Wednesday, May 4, 2016

সানডেতে আলোকিত আবাহনী

আবাহনীর হ্যাটট্রিক হিরো সানডে। কাল
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে l প্রথম আলো
আশির দশক হলে হয়তো এই ম্যাচের ফল নিয়ে খুব বেশি আহ্লাদিত হতো না আবাহনী। কিন্তু গত কয়েক বছরে আবাহনীর ঘরে নেই কোনো ট্রফি। এমন খেলা এত দিন যেন শুধু স্বপ্নেই খেলতে চেয়েছেন ক্লাবটির ফুটবলাররা। চোখ জুড়ানো সব গোলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের কালকের সন্ধ্যাটা আলোকিত করেছে ধানমন্ডির এই ক্লাব। আরও নির্দিষ্ট করে বললে এই সন্ধ্যা ছিল আসলে আবাহনীর নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে সিজোবার। বল পায়ে যা করতে চেয়েছেন, তা-ই হয়েছে। একাই করেছেন চার গোল। আর তাতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব যেন উড়ে গেল খড়কুটোর মতো! স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে আবাহনীর জয়ের ব্যবধান ৬-০। পাঁচ বছর পর আবারও কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল তারা। ৭ মের ফাইনালে আবাহনী অপেক্ষায় থাকবে আজকের ম্যাচের শেখ রাসেল ও চট্টগ্রাম আবাহনীর জয়ী দলের জন্য। এত দিন যে গ্যালারি থেকে ভেসে আসত কর্মকর্তাদের প্রতি গালিবর্ষণ, সেই গ্যালারিই কাল ছিল সবচেয়ে প্রাণচঞ্চল। আকাশী-নীল সমর্থকেরা নেচেছে, গেয়েছে। স্লোগান দিয়েছে আবাহনীর নামে। কিন্তু স্কোরলাইন দেখে কি বোঝার উপায় আছে, এই ম্যাচের প্রথমার্ধই ছিল গোলশূন্য! এই মৌসুমে আবাহনীতে যোগ দিয়েছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড লি টাক। আক্রমণের ধার বাড়াতে তাঁর সঙ্গী ছিলেন সানডে সিজোবা ও কামারা সারবা। এই ত্রিফলার বিপরীতে শেখ জামালে ল্যান্ডিং দারবোয়ে, ওয়েডসন আনসেলমে ও এমেকা ডার্লিংটন। কিন্তু কাল এমেকাকে পুরো সময় বোতলবন্দী করে রাখে আবাহনী। ওয়েডসনকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি মাঠে। তিন বিদেশিনির্ভর দলটি ছিল ফ্লপ। এমন হারের কোনো অজুহাত হয় না। ম্যাচ শেষে সেটা খোঁজার চেষ্টাও করলেন না শেখ জামাল কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক, ‘কোনো কারণই খুঁজে পাচ্ছি না। অনেক সময় বড় দলেরও বাজে দিন যায়। আমাদেরও দিনটা বাজে গেছে। কোনো কৌশলই কাজে আসেনি।’ আসলেই তা-ই। প্রথমার্ধে যে কয়েকটি আক্রমণ শানিয়েছে শেখ জামাল, কোনোটাই গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে আবাহনীও অন্য চেহারায়। কখনো জুয়েল রানার ক্রসে দুর্দান্ত হেড সানডের। কখনো সানডের দূরপাল্লার শটে লক্ষ্যভেদ। গোল করে সানডে একবার হামাগুড়ি দিয়ে উদ্যাপন করেন তো আরেকবার সতীর্থদের সঙ্গে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ খেলেন! ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনের বেশির ভাগ অংশজুড়েও রইলেন সানডে, ‘এমন একটা ম্যাচ খেলতে পেরে খুব খুশি। আমরা আজ (গতকাল) একটা দল হয়ে খেলেছি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ফাইনালে উঠতে পেরেছি।’ সানডের ৪ গোলের দুটিতে অবদান জুয়েল রানার। সানডের মুখে তরুণ এই মিডফিল্ডারেরও প্রশংসা ঝরল, ‘জুয়েল খুবই প্রতিভাবান ফুটবলার। মাঠে সে আমাকে ভালোভাবে বুঝতে পারে। ওর ফুটবল-মেধা চমৎকার।’ স্ত্রী অসুস্থ থাকায় দেশে ফিরে গেছেন আবাহনীর ক্রোয়াট কোচ দ্রাগো মমিচ। তবু ভারপ্রাপ্ত কোচ অমলেশ সেনের মনে কখনোই হারের শঙ্কা জাগেনি, ‘আমি জানতাম ম্যাচে আমরাই জিতব। এমন কিছু গোল হয়েছে, যা দেখে আমিও মুগ্ধ।’ ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লি টাক এগিয়ে নেন আবাহনীকে। ৫০ মিনিটে ২-০ করেন সেই লি টাকই। এরপরই শুরু সানডের গল্প। ৬০ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে করেন ৩-০। ৬৪ ও ৮১ মিনিটে পরপর দুই গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সানডে। ৮৩ মিনিটে শেখ জামালের কফিনে শেষ পেরেকটিও ঠুকেছেন তিনিই। সানডের উৎসবের রাতে নিশ্চয়ই শেখ জামালের ফুটবলাররা ছিলেন নির্ঘুম!

No comments:

Post a Comment