![]() |
| উৎপাদন খরচের চেয়ে ধানের দর কম হওয়ায় ক্ষুব্ধ চাষিরা গতকাল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খোঁচাবাড়িহাটে মহাসড়কে ধান ফেলে প্রতিবাদ জানান l ছবি: প্রথম আলো |
উৎপাদন
খরচের চেয়েও ধানের দর অনেক কম হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা
গতকাল মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কে ধান ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সদর উপজেলার খোঁচাবাড়ি হাট এলাকায় মহাসড়কে এ প্রতিবাদের সময় আধঘণ্টা
সড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। বাজারে বোরো ধান উঠতে শুরু করেছে। এবার ফলন
দেখে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছিল। তবে বিক্রির জন্য হাটবাজারে ধান নিয়ে গেলে
কৃষকের হাসি মলিন হয়ে যাচ্ছে। গতকাল খোঁচাবাড়ি হাটে গিয়ে ধান ব্যবসায়ী
ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে নতুন ধান ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা মণ
দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মণপ্রতি উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা। ধান
বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের কৃষক উপেন্দ্রনাথ রায় বলেন,
‘এবার ধান বেচায়ে খরচ উঠিবে না। ধান আবাদ করিয়া হামার অবস্থা শেষ হয়ে
গেইছে। ধারদেনা করিয়া আবাদ করছু। ধারদেনা শোধ করিবার লাগি বাধ্য হয়া কম
দামে ধান বিক্রি করিবা লাগিছু।’ সদর উপজেলার ধন্দগাঁও গ্রামের কৃষক আফসার
আলী বলেন, প্রায় এক একর জমিতে চাষ করে ৫৪ মণ ধান পেয়েছেন। জমি তৈরি থেকে
শুরু করে ধান কেটে ঘরে তোলা পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
সে হিসাবে প্রতি মণে খরচ হয়েছে ৬৯৫ টাকা।
ধান
বেচে পাবেন উৎপাদন খরচের চেয়ে মণে দুই শ থেকে আড়াই শ টাকা কম। আফসার
বলেন, ‘ধানের বাজারের এমন অবস্থা হইলে আমরা কেমন করি বাঁচমো।’ সদর উপজেলার
দানারহাট এলাকার কৃষক আবদুস সাত্তার বলেন, সরকার ৫ মে থেকে প্রতি মণ ৯২০
টাকা দরে ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এখনো কেনা শুরু করেনি। এ কারণে
দাম কমে যাচ্ছে। সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক গণেশ রায় বলেন, ‘দাম
না পেয়ে আমরা যখন ধান আবাদ ছাড়ি দিব, তখন সবাই বুঝবে।’ সামশুল আলম নামের
খোঁচাবাড়ি হাটের এক ধান ব্যবসায়ী বলেন, সরকার ধান কেনা শুরু না করায়
বাজারে ক্রেতা কম। আর ক্রেতা কম হলে দাম কিছুটা কমে যায়, এটাই স্বাভাবিক।
বাংলাদেশ
কৃষক সমিতির ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী বলেন, মাড়াই
মৌসুমের শুরুতেই সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনলে কৃষকেরা
ন্যায্যমূল্য পেয়ে লাভবান হতে পারতেন। ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্যশস্য ক্রয়
কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক চৌধুরী মোছাব্বের হোসেন খান বলেন,
কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তালিকা তৈরির কাজ
চলছে। এটা শেষ হলেই সরকারি গুদামে ধান কেনা শুরু হবে। তা ছাড়া জেলায়
মাঠের সব ধান এখনো কাটা শেষ হয়নি। ধান কাটার পর শুকিয়ে গুদামে দেওয়ার
মতো উপযোগী করতেও কৃষকের সময় লাগবে। ন্যায্যমূল্য পেতে হলে গুদামে ধান
কেনা শুরু না হওয়া পর্যন্ত কৃষকদের ধৈর্য ধরতে হবে।

No comments:
Post a Comment