রোগী
ডাক্তারের কাছে বেশ সিরিয়াস হয়ে জানালেন, গরমে তার কী কী সমস্যা হয়।
জানালেন এসব সমস্যা তিনি মোকাবেলা করতে গিয়ে খুবই কান্ত। তিনি ডাক্তারকে
আরো জানালেন, এসব সমস্যা আর মোকাবেলা করতে চান না। তাকে যেন এমনই ওষুধ লিখে
দেয়া হয়, যা সেবনে তিনি পুরো সিজনে থাকতে পারেন হিমশীতল। সব শুনে ডাক্তার
পরপর কয়েক দফা ভ্রƒ কুঁচকানোর পর মাথা চুলকালেন। দাঁত দিয়ে হালকাভাবে ঠোঁট
কামড়ালেন। তারপর বেশ গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি বিয়ে করেছেন? রোগী
উত্তর দিলেন, না। এবার ডাক্তার আচমকা বেশ আত্মবিশ্বাসী হলেন। কলমদানি থেকে
কলম নিলেন দ্রুতই। খচখচ করে প্রেসক্রিপশনে লিখলেন, অতীব অল্পসময়ে আপনার
বিয়ের এন্তেজাম করুন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ওই গরমের রোগী দ্রুতই বিয়ের
এন্তেজাম করেছেন কি না সেটি জানা যায়নি। তবে এটি তো অন্তত সবারই জানা রয়েছে
যে, গোসল গরমের জন্য জব্বর পথ্য। ঠাণ্ডা পানির গোসল আর কী! যত করবে ততই
শীতলতা অনুভূত হতে বাধ্য। গরমে কেউই ঘর ছেড়ে বের হতে চান না। কিন্তু
সবাইকেই বের হতে হয়। একান্ত বাধ্যতার ভিত্তিতে আর কি! বাধ্য হয়ে যারা ছাতা
নিয়ে বের হন, তারা শেষ পর্যন্ত সবাই যে, ছাতা ফেরত আনতে পারেন এমনটি কিন্তু
নয়। কখন কোন ফাঁকে কোথায় হারিয়েছেন, তা তিনি বারবার মনে করার ব্যর্থ
চেষ্টাটুকুই শুধু করতে পারেন সফলভাবে! প্রকৃতি বিশেষজ্ঞরা বের হওয়ার সময়
ঠাণ্ডা পানি আর ছাতার কথাটুকুই বলছেন ঘুরেফিরে। গরমকে তাড়িয়ে কী কায়দায়
নগদে শীত আনয়ন করা যেতে পারে এমন কিচ্ছু তারা এখনো বলতে পারেননি। ফলে ছাতা
আর বোতলজাত পানির ব্যবসায় অলওয়েজ চাঙ্গা। তবে ওই সব বিশেষজ্ঞের কারো ছাতা
বা পানির ব্যবসায় রয়েছে কি না সেটি কিন্তু তদন্তসাপেক্ষ। অবশ্য তদন্তের কথা
না বলাই ভালো। কারণ আজকাল সব ব্যাপারেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
একদম ঢোল
তবলা বাজিয়ে গঠন করা হয়। তার পর সেই তদন্ত যে হারে ডিগবাজি খেতে থাকে একের
পর এক; তা গুনে শেষ করা কারো পক্ষেই পসিবল নয়। অতঃপর সেটি আলোর মুখ দেখার
বদলে অন্ধকারে হয় বিলীন। পকেটমার বা আমাদের পকেট শিল্পীরা কিন্তু অত্যন্ত
পছন্দ করে থাকেন। কারণ আর যাই হোক গরমে কেউই জনবহুল স্থানে পকেটে হাত গুঁজে
রাখেন না। গরমের সাথে মুখরা বিবির সম্পর্ক না কি গলায় গলায়। চরম গরমে
মুখরা বিবির হেড হয়ে থাকে অগ্নিগরম। যার দরুণ সব সময় তাদের হাতের কাছে শোভা
পায় বেলন বা ক্ষুন্তি টাইপের বস্তু। বুদ্ধিমান স্বামীরা অবশ্য এই পুরো
সিজনেই বিবির গুণগানে মুখর হয়ে থাকেন একান্ত ভক্তভঙ্গিমায়। লবণের
ছিটেফোঁটা না দেয়া তরকারি মুখে দিয়ে বলেন, বাহ, লবণবিহীন তরকারি এত স্বাদ
হতে পারে তা আগে মোটেও জানা ছিল না।
অফিসের বস অবশ্য এসি রুমে বসেই চালিয়ে
যান তার গরম মেজাজের মাজেজা। এটি অবশ্য বসের বিশেষ গুণ ছাড়া আর কি-ই বা হতে
পারে। বস বলে কথা। কথার নাম লতা। লতার মতোই কথা বাড়তে থাকে তরতরিয়ে। আপাতত
বাড়ছে গরমের কথাটুকুই। ছাত্র হোমওয়ার্কের অঙ্ক খাতা জমা না দিয়ে প্রচণ্ড
গরমে গায়ে চাদর জড়িয়ে বসে আছে। খাতা না পেয়ে শিক্ষক দাঁত কটকট করতে করতে
এগিয়ে গেলেন তার দিকে। চাদর জড়ানো দেখে অবশ্য গোসসা ঠাণ্ডা করে কপালে হাত
রাখতে রাখতে বলছেন, তোমার বুঝি খুব জ্বর। কিন্তু শরীর ঠাণ্ডা দেখে অবাক হয়ে
এই গরমে চাদর জড়িয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলেন। ছাত্র দাঁড়িয়ে জানালÑ
‘স্যার, আমি কাজী নজরুল ইসলাম হওয়ার চেষ্টা করছি।’

No comments:
Post a Comment