![]() |
| গলায় সোনার পদক। হাতে ফুল আর ক্রেস্ট। সংবর্ধনায় সিক্ত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ দলের চ্যাম্পিয়ন মেয়েরা। কাল বাফুফে ভবনে l শামসুল হক |
ফুটবল
ফেডারেশন ভবনে ঢোকার মুখেই বিশাল আকারের কয়েকটি হোর্ডিং। তাতে বাংলাদেশ
অনূর্ধ্ব-১৪ দলের মেয়েদের হাস্যোজ্জ্বল সব ছবি, পোস্টার। তিনতলার সংবাদ
সম্মেলনকক্ষ তো যেন বিয়েবাড়ি! চারদিকে ফুলে ফুলে সাজানো। রঙিন বেলুন
দিয়ে দরজায় বানানো হয়েছে ‘রংধনু’। কক্ষের ভেতরেও বেলুন আর ফুলের সমারোহ।
এত আয়োজনের মধ্যমণি এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ মেয়েদের ফুটবলে সদ্য চ্যাম্পিয়ন
হওয়া বাংলাদেশ দল। গত বছর নেপালে এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর
মার্জিয়াদের সাদামাটা সংবর্ধনাই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার সেটা হলো
জমকালো। ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ কমিটির সবাই
উপস্থিত ছিলেন কাল। বাংলাদেশ সুপার লিগের (বিএসএল) স্বত্ব কিনে নেওয়া সাইফ
পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন চ্যাম্পিয়ন দলের
খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন ক্রেস্ট আর আর্থিক পুরস্কার।
তিন দিন ধরে সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মার্জিয়া, তহুরা, মারিয়া,
আনুচিংরা। কাজী সালাউদ্দিন কাল আরেকবার বললেন, ‘ক্যামেরা, মিডিয়া দিস টাইম
প্লিজ ফোকাস অন দিস ইয়াং গার্লস। দে আর দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ।’
ভবিষ্যতের তারকা ফুটবলারদের গর্বে আরেকবার গর্বিত সালাউদ্দিন বলে যান, ‘এই
কিশোরীদের অন্তরের অন্তস্তল থেকে শুভেচ্ছা। তোমরা যে কীর্তি গড়েছ,
তোমাদের নিয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের আজ কথা বলার অধিকার নেই। আমরা আজ
তোমাদের কথাই শুনব। আশা করব এই খেলাটা তোমরা নিয়মিত খেলে যাবে, যাতে
তোমাদের কথা বোকার মতো শুনি। এটাই আমার শখ।’ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন
এমন সাফল্যের পেছনের রহস্যটা তুলে ধরলেন সবার সামনে, ‘আমরা সব সময় শৃঙ্খলার
ওপর বেশি জোর দিয়েছি। ওরা গত দুই মাস পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। ওদের
মনোবল বাড়িয়েছি আমরা। এ জন্যই ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে দু-দুবার
হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’ মহিলা উইংয়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার
কিরণের চোখ এখন সুদূরে, ‘এবার আমাদের উদ্দেশ্য অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ
বাছাইপর্ব পেরোনো।’ অনুষ্ঠানে সবার সামনে নিজেদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছে
সর্বোচ্চ গোলদাতা তহুরা, অধিনায়ক মার্জিয়া। ভারতের কোচ, কর্মকর্তারা
শুরুতে পাত্তাই দিতেন না বাংলাদেশের মেয়েদের। তাদের অধিনায়ক থাইল্যান্ড
দেবী তো নাকি খেলা শুরুর সময় হাত মেলাতে গিয়েও মার্জিয়াকে তাচ্ছিল্য করত!
অপমানের জবাব মাঠেই দিয়ে এসেছে মার্জিয়ার দল। ময়মনসিংহের কলসিন্দুর গ্রামের
কিশোরী বলছিল, ‘আমরা ওদের সমীহ আদায় করে নিয়েছি। প্রথম ম্যাচে হারানোর
পর টিম হোটেলে আমাদের সঙ্গে দেখা হলেই ওরা বলত, গুড মর্নিং স্যার, গুড
মর্নিং ম্যাডাম। অথচ আগে কথাই বলত না।’ টানা দুবার এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপে
আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। কিন্তু এখানেই থেমে যেতে চায় না কিশোরী
অধিনায়ক মার্জিয়া, ‘এবার ১০ এপ্রিল থেকে ক্যাম্প শুরু করেছিলাম। অল্প সময়ের
অনুশীলনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এই ক্যাম্পটা নিয়মিত করে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬
ফুটবলের চূড়ান্তপর্বে যেতে চাই আমরা।’

No comments:
Post a Comment