Wednesday, May 4, 2016

বাংলা ১ম পত্র by মো. মাহবুবুর রহমান

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ বাংলা প্রথম পত্রের ‘মেলা’ কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব।
মেলা
# নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও
জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে একটি শিশুসংগঠন রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে উপস্থিত প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘আজকের শিশুরা জাতির আগামী দিনের কর্ণধার। তাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী পৃথিবী।’
ক. কখন রঙের মেলা দেখা যায়?
খ. কবি আলোর পাখি বলতে কী বুঝিয়েছেন?
গ. অনুচ্ছেদে ‘মেলা’ কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘তাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী পৃথিবী।’ উদ্দীপক ও ‘মেলা’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর-ক
প্রতিদিন সকালবেলা রঙের মেলা দেখা যায়।
উত্তর-খ
কবি আলোর পাখি বলতে সকালবেলা পূর্ব দিকে উদিত লাল সূর্যকে বুঝিয়েছেন। এই আলোর পাখির সঙ্গে নবীন প্রাণের আশার আলো ছড়িয়ে দেওয়া শিশু-কিশোরদের তুলনা করেছেন। প্রকৃতির অপূর্ব জগতের মতো শিশু-কিশোরদেরও রয়েছে একটা নিজস্ব জগত্। আকাশের নীলের মধ্যে রয়েছে যে উদারতা, ফুলের মধ্যে রয়েছে যে পবিত্রতা, পাখির গানের মধ্যে রয়েছে যে সুর, তার সবই পেয়েছে শিশু-কিশোরেরা। তাই কবি তাদের সকালবেলা পূর্ব আকাশে উদিত লাল সূর্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
উত্তর-গ
অনুচ্ছেদের সঙ্গে ‘মেলা’ কবিতার মূল বক্তব্যের একটি সুন্দর সুস্পষ্ট মিল লক্ষ করা যায়। প্রকৃতির সঙ্গে শিশুদের মিল রয়েছে। সারা পৃথিবীতে শিশুরা তাদের উদারতা ও সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়। ভালোবাসার ঢেউ বইয়ে দেয় জগতে। দেশ-কালের সীমানা পেরিয়ে অন্তরের ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলতে চায় সুন্দর জগত্।
‘মেলা’ কবিতায় বলা হয়েছে, শিশুরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয় নবীন আশার আলো। তারা গড়ে তুলতে চায় সাজানো বাগানের মতো সুন্দর পৃথিবী, যে পৃথিবী হবে সব মানুষের জন্য অভিন্ন ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল। অন্যদিকে উদ্দীপকের প্রধান অতিথি মনে করেন, এরা ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি স্বপ্নের পৃথিবী গড়ে তুলবে। শিশু-কিশোরেরাই একসময় শান্তির পতাকা ওড়াবে। তাদের অন্তরের স্নেহ-প্রীতির সজীবতা দিয়ে গড়ে তুলবে নতুন জগত্। পৃথিবীর সব শিশু ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দর একটি পৃথিবী গড়ে তুলবে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শিশুদের মধ্যে অপার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। কবির মতো তিনিও বলেছেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের সম্ভাবনা।
উত্তর-ঘ
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত্। তাই শিশু-কিশোরদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সুন্দর ও সমৃদ্ধ পৃথিবীর স্বপ্ন। ‘মেলা’ কবিতায় নতুন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছেন কবি, যে পৃথিবী কিশোরেরাই গড়ে তুলবে। ঠিক তেমনি উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রধান অতিথিও তাঁর বক্তব্যে শিশুদের সারা বিশ্বের সম্ভাবনাময়ী বলে চিহ্নিত করেছেন। ভবিষ্যত্ সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে দেখতে গেলে শিশু-কিশোরদেরই প্রাধান্য দিতে হবে। কবি শিশু-কিশোরদের নবীন প্রাণের উচ্ছ্বাসে নতুন পৃথিবীর জাগরণ প্রত্যাশা করেছেন। এই পৃথিবী হবে আনন্দময় ও বিভেদহীন। শিশু-কিশোরেরা দেশ-কালের সীমানা ভেঙে অন্তরের ভালোবাসা দিয়ে সাজানো বাগানের মতো সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলবে। আর শিশু-কিশোরদের এই সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার ভিত্তি হলো প্রকৃতি। আকাশের নীলের মধ্যে যে উদারতা রয়েছে, ফুলের মধ্যে যে পবিত্র সুবাস রয়েছে, পাখির গানের মধ্যে যে সুর রয়েছে, তার সবই পেয়েছে শিশু-কিশোরেরা। প্রকৃতির সৌন্দর্যে শিশু-কিশোরেরা সুন্দর মনের মানুষ হয়ে ওঠে এবং সুন্দর মনের স্নেহ-প্রীতির প্রকাশ ঘটিয়ে বিশ্বজগেক সুন্দর করে তোলে। আলোচনা শেষে বলা যায়, কবি যেমন শিশুদের ভবিষ্যত্ পৃথিবী গড়ে তোলার কান্ডারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, তেমনি উদ্দীপকের প্রধান অতিথিও শিশুদের আগামী দিনের সমৃদ্ধিশালী পৃথিবী গড়ে তোলার কর্ণধার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সহকারী শিক্ষক
ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

No comments:

Post a Comment