Saturday, May 21, 2016

আমিনুলের ক্ষোভ-দুঃখ

আমিনুল ইসলাম
২০০৬ সালে আবাহনীতে নাম লিখিয়ে এখনো ধানমন্ডির দলটিতেই আছেন মিডফিল্ডার প্রাণতোষ দাস। তবে তাঁকেও ছাড়িয়ে গেছেন ডিফেন্ডার আমিনুল ইসলাম। ২০০৩ সালে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রে যোগ দিয়ে ২০১৫ পর্যন্ত টানা ১২ বছর খেলেছেন ওই দলে। বাংলাদেশের হাল আমলের অস্থির ফুটবলারদের মিছিলে প্রাণতোষ-আমিনুলরা ব্যতিক্রমী চরিত্রই। অন্যরা বছর বছর পোশাক পাল্টানোর মতো দল বদলান। এঁরা সেই পথে হাঁটেননি। বাইরের দুনিয়ায় এমন লম্বা সময় খেলে ক্লাবের সমার্থক হয়ে যাওয়ার উদাহরণ ভূরি ভূরিই। পাওলো মালদিনি যেমন আশির মাঝপথে এসি মিলানে ক্যারিয়ার শুরু করে ওই দলেই টানা ২৫টি মৌসুম খেলে অবসর নিয়েছেন। একাডেমি দল ধরলে ফ্রান্সেসকো টট্টির ২৭ বছর কাটছে রোমায়। বাংলাদেশের ফুটবলেও লম্বা সময় একই ক্লাবে খেলার সংস্কৃতি ছিল সত্তর-আশি, এমনকি নব্বইয়ের দশকেও। কাজী সালাউদ্দিন যেমন ১৯৭২-৮৪ পর্যন্ত টানা আবাহনীতে খেলে যান অবসরে। প্রাণতোষ আরও কয়েকটা মৌসুম খেলবেন। তবে ১২ বছর টানা খেলেও আমিনুল শেখ রাসেলের জার্সি গায়ে আনুষ্ঠানিক অবসর নিতে পারলেন না। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় তারকাই সেটা পারেননি। কিন্তু আমিনুলের দুঃখটা এই কারণে যে শেখ রাসেল নাকি তাঁকে অবসর নেওয়ার সুযোগ দেয়নি! ক্লাবের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেননি! ক্লাব চাইলে খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না-ও করতে পারে। কিন্তু আমিনুলের ক্ষোভটা অন্য জায়গায়, ‘এবার দলবদলের আগে ১৫-২০ বার ফোন করার পর হয়তো একবার সাড়া দিয়েছেন কর্মকর্তা সালেহ জামান সেলিম ভাই। বলেছেন, “তোমার সঙ্গে পরে কথা বলব।” আবার ফোন করলে বলেন, “তোমাকে এবার রিটায়ার করাব।”’ আমিনুল বলে যান তাঁর আক্ষেপের কথা, ‘সেলিম ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, কবে করাবেন অবসর? তিনি বলেন, “তুমি বাসা থেকে এসে রিটায়ার করবে।” কেউ বাসা থেকে এসে রিটায়ার করে কীভাবে বুঝলাম না!
আরেক কর্মকর্তা বলেন, “ক্লাবে থাকার জায়গা নেই।” এই কি আমার পুরস্কার!’ তবে শেখ রাসেলের কর্মকর্তা সালেহ জামান সেলিম আমিনুলের অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো তাঁকেই তুললেন কাঠগড়ায়, ‘ও তো বুড়ো প্লেয়ার। গত বছর ওকে রিটায়ার করিয়ে দিতে চাইলেও আসি আসি করে আসেনি। আগের বছরও আসেনি (গত বছর একটি ও তার আগের বছর সাতটি ম্যাচ খেলেছেন আমিনুল)। ক্লাবের কোনো দায় নেই, দায় ওর নিজের।’ সেলিম যোগ করেন, ‘রিটায়ার তো আমাদের খেলোয়াড়েরা করতে চায় না, টিমে থাকতে পারলেই কিছু টাকা পায়। ও চাইলে ওকে আবাহনী ম্যাচে জাঁকজমকের সঙ্গে অবসরের ব্যবস্থা করিয়ে দেব, নেবে কি না সেটাই কথা।’ আবাহনী দিয়েই ১৯৯৯ সালে ঢাকার ফুটবলে পা রাখেন গাজীপুরের ছেলে আমিনুল। লম্বা পথ পেরিয়ে তাঁর আক্ষেপ, ‘শেখ রাসেল যে টাকা দিয়েছে, তাতেই সন্তুষ্ট থেকেছি। তারপরও ওই ক্লাবের এমন আচরণ দুঃখজনক।’ ২০০৫ সালে চ্যালেঞ্জ কাপের জন্য জাতীয় দলের ক্যাম্পে একবার ডাক পেয়েছেন। লিগে ২০০৮ সালে দ্বিতীয়, ’০৯ সালে তৃতীয় ও ’১০ সালে চতুর্থ হওয়া শেখ রাসেলের অধিনায়ক ছিলেন। ট্রেবল জয়ের গর্বিত অংশীদারও। সেই তাঁরই কিনা এখন অবসরের জন্য হাহাকার!

No comments:

Post a Comment