জাতীয়
রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চাপ থাকা সত্ত্বেও চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে টুজি ও
থ্রিজি তরঙ্গের নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়াসহ
টেলিযোগাযোগ খাত-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারণে এ অর্থবছরে তরঙ্গ নিলাম আয়োজন
সম্ভব নয় বলে এনবিআরকে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ
কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, তরঙ্গ নিলামের বিষয়ে গত
মঙ্গলবার এনবিআরের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে চলতি
অর্থবছরে কর-বহির্ভূত আয়ের তালিকায় তরঙ্গ নিলামের আয়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত
না করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ (টুজি) ব্যান্ডের
দুটি ব্লকে ১০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ ও ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ (থ্রিজি)
ব্যান্ডে তিনটি ব্লকে ১৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামের মাধ্যমে বিক্রির জন্য
২০১৪-১৫ অর্থবছরে উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। তবে সিম প্রতিস্থাপন কর
প্রত্যাহার, তরঙ্গ ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা দেওয়াসহ কয়েকটি কারণ
দেখিয়ে গত বছরের ৩০ এপ্রিলের নিলামে অংশ নেয়নি মুঠোফোন অপারেটররা। দুবার
নিলাম তারিখ পেছানোর পরও অপারেটদের অনাগ্রহে নিলাম প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে
যায়। এরপর তরঙ্গ নিলাম নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। জিএসএম বা
টুজির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অপারেটররা ১ হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ ও তৃতীয়
প্রজন্মের থ্রিজি নেটওয়ার্কের জন্য ২ হাজার ১০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহার
করে। সংশোধিত নীতিমালায় অপারেটরদের দাবি অনুযায়ী প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা
দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত করার উদ্যোগও নিয়েছে বিটিআরসি। বিটিআরসির এক ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুটি মুঠোফোন অপারেটরের একীভূত হওয়ার
প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আরও কিছু জটিলতার কারণে চলতি অর্থবছরে তরঙ্গ নিলাম
আয়োজন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি আমরা এনবিআরকে জানিয়ে দিয়েছি।’ শুরুতে টুজি
ব্যান্ডের প্রতি মেগাহার্টজ তরঙ্গের মূল্য ৩ কোটি ডলার আর থ্রিজি
ব্যান্ডের তরঙ্গ মূল্য ২ কোটি ২০ লাখ ডলার ধরা হলেও পরে তা দুই ব্যান্ডের
জন্যই সমান আড়াই কোটি ডলার নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন দরে বিক্রি হলেও
এই তরঙ্গ নিলাম থেকে সরকারের আয় হতে পারে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment