![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প |
যুক্তরাষ্ট্রে
মুসলিমদের প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প
নিজের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন বলে মনে হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার ফক্স
নিউজ রেডিওকে বলেন, নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত তাঁর প্রস্তাব ছিল ‘শুধুই একটা
পরামর্শ’। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র সাদিক খানের এক
বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প এ প্রতিক্রিয়া দেখান। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায়
সাম্প্রতিককালে ট্রাম্প তাঁর মুসলিমবিদ্বেষী নীতি পরিষ্কার করে যে ধরনের
বক্তব্য দিয়ে আসছেন তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লন্ডনের সদ্য নির্বাচিত এই
মেয়র। সাদিক খান বলেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তাঁর প্রশাসনের
অধীন তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না। সাদিকের
এই বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশের
ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞার কথা তিনি বলেছেন, সেটার মধ্যে সাদিক পড়বেন না। তবে
এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সাদিক বলেন, ব্যবসায়ী ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি
‘অজ্ঞতাপ্রসূত’। তাঁর এ ধরনের চিন্তাভাবনা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কম
নিরাপদ’ করবে। গত বছর ফ্রান্সের প্যারিসে ভয়াবহ ধারাবাহিক সন্ত্রাসী
হামলায় ১৩০ জন নিহত হলে রিপাবলিকান পার্টির উগ্রবাদী মনোনয়নপ্রত্যাশী
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। তাঁর এ
প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সমালোচনার ঝড় তোলে। কিন্তু
সুর নরম করে সাম্প্রতিকতম বক্তব্যের আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর প্রস্তাবে অটল
ছিলেন। প্রস্তাবের পেছনে তিনি যুক্তি হিসেবে খাড়া করেন যুক্তরাষ্ট্রের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি। বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সাময়িক
নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব। আর এখন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। কী ঘটতে
চলেছে আমরা সেটা বের করা না পর্যন্ত এটা একটি পরামর্শ মাত্র।’
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে
ট্রাম্পের এখনকার এই বক্তব্য তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। তবে
তিনি এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর অবস্থান পাল্টেছেন। আর সেটা ছিল
ভোটারদের মধ্যে তাঁর অবস্থান মজবুত করার স্বার্থে। মার্কিন প্রতিনিধি
পরিষদের স্পিকার পল রায়ানের সঙ্গে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত
হতে যাচ্ছে। বৈঠকের ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছেন অনেকে। তবে বৈঠকের সঙ্গে
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধের প্রস্তাব বা আহ্বান নিয়ে
ট্রাম্পের সুর নরমের এ ঘটনার সম্পর্ক নেই বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রথম
যখন মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধের প্রস্তাব এনেছিলেন, তখন পল রায়ানের জবাব
ছিল সংক্ষিপ্ত, তবে ধারালো। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা রক্ষণশীলতা নয়।’ ট্রাম্পের
ওই প্রস্তাবে রায়ানের মতো অনেক রিপাবলিকান নেতাই সমালোচনা করেছেন।

No comments:
Post a Comment