Sunday, May 8, 2016

১০০ শেভিং ব্রাশ বাতিল করেছিলেন সত্যজিৎ!

সত্যজিৎ রায়
নির্মাতা হিসেবে সত্যজিৎ রায় ছিলেন বেশ খুঁতখুঁতে। খুঁতখুঁতে নয়, বরং ‘পারফেকশনিস্ট’ শব্দটিই তাঁর ক্ষেত্রে মানানসই। সব কাজ গুছিয়ে করতেন এই বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা। কোনো দৃশ্য মনের মতো না হওয়া পর্যন্ত চলত দৃশ্যধারণের কাজ। এ জন্য কাউকেই কোনো ছাড় দিতেন না তিনি। ২ মে ছিল এই প্রয়াত নির্মাতার ৯৫তম জন্মবার্ষিকী। কলকাতায় তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উঠে আসে তাঁর সম্পর্কে অজানা অনেক মজার তথ্য। গতকাল শনিবার ভারতের কলকাতায় সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নির্মাতার ২১টি ছবির সহকারী পরিচালক সুব্রত লাহিড়ী জানান, ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ ছবির জন্য বর্ষীয়ান নির্মাতা সত্যজিৎ বলিউডের সঞ্জীব কুমার, শাবানা আজমি ও আমজাদ খানের মতো দাপুটে অভিনয়শিল্পীদেরও অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে বাধ্য করেছিলেন। সেই ছবির একটি দৃশ্যে একটি বাতি ছিল। কিন্তু সিনেমার দৃশ্যধারণের সময় ঠিকভাবে সেটিকে পর্দায় আনতে পারছিলেন না চিত্রগ্রাহক। আর যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই দৃশ্য তাঁর মনমতো হচ্ছিল, ততক্ষণ একের পর এক টেক দিতে হয়েছিল অভিনয়শিল্পীদের। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তাঁরা একটি দৃশ্য শেষ করার জন্য বসেছিলেন। আরেকবার উত্তমকুমার অভিনীত ছবি ‘নায়ক’–এর একটি দৃশ্যের জন্য ১০০টি শেভিং ব্রাশ বাতিল করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। কোনো শেভিং ব্রাশই নাকি পছন্দ হচ্ছিল না এই পরিচালকের। আর এই একটি দৃশ্যের জন্য কয়েক দিন সময় নিয়েছিলেন তিনি। এই মজার তথ্যটি জানিয়েছেন রমেশ সেন, যিনি সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে ৩০টিরও বেশি ছবিতে সহকারী পরিচালক ও সম্পাদকের কাজ করেছেন। তিনি আরও জানান, পরে আরেক পরিচালক তরুণ মজুমদারের বাড়ি থেকে একটি শেভিং ব্রাশ এনে শুটিংয়ে ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘নায়ক’ মুক্তি পায় ১৯৬৬ সালে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

No comments:

Post a Comment