বাংলাদেশের
অভ্যন্তরীণ উগ্রপন্থিদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের একসঙ্গে
কাজ করার যে সংবাদ বেরিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে উগ্রপন্থিদের
মোকাবিলায় ভারত অতীতের মতো ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস
দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর। আজ সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত
হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে
সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্করের বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে
এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র
একসঙ্গে কাজ করার কথা কাগজে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এর কোন ভিত্তি
আছে বলে মনে হয় না। তিনি আরও বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তাদের
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে।
দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সম্পর্ক কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায়, সেটি নিয়ে কথা
হয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদির ঢাকা সফরের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য জয়শঙ্কর এসেছেন। বাংলাদেশের
সন্ত্রাস দমনে নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার
বিষয়টি এখানে এসে শুনেছেন বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এ ব্যাপারে তার কোন
মন্তব্য সেভাবে ছিল না। শেরেবাংলা একে ফজলুল হক ন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের
চেয়ারম্যান সাইদুল হক রাজু বলেন, বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ জঙ্গিদের যে তৎপরতা
রয়েছে সেসব বিষয়ে ভারত খুবই উদ্বিগ্ন। তারা এ বিষয়ে অবহিত রয়েছে।
উগ্রপন্থিদের মোকাবিলায় অতীতে তারা বাংলাদেশের পাশে ছিল, ভবিষ্যতে তারা
পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান
বলেন, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা
দেশাই বিসওয়াল এসে বলেছিলেনÑ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ, ভারত ও
যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়শঙ্কর বলেছেন,
বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত কিভাবে কাজ করবে।
তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আমরা তো বলিনি।’ তবে সভায় একটি
স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশের
প্রতিনিধি দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিএনপির
সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, লে. জে. (অব.) হারুন-অর রশিদ,
ইনস্টিটিউশন অব পিস কনফ্লিক্ট ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক্সিকিউটিভ
ডিরেক্টটর মো. আবদুর রশিদ, ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী,
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, ব্রি. জে. এস নন্দা,
সাধনার ডিরেক্টর লুবনা মারিয়াম, ঢাকা ট্রিবিউন-এর সম্পাদক জাফর সুবহান
প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Thursday, May 12, 2016
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment