![]() |
| বছর জুড়েই নানা আয়োজনে ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখেন কৃষ্ণচূড়ার শিল্পীরা |
‘জরুরি
বৈঠক’ শব্দের একটা সুন্দর সংজ্ঞা শুনবেন? অভিজিৎ পালের কথায় একটু
ভ্যাবচ্যাকা খেলাম। সংজ্ঞা তো জানি—গুরুগম্ভীর চেহারা করে একদল মানুষের
গুরুতর আলাপ! কিন্তু শাহ মো. শাহাদাত হোসেন, ফায়েজুর রহমান, ময়েংবম মেমিতা,
সুনন্দা দত্তরা ভুল শুধরে দিলেন! ‘যে বৈঠকে গান, আবৃত্তি আর কৌতুক ভরা
আড্ডা শেষে নতুন অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে একটুখানি আলাপ হয়, তা-ই জরুরি বৈঠক!’
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) ক্যাম্পাসের ফুচকা চত্বরে বসে আরেকবার
মনে হলো, দুনিয়ায় কত কিছুই না অজানা! শুধু এই পাঁচজনই নন, সিকৃবির
সাংস্কৃতিক সংগঠন কৃষ্ণচূড়ার ৩৫০ জন সদস্য জরুরি বৈঠকের এমন সংজ্ঞাই জানেন!
গায়ক, নাচিয়ে, আবৃত্তি শিল্পী আর তুখোড় সংগঠকদের কৃষ্ণচূড়া সংঘ
ক্যাম্পাসের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন। তাঁদের সঙ্গে আড্ডার শুরুতে তাই বলে
নিতে হলো, ‘আমরা কিন্তু জরুরি বৈঠকে বসিনি!’ কৃষ্ণচূড়া সংঘের সাধারণ
সম্পাদক গোলাম সরোয়ার বোধ হয় সে কারণেই রাখঢাক না করে বলা শুরু করেন,
‘সিকৃবিতে কোনো আয়োজন মানেই কৃষ্ণচূড়া সংঘের উপস্থিতি। আমাদের প্রায় প্রতি
মাসেই অনুষ্ঠান থাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবসের পাশাপাশি বাউল
শাহ আবদুল করিম, ফকির লালন শাহ ও হুতমায়ূন আহমেদ স্মরণানুষ্ঠান, বর্ষবরণ,
নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতাসহ নানা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত হই।’ নাম শুনেও আয়োজনের বৈচিত্র্য
বোঝা গেল। যেমন—বসন্তবরণ অনুষ্ঠানের নাম ‘ফাগুনের মোহনায়’, বর্ষবরণের মূল
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশের ঢোল’, রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তীতে ‘আনন্দ আলোক’
জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে ‘কিংবদন্তির কথা বলছি’
ইত্যাদি। সংগঠনের রয়েছে ত্রৈমাসিক সাহিত্য প্রকাশনা ধূমকেতু। কৃষ্ণচূড়ার
সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শারমীন আক্তার বলেন, ‘আমরা শুধু সাংস্কৃতিক
আয়োজনেই যুক্ত তা নয়, শীতবস্ত্র বিতরণসহ সামাজিক নানা উদ্যোগের সঙ্গেও
একাত্ম হই।’ এসব কাজের জন্য স্বীকৃতিও মিলেছে সংগঠনের সদস্যদের। সরকারের
ইয়ং বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ। সদস্যদের
সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১৫ মে ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করে কৃষ্ণচূড়া সংঘ।
অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন ভূঞার হাতে গড়ে ওঠা এই সংগঠন এখন আলো ছড়াচ্ছে
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। সবার প্রত্যাশা—শুধু ক্যাম্পাসেই নয়,
পুরো দেশেই কৃষ্ণচূড়া একদিন সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে কাজ করবে।

No comments:
Post a Comment