Tuesday, May 24, 2016

সরকার চায় বিদ্যালয় পরিবেশবাদীরা মাঠ

বাসাবো খেলার মাঠের চারদিকে সীমানাপ্রাচীর
নির্মাণ করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর
ছবি: প্রথম আলো
উচ্চ আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বাসাবো বালুর মাঠে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গায় দেয়াল তোলার কাজ শুরু করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, নির্ধারিত জায়গার অতিরিক্ত দখলে নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবাদীরা মাঠে স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন। সরকারের ঢাকা শহরে ১১টি স্কুল এবং ৬টি কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে বাসাবো বালুর মাঠে স্কুল-কলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ২০১১ সালে পরিবেশবাদীরা মাঠে স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা করে উচ্চ আদালতে রিট করেন। এ বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি আদালত রিট খারিজ করে স্কুল নির্মাণের পক্ষে নির্দেশ দেন। প্রকল্পের পরিচালক স্বপন চন্দ্র পাল প্রথম আলোকে বলেন, এলাকার ঘনবসতির কথা বিবেচনা করেই সরকার এখানে স্কুল-কলেজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সরকারি স্কুল হলে এলাকার লোকজনই উপকৃত হবে। এলাকার জনসাধারণ চায় স্কুল হোক। এখন সেখানে রিকশার গ্যারেজ, টেম্পোস্ট্যান্ড, অবৈধ দোকান আছে। ১৮ মে বালুর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের উত্তর পাশে দেয়াল তোলার কাজ চলছে। দেয়াল দিয়ে ঘেরা জায়গায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্কুল নির্মাণ বিষয়ে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। স্কুলের নির্ধারিত জায়গায় এখনো রিকশার একাধিক গ্যারেজ আছে। সেখানে রিকশা রেখে চালকেরা বিশ্রাম নিচ্ছেন, চলছে রিকশা মেরামতের কাজ। বাসাবো বালুর মাঠ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব হানিফ শহীদ বলেন, হাইকোর্টের রায় এখনো মুদ্রিত হয়নি। কোনো দরপত্র হয়নি। তারপরেও কীভাবে দেয়াল তোলা হচ্ছে? মহানগর জরিপের ৫ হাজার ৫৩৭ নম্বর দাগে দেয়াল তোলা হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাইনবোর্ডে লিখেছে, দুই একর জায়গায় স্কুল হবে। অথচ, সেখানে জায়গার পরিমাণ ৩ একর ৬৮ শতাংশ আছে। বাসাবো বালুর মাঠ রক্ষা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলেন, বালুর মাঠে দেয়াল তোলার কাজ করছেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদ হাসান। তাঁরা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত জায়গা নিয়ে দেয়াল তোলা হচ্ছে। আর বালুর মাঠে থাকা রিকশার গ্যারেজও বসিয়েছেন মাসুদ হাসান। এ বিষয়ে মাসুদ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বালুর মাঠ এলাকায় আমার কোনো গ্যারেজ বা দোকান নেই। দেয়াল তোলার কাজের সঙ্গেও আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। এলাকার ভেতরে বলে মাঝেমধ্যে কেমন কাজ হচ্ছে, দেখতে যাই।’ পরিবেশবাদীরা বলছেন, বাসাবো এলাকাটি এমনিতেই অনেক ঘনবসতিপূর্ণ। ফাঁকা জায়গা নেই বললেই চলে। সেখানে মাঠে স্কুল-কলেজ নির্মাণ করা হলে এলাকার লোকজনের মুক্ত বাতাস নেওয়ার উপায় থাকবে না। সকাল-সন্ধ্যায় হাঁটাচলার জায়গাও হারিয়ে যাবে। প্রকল্প পরিচালক স্বপন চন্দ্র পাল বলেন, স্কুল-কলেজের জন্য তিন একর জায়গা বরাদ্দ ছিল। মাঠের দক্ষিণ পাশে এক একর জায়গা ছেড়ে দুই একর জায়গায় স্কুল তৈরি করা হবে। ফলে স্কুল হলেও হাঁটার জায়গা থাকবে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে তিন-চার বছর কাজ বন্ধ ছিল। এখন কাজ শুরু হয়েছে। নতুন অবকাঠামো দিয়ে স্কুলটি বানানো নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যেও উৎসাহ আছে।

No comments:

Post a Comment