Tuesday, May 17, 2016

অর্থ স্থানান্তর অনুমোদনে ভুল দেখছে না নিউ ইয়র্ক ফেড

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির পর ব্যাংকটি বলেছিলো, অর্থ স্থানান্তরের ভুয়া অনুরোধে সাড়া দিয়ে তারা কোনো ভুল করেনি। মার্কিন এক আইনপ্রণেতা তার কাছে নিউ ইয়র্ক ফেডের এক শীর্ষ কর্তার পাঠানো চিঠি গত শুক্রবার প্রকাশ করেন। সেখানে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যারোলিন ম্যালোনি ফেব্রুয়ারির ওই কেলেঙ্কারির পর নিউ ইয়র্ক ফেডের অর্থ স্থানান্তর নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানান। এপ্রিলের ১৪ তারিখে তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নিউ ইয়র্ক ফেডের জেনারেল কাউন্সিলর ও নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট থমাস বাক্সটার বলেন, ‘লেনদেনের ৩৫টি ভুয়া অনুরোধের মধ্যে ৫টির ছাড়পত্র দেয়া ও ৩০টি আটকে দেয়ার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়েছে।’ ওই ৩০টি অনুরোধ আটকে না দিলে প্রায় ১০০ কোটি ডলার চুরি হয়ে যেত। তবে যে ৫টি অনুরোধের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে, তাতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চলে যায় চোরদের হাতে। বাক্সটার বলেন, নিউ ইয়র্ক ফেডের সিস্টেমটা এমন যে, কোনো নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন ব্যক্তি বা দেশে অর্থ স্থানান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকে যাবে। কিন্তু, সুইফট মেসেজিং নেটওয়ার্কে সব ভেরিফিকেশন উতরে আসার পর, কোন লেনদেন আটকায় না এই সিস্টেমে। এ মন্তব্য এক ধরনের স্বীকারোক্তি যে, অন্য অনেক ব্যাংকের মতো নিউ ইয়র্ক ফেডও ভুয়া লেনদেন রুখতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুইফটের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার ওপরই কেবল নির্ভর করে। নিজেরা বাড়তি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। বাক্সটার ওই চিঠিতে বলেন, ‘সুইফটের অথেনটিকেশন বা অনুমোদন প্রক্রিয়ার মতো নয় আমাদেরটা। আমাদের সিস্টেম অনুমোদিত লেনদেন থেকে গ্রাহকদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য তৈরি করা হয়নি। বিদেশি সরকারি অ্যাকাউন্টধারীদের থেকে অনুমোদিত নির্দেশনার সিংহভাগই পর্যালোচনার জন্য চিহ্নিত করা হয় না।’
প্রসঙ্গত, ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির এ কেলেঙ্কারিকে বলা হচ্ছে আর্থিক খাতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা। এর ফলে বেলজিয়ামভিত্তিক সংস্থা সুইফটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেননা, হ্যাকাররা এ অর্থ চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট ক্রিডেনশিয়াল বা চাবিকাঠি হাতিয়ে নিয়ে ব্যবহার করেছিল। সুইফটের সদস্য বিশ্বের হাজার হাজার ব্যাংক। সুইফট মেসেজিং সিস্টেম ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী আন্তঃব্যাংক লেনদেন অনুমোদন করা হয়। মার্কিন আইনপ্রণেতা ম্যালোনি শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, বাক্সটারের চিঠিতে এই সাইবার হামলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক লেনদেন কাঠামোর নিরাপত্তায় গুরুতর ফাঁকফোঁকর নিয়ে উদ্বেগ এখনও আছে। তিনি আরো জানান, নিউ ইয়র্ক ফেডকে নিজেদের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হবে, যাতে এ ধরনের চুরি আর কখনও না ঘটে।

No comments:

Post a Comment