাতিয়ে দিয়েছে দর্শকদের। নিকোলাস উইন্ডিং রেফেনর হরর থ্রিলার ধাঁচের এই ছবিটিরও উদ্বোধনী প্রদর্শনী ছিল গতকাল। লস অ্যাঞ্জেলেসে ক্যারিয়ার গড়তে আসা জেসি নামের এক উঠতি মডেলকে নিয়ে ছবির গল্প।
মেয়রের নিমন্ত্রণ
নেমন্তন্ন এসেছে কানের মেয়র ডেভিড লিনার্ডের তরফ থেকে। দাওয়াতপত্রের ভাষাটা মোটামুটি এ রকম, ‘দো লা কাস্তেতে আপনার সঙ্গে আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ কিছুটা সময় কাটাতে চাই। আশা করছি, কানের অন্য একটি দিক আপনি এই মধ্যাহ্নভোজের অনুষ্ঠানে আবিষ্কার করবেন। এখানে এসে আপনি পাবেন কানের সত্যিকারের ঐতিহ্যের খোঁজ।’ ২০ মে কান সময় দুপুর ১২টার কাছাকাছি। কান সিটি সেন্টার থেকে ওপরের দিকে তাকাই। পাহাড়ের ঠিক মাথায় দুর্গের মতো বাড়ি, ওটাই দো লা কাস্তে। পাহাড়ের গা বেয়ে উঠতে উঠতে ঢং ঢং করে ঘণ্টা বাজল। ১২টা বাজার সংকেত। মধ্যাহ্নভোজ সময় প্রায় হয়ে এল। পাহাড়ের মাথার দিকে যেতে যেতে কানে ভেসে এল মিষ্টি বাঁশির সুর। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে স্থানীয় মেয়েরা। অতিথিদের হাতে তুলে দিচ্ছে ফলের রস। প্রতিবছর কান উৎসবের শেষভাগে এই মধ্যাহ্নভোজের দাওয়াতের আয়োজন করা হয়। বরাবরের মতোই খাবারের তালিকায় ছিল কানের স্থানীয় খাবারের প্রাধান্য। কানের সাগর থেকে ধরা মাছ আর স্থানীয়ভাবে ফলানো সবজি। কান উৎসবের বিচারকেরাও হাজির ছিলেন এই মধ্যাহ্নভোজে। সব মিলিয়ে স্বর্ণ পামে মহা উত্তেজনা শুরুর আগে গতকাল খানিক ঢিলেঢালা একটা দিন গেল কান উৎসবে।

No comments:

Post a Comment