![]() |
| অসুস্থ শরীর নিয়েই কাল পুরো ১০ ওভার বোলিং করলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। আউট করেছেন প্রতিপক্ষের চার ব্যাটসম্যানকেও |
জালাল আহমেদ চৌধুরীর কণ্ঠে স্পষ্ট হতাশা, ‘অধিনায়ক যখন অসুস্থ শরীর
নিয়েও এ রকম পারফর্ম করে, তখন অন্যদের এমনিতেই জ্বলে ওঠা উচিত। কিন্তু কেউ
তা পারল না...।’ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে কলাবাগান
ক্রীড়া চক্রের কোচ বলছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা। কাল সকালে ১০২
ডিগ্রি জ্বর গায়েও মাঠে নেমেছেন মাশরাফি, কোচের বারণ শোনেননি। এই শরীরেই
টানা আট ওভারের স্পেলে ৪৫ রানে তুলে নিলেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ৩
উইকেট! একে অসুস্থ শরীর, তার ওপর হাঁটুতে টেপিং করতে ভুলে গিয়েছিলেন।
চোটের ঝুঁকি এড়াতে তাই বল করেছেন ছোট রানআপে। শেষ দিকে বাকি দুই ওভার
করতে এসে একপর্যায়ে অবশ্য পুরো রানআপেই শুরু করেন। প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক
ম্যাচ খেলতে নামা রায়হান উদ্দিনকে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ক্যাচ বানিয়ে
নিলেন আরও এক উইকেট। ১০-১-৫৬-৪, এই হলো কলাবাগানের অসুস্থ অধিনায়ক
মাশরাফির বোলিং বিশ্লেষণ। তার পরও মিরপুরের ব্যাটিং উইকেটে প্রাইম ব্যাংক
তুলল ২৮০, কলাবাগানের হার ৪৭ রানে। কোচের গলায় হতাশা ভর করাই স্বাভাবিক। প্রথম
স্পেলের তিনটি উইকেট মাশরাফি নিয়েছেন নিজের পরপর তিন ওভারে। চৌদ্দতম
ওভারের প্রথম বলে দিলশান মুনাবীরাকে ফেরত পাঠানোর পর প্রাইম ব্যাংকের
স্কোর ৬৯/৩। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে সাব্বির রহমান-শুভাগত হোমের ১০৬ রানের
জুটিতে কেটে যায় মেঘ। সেটা এতটাই যে ১৭৫ থেকে ১৭৬—এক রানের ব্যবধানে ফিফটি
করা সাব্বির (৫৩), শুভাগত (৬০) দুজনই ফিরে গেলেও বড় রান করতে সমস্যা হয়নি
দলের। ৫২ করা তাইবুরের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে রায়হানের ৬৬ রানের জুটি, শেষ
দিকে দেওয়ান সাব্বিরকে মারা ছক্কায় রুবেল হোসেনের আট বলে ১০ শুভাগতর দলকে
নিয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কলাবাগানকে ২৩৩ রানে আটকাতে সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রায়হানের। প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম ম্যাচেই ৪ উইকেট
নিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার। কলাবাগানের ভরসাস্থল মাসাকাদজার (৬১)
উইকেটও এর একটি। তাতে কলাবাগান তো হারলই, নিজের সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে
গেলেন মাশরাফিও। অসুস্থ শরীর নিয়ে খেলতে নামার একটাই কারণ জানালেন তিনি,
‘প্রথম দুই ম্যাচে হেরেছি। একটা জয় খুব দরকার ছিল। আমি না খেললে তো দল আরও
দুর্বল হয়ে যেত।’ মাশরাফিকে দলে নেওয়ার এটাও একটা কারণ ছিল কলাবাগানের।
পারফরম্যান্সের সঙ্গে একজন সত্যিকারের অধিনায়ককেও যে পাওয়া যাবে! কোচ
জালাল আহমেদ চৌধুরীর দৃষ্টিতে যিনি আসলে অতিমানব, ‘আমি ওকে বলেছিলাম এই
শরীরে খেলার দরকার নেই। কিন্তু সে তো মানুষ নয়, অতিমানব।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
প্রাইম দোলেশ্বর-শেখ জামাল ফতুল্লা
শেখ জামাল: ২৭.১ ওভারে ৯৯ (পেরেরা ৩৩, মাহমুদউল্লাহ ২৪; ফরহাদ রেজা ৪/২০, সানজামুল ৩/২৪, আল আমিন ২/২৫)।
প্রাইম দোলেশ্বর: ২০.১ ওভারে ১০১/২ (রকিবুল ৫৩*, সিলভা ২৭*, রনি ১৭; শফিউল ১/১২, সোহাগ ১/২০)।
ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ফরহাদ রেজা।
ব্রাদার্স- আবাহনী
বিকেএসপি
ব্রাদার্স: ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৪ (ইমরুল ৬৯, নুর আলম ৩৯, সাদিক ৩৮*, শাহরিয়ার ৩৫; জুবায়ের ৪/৪৪, তাসকিন ২/৪৫, নাজমুল ১/৩০, মোসাদ্দেক ১/২২)।
আবাহনী: ৪৯.৫ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৮ (কৌল ৫৯, মোসাদ্দেক ৪৭, আবুল ২৩, নাজমুল ২৩, সাকলাইন ২০*, জুবায়ের ১৯*; নুর আলম ২৯/২, তুষার ২/৩৯, সানজিত ১/৩৭)।
ফল: আবাহনী ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: জুবায়ের হোসেন (আবাহনী)।
প্রাইম ব্যাংক–কলাবাগান
মিরপুর
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ৪৮.৪ ওভারে ২৮০ (শুভাগত ৬০, সাব্বির ৫৩, তাইবুর ৫২, মেহেদী ৩৭; মাশরাফি ৪/৫৬, সাব্বির ২/৪৪, রাজ্জাক ২/৫০, শরীফুল্লাহ ২/৫৬)।
কলাবাগান কেসি: ৪৫.৪ ওভারে ২৩৩ (মাসাকাদজা ৬১, সাদমান ৪৫; রায়হান ৪/৩৮, মনির ২/৩৬, শুভাগত ২/৪৪, রুবেল ২/৫১)। ফল: প্রাইম ব্যাংক ৪৭ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শুভাগত হোম।
আগামীকালের খেলা
সিসিএস-গাজী গ্রুপ
সকাল ৯টা, মিরপুর
মোহামেডান-রূপগঞ্জ
সকাল ৯টা, ফতুল্লা
কলাবাগান সিএ-ভিক্টোরিয়া
সকাল ৯টা, বিকেএসপি
প্রাইম দোলেশ্বর-শেখ জামাল ফতুল্লা
শেখ জামাল: ২৭.১ ওভারে ৯৯ (পেরেরা ৩৩, মাহমুদউল্লাহ ২৪; ফরহাদ রেজা ৪/২০, সানজামুল ৩/২৪, আল আমিন ২/২৫)।
প্রাইম দোলেশ্বর: ২০.১ ওভারে ১০১/২ (রকিবুল ৫৩*, সিলভা ২৭*, রনি ১৭; শফিউল ১/১২, সোহাগ ১/২০)।
ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ফরহাদ রেজা।
ব্রাদার্স- আবাহনী
বিকেএসপি
ব্রাদার্স: ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৪৪ (ইমরুল ৬৯, নুর আলম ৩৯, সাদিক ৩৮*, শাহরিয়ার ৩৫; জুবায়ের ৪/৪৪, তাসকিন ২/৪৫, নাজমুল ১/৩০, মোসাদ্দেক ১/২২)।
আবাহনী: ৪৯.৫ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৮ (কৌল ৫৯, মোসাদ্দেক ৪৭, আবুল ২৩, নাজমুল ২৩, সাকলাইন ২০*, জুবায়ের ১৯*; নুর আলম ২৯/২, তুষার ২/৩৯, সানজিত ১/৩৭)।
ফল: আবাহনী ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: জুবায়ের হোসেন (আবাহনী)।
প্রাইম ব্যাংক–কলাবাগান
মিরপুর
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ৪৮.৪ ওভারে ২৮০ (শুভাগত ৬০, সাব্বির ৫৩, তাইবুর ৫২, মেহেদী ৩৭; মাশরাফি ৪/৫৬, সাব্বির ২/৪৪, রাজ্জাক ২/৫০, শরীফুল্লাহ ২/৫৬)।
কলাবাগান কেসি: ৪৫.৪ ওভারে ২৩৩ (মাসাকাদজা ৬১, সাদমান ৪৫; রায়হান ৪/৩৮, মনির ২/৩৬, শুভাগত ২/৪৪, রুবেল ২/৫১)। ফল: প্রাইম ব্যাংক ৪৭ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শুভাগত হোম।
আগামীকালের খেলা
সিসিএস-গাজী গ্রুপ
সকাল ৯টা, মিরপুর
মোহামেডান-রূপগঞ্জ
সকাল ৯টা, ফতুল্লা
কলাবাগান সিএ-ভিক্টোরিয়া
সকাল ৯টা, বিকেএসপি

No comments:
Post a Comment