![]() |
| চীনা প্রতিষ্ঠান জিনতং তিয়ান্ডির বিরুদ্ধে ব্র্যান্ড নাম নিয়ে মামলায় অ্যাপল হারলেও একই ধরনের মামলায় ঝংসান পার্ল রিভারের বিপক্ষে জিতেছে ফেসবুক l বিবিসি |
যুক্তরাষ্ট্রের
অনেক প্রযুক্তিভিত্তিক সেবাই চীনে নিষিদ্ধ। হয়তো আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতেই
তাদের এ উদ্যোগ। তবে বেরসিক পশ্চিমারা দুষ্টুমি করে চীনের মহাপ্রাচীরের
অনুকরণে এর নাম দিয়েছে ‘গ্রেট ফায়ারওয়াল অব চায়না’। কৌতুক যতই করুক, চীনা
বাজারের দখল পেতে মার্কিন নির্বাহীদের দৌড়ঝাঁপের কমতি নেই। চীনা কমিউনিস্ট
সরকারও গোঁ ধরে বসে আছে। তবে মার্কিনিদের বিপক্ষে ঠিক অবিচারের পক্ষপাতী
তাঁরা নন। ব্যাপারটা খুলে বলা যাক। অন্যান্য অনেক সেবার মতো ফেসবুকও চীনের
‘মহাপ্রাচীর’ ভেদ করতে পারেনি। তবে ব্র্যান্ড হিসেবে ‘ফেসবুক’ কিন্তু
সেখানে বেশ জনপ্রিয়। এতটাই জনপ্রিয় যে কোমল পানীয়র নাম হিসেবেও তারা বেছে
নিয়েছে ফেসবুক। চীনা প্রতিষ্ঠান ঝংসান পার্ল রিভার ২০১৪ সালে তাদের পানীয়
এবং চিপসের ব্র্যান্ড হিসেবে ‘ফেস বুক’ নিবন্ধন করে। ব্যাপারটা জাকারবার্গ
বাহিনীর নজরে এলে তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন চীনা
আদালতে। আদালত কিন্তু চীনা ‘ফেস বুক’ না বরং রায় দিয়েছে মার্কিন ফেসবুকের
পক্ষে। আদালতের রায় বলছে, চীনা প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছাকৃতভাবে স্বনামধন্য এক
প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড নাম নকল করতে চেয়েছিল যা নৈতিক মূল্যবোধের
পরিপন্থী। ২৮ এপ্রিল এই রায় প্রকাশিত হলেও তা শুধু চীনা ভাষায় ছিল বলে এত
দিন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোর নজরে আসেনি। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম
চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনের ইংরেজি সংস্করণের ফেসবুক পেজ থেকে খবরটি প্রচার
করা হলে সবার নজরে পড়ে। চীনা প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য উচ্চ আদালতে আবেদন
করেছিল, তবে আদালত আগের রায় বহাল রেখেছে। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, এমন
ধরনের কাজ অবশ্যই বন্ধ করা উচিত। ফেসবুকের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য অবশ্য
এখনো পাওয়া যায়নি। দিন কয়েক আগেই চীনা এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলায়
হেরেছে অ্যাপল। ঘটনা সেই একই। চামড়াজাত পণ্যের ব্র্যান্ড নাম হিসেবে জিনতং
তিয়ান্ডি ‘আইফোন’ নিবন্ধন করে। অ্যাপলের জন্য দুর্ভাগ্যই বটে। সে মামলায়
হেরে আইফোন ‘ভাগাভাগি’ করে নিতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠান দুটিকে। শুরুতে মার্কিন
নির্বাহীদের দৌড়ঝাঁপের কথা বলেছি। এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হিসেবে ফেসবুক
সহপ্রতিষ্ঠাতার নাম করা যায়। চীনে সাম্প্রতিক এক সফরে প্রচণ্ড দূষণের
মধ্যেও তিয়ানমেন স্কোয়ারে মাস্ক ছাড়াই দৌড়ান তিনি। মার্কের মনে কী ছিল কে
জানে। তবে সমালোচকেরা বলছে, চীনাদের মন জয় করে দেশটিতে ফেসবুকের অনুপ্রবেশ
ঘটানোই মার্কের লক্ষ্য ছিল।

No comments:
Post a Comment