Thursday, May 12, 2016

বৃষ্টি কমে বেড়েছে গরম

এপ্রিল মাসজুড়ে বৃষ্টির দেখা মেলেনি। এ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। মে মাসেও পরিস্থিতির কোনো হেরফের হয়নি। এ মাসের প্রথম দু-এক দিন হালকা ঝড়কে সঙ্গী করে বৃষ্টি ঝরেছিল দেশের কোথাও কোথাও। তারপর সব যেন উধাও হয়ে গেছে। অনাবৃষ্টির সুযোগটা বেশ ভালোই কাজে লাগাচ্ছে সূর্য। গরম বেশ বেড়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ১৪৭ মিলিমিটার। তবে এ সময় এই এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৩৭ মিলিমিটার। একইভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৭ দশমিক ৫, বরিশালে ৮৯ দশমিক ৯, খুলনায় ৭৪ দশমিক ৮, রংপুরে ৯২ দশমিক ৫ মিলিমিটার ও রাজশাহী বিভাগে ১ দশমিক ৩ মিলিমিটার কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে সব বিভাগের চেয়ে আলাদা ছিল সিলেট। এই বিভাগে এপ্রিল মাসে ৬৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২৩ দশমিক ১ মিলিমিটার বেশি। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫২ ভাগ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া ৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের অনেক স্থানের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এই তাপপ্রবাহ ১০ ও ১১, ২২ থেকে ২৫ এবং ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগের কোনো কোনো অঞ্চলে তীব্র আকার ধারণ করে। এপ্রিল মাসের ২৯ তারিখ ছিল উষ্ণতম দিন। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এপ্রিলের মতো মে মাসেও তেমন একটা বৃষ্টির দেখা মিলছে না। মে মাসের ১২ দিনের মধ্যে ঢাকায় ১, ৮ ও ১০ তারিখে বৃষ্টি হয়েছে। সিলেট বিভাগেও কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। গতকাল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফেনীতে ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এবং টাঙ্গাইল ও পটুয়াখালী জেলায় কিছুটা বৃষ্টি হলেও দেশের অন্য সব স্থান ছিল শুষ্ক। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি, খুলনা, মংলা, সাতক্ষীরা অঞ্চলসহ বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এপ্রিল মাসে গরম বেশি পড়েছিল। তবে দক্ষিণের বাতাস ছিল এ সময়। আর্দ্রতা কম ছিল। কিন্তু মে মাসে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি। তাই মানুষের শরীরে অস্বস্তি বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে বৃষ্টি কবে হবে সেটি বলা যাচ্ছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে সিলেটে ১৯ দিন বৃষ্টি হবে। ঢাকায় বৃষ্টি হবে ১৪ দিন, চট্টগ্রামে ১২ দিন, রাজশাহীতে ১১ দিন, রংপুরে ১২ দিন, খুলনায় ১০ দিন ও বরিশালে ১২ দিন বৃষ্টি হবে। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

No comments:

Post a Comment