দেশে
অপরিশোধিত লবণের উৎপাদন বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক)
হিসাবে, চলতি মৌসুমে ১৫ লাখ ৩০ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে, যা গত বছরের
চেয়ে আড়াই লাখ টন বেশি। তবে এই বাড়তি উৎপাদনের সুফল মিলছে না। কৃষক পর্যায়ে
লবণের দাম কেজিতে মাত্র দুই টাকার মতো কমেছে। খুচরা বাজারে এক টাকাও কমেনি
পরিশোধিত লবণের দাম। রাজধানীতে এখন ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন পদ্ধতিতে পরিশোধিত
লবণ কেজিপ্রতি ৩৪-৩৫ টাকা, মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণ ৩০-৩২ টাকা ও
সাধারণ লবণ ২০-২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর তথ্য
অনুযায়ী, ছয় মাস আগেও ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেশন পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণের খুচরা
দর ছিল ২৫-২৬ টাকা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের
তালিকামতে, এক বছর আগের তুলনায় এখন লবণের দাম কেজিপ্রতি ৩৩ শতাংশ বেশি। এ
বছর লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ লাখ টন। আনুষ্ঠানিকভাবে গত রোববার
মৌসুম শেষ হয়েছে। তবে বৃষ্টি না হলে চাষিরা আরও কিছুদিন উৎপাদন করতে পারবেন
বলে জানিয়েছেন বিসিকের লবণ উৎপাদন কর্মসূচির উপমহাব্যবস্থাপক মো. আফসার
উদ্দিন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, শেষ দিকে ভালো উৎপাদন হওয়ায় কৃষক পর্যায়ে
দাম মণপ্রতি ৮০ টাকা কমে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নভেম্বরের মাঝামাঝি
থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়কে লবণ মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। বিসিকের
হিসাবে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছিল।
২০১৪-১৫ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৮২ হাজার টন। এতে বাজারে লবণের
দাম বাড়তে থাকে। খরচ বাড়ে সাধারণ মানুষের। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় লবণ
বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা জানান, এ মৌসুমে লবণের দাম
বস্তাপ্রতি (৮০ কেজি) এক হাজার টাকায় উঠেছিল। গত সোমবার তা ৭৬০ টাকায় কেনা
গেছে। এখন কারখানায় মজুত থাকা লবণের গড় দাম পড়েছে বস্তাপ্রতি ৮৫০ টাকা।
অপরিশোধিত লবণের দাম কমলেও পরিশোধিত লবণের দাম কমছে না কেন জানতে চাইলে
তিনি বলেন, এপ্রিলে লবণের দাম ৪০ টাকা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু লোকসান দিয়ে
৩৫ টাকায় রাখা হয়েছে। এখনকার দর কিছুদিন স্থায়ী হলে দাম সামান্য কমানো
যাবে।
দেশের লবণ পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বাজার সামাল দিতে লবণ আমদানি করতে চায়। তবে সরকার আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না। তাদের দাবি, ভারত থেকে আমদানি করলে ৯২ শতাংশ করসহ প্রতি কেজি লবণ কারখানা পর্যন্ত আনতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ টাকা পড়ে। দেশে এখন কৃষক পর্যায়েই লবণের দাম ৭ থেকে ৮ টাকা। পূবালী সল্টের চেয়ারম্যান পরিতোষ কান্তি সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী ১৬ লাখ টন লবণ উৎপাদনের জন্য ২২ লাখ টন অপরিশোধিত লবণ দরকার। কিন্তু বিসিকের হিসাবেই উৎপাদন হয়েছে ১৫ লাখ টন। তিনি বলেন, বিশেষ মহলের স্বার্থে লবণ-পরিস্থিতি নিয়ে বিসিক সঠিক তথ্য তুলে ধরে না। লবণ পর্যাপ্ত থাকলে দাম গত বছরের চেয়ে এত বেশি কেন? তবে বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন বলেন, এক কেজি লবণ উৎপাদন করতে কৃষকের ৫ টাকা ২০ পয়সা খরচ হয়। দাম গত বছরের অবস্থানে গেলে চাষিরা আর লবণ উৎপাদন করবেন না।
দেশের লবণ পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বাজার সামাল দিতে লবণ আমদানি করতে চায়। তবে সরকার আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না। তাদের দাবি, ভারত থেকে আমদানি করলে ৯২ শতাংশ করসহ প্রতি কেজি লবণ কারখানা পর্যন্ত আনতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ টাকা পড়ে। দেশে এখন কৃষক পর্যায়েই লবণের দাম ৭ থেকে ৮ টাকা। পূবালী সল্টের চেয়ারম্যান পরিতোষ কান্তি সাহা প্রথম আলোকে বলেন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী ১৬ লাখ টন লবণ উৎপাদনের জন্য ২২ লাখ টন অপরিশোধিত লবণ দরকার। কিন্তু বিসিকের হিসাবেই উৎপাদন হয়েছে ১৫ লাখ টন। তিনি বলেন, বিশেষ মহলের স্বার্থে লবণ-পরিস্থিতি নিয়ে বিসিক সঠিক তথ্য তুলে ধরে না। লবণ পর্যাপ্ত থাকলে দাম গত বছরের চেয়ে এত বেশি কেন? তবে বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন বলেন, এক কেজি লবণ উৎপাদন করতে কৃষকের ৫ টাকা ২০ পয়সা খরচ হয়। দাম গত বছরের অবস্থানে গেলে চাষিরা আর লবণ উৎপাদন করবেন না।

No comments:
Post a Comment