একাত্তরে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমীর
মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে।
আগামীকাল ৫ই মে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন প্রধান বিচারপতি
সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। বেঞ্চের অন্য
সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। গত ৬ই জানুয়ারি নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল
রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পরে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হওয়ার পর ২৯শে
মার্চ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন নিজামী। গতকাল এ সংক্রান্ত শুনানি
শেষ হলো। এদিকে রিভিউয়ের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে শেষ সুযোগ হিসেবে
প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের সুযোগ পাবেন নিজামী। যদি তিনি
প্রাণভিক্ষার আবেদন না করেন কিংবা আবেদন করার পর তা নাকচ হয়ে যায়, তবে
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকবে না।
গতকাল সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে নিজামীর পক্ষে শুনানি শুরু করেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। আপিলের রায়ে যে তিনটি অভিযোগে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল সেই তিনটি অভিযোগে নিজামীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না মর্মে সর্বোচ্চ আদালতে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। ১৯৭৪ সালে সিমলা চুক্তির পর পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিষয়টি উল্লেখ করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যারা সরাসরি এদেশে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের ক্ষমা করে দিয়ে চুনোপুঁটিদের বিচার করা হচ্ছে। মূল হোতাদের ছেড়ে দিয়ে মতাদর্শের কারণে সমর্থনকারীদের বিচার করা হচ্ছে। এখন মূল আসামিদের বিচার না করে তাদের সহযোগীদের চরম দণ্ড দেয়া যায় না। শুনানিতে তিনি বলেন, ১ হাজার পৃষ্ঠার জাজমেন্ট, এত শ্রম, অর্থ ব্যয় করে এ বিচারকাজ হচ্ছে। এত কিছু না করে সরাসরি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলেই হয়। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি ওখানে দাঁড়িয়ে এ কথা বলতে পারেন। কিন্তু কাদের মোল্লার রায়ে আমরা এটা পরিষ্কার করেছি। আমরা বিচারের নামে তামাশা করতে চাই না। সারাবিশ্ব এ বিচার পর্যবেক্ষণ করছে। বিচারে মানবাধিকার ও আইনি অধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেদিকটি লক্ষ্য রেখেই এ বিচারকাজ হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি নিজামীর আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, আপনি স্বীকার করছেন যে, উনি (নিজামী) পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ছিলেন। তিনি যে অপরাধ করেছেন এটা প্রমাণে এই স্বীকার করাটাই কি যথেষ্ট নয়? সকাল ১১টা পর্যন্ত নিজামীর পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে ও আলবদর নেতা হিসেবে নিজামীর অবস্থান তুলে ধরে আদালতকে অবহিত করেন যে, যথেষ্ট তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছে। সুতরাং এই রায়কে পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। মাঝখানে আধ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে উভয়পক্ষে শুনানি শেষে ৫ই মে বৃহস্পতিবার রিভিউয়ের রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়ে দেন আদালত।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যারা মূল আসামি (১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী) তাদের ছেড়ে দিয়ে যারা সহযোগী ছিল তাদের বিচার হতে পারে না। তিনি বলেন, এ মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিল অত্যন্ত দুর্বল। বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী হত্যার যেসব অভিযোগ তাতে বিগত ৪০ বছরে নিজামীকে জড়িয়ে কেউ কোথাও কিছু বলেনি। কিন্তু ৪০ বছর পর ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষীরা শেখানো কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা আশাবাদী। সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশী। এরপর ভবিষ্যৎ ও ইতিহাসই এটি বিবেচনা করবে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি ও ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিষয়টি আসামিপক্ষ এর আগের মামলাগুলোতেও উল্লেখ করেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইন এ চুক্তির আগেই করা হয়েছিল। তাই এ আইনে বিচার চলতে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, ৫ জন যদি পালিয়ে যায় বাকিদের বিচার হবে না-এমন তো আইনে নেই। সমস্ত তথ্য উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণ করেই এ বিচারকাজ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা পুনর্বিবেচনার কিছুই নেই। তাই সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকার বিষয়ে আমরা সমপূর্ণ আশাবাদী। এই রায়কে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই।
গতকাল সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে নিজামীর পক্ষে শুনানি শুরু করেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। আপিলের রায়ে যে তিনটি অভিযোগে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল সেই তিনটি অভিযোগে নিজামীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না মর্মে সর্বোচ্চ আদালতে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। ১৯৭৪ সালে সিমলা চুক্তির পর পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিষয়টি উল্লেখ করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যারা সরাসরি এদেশে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের ক্ষমা করে দিয়ে চুনোপুঁটিদের বিচার করা হচ্ছে। মূল হোতাদের ছেড়ে দিয়ে মতাদর্শের কারণে সমর্থনকারীদের বিচার করা হচ্ছে। এখন মূল আসামিদের বিচার না করে তাদের সহযোগীদের চরম দণ্ড দেয়া যায় না। শুনানিতে তিনি বলেন, ১ হাজার পৃষ্ঠার জাজমেন্ট, এত শ্রম, অর্থ ব্যয় করে এ বিচারকাজ হচ্ছে। এত কিছু না করে সরাসরি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলেই হয়। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি ওখানে দাঁড়িয়ে এ কথা বলতে পারেন। কিন্তু কাদের মোল্লার রায়ে আমরা এটা পরিষ্কার করেছি। আমরা বিচারের নামে তামাশা করতে চাই না। সারাবিশ্ব এ বিচার পর্যবেক্ষণ করছে। বিচারে মানবাধিকার ও আইনি অধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেদিকটি লক্ষ্য রেখেই এ বিচারকাজ হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি নিজামীর আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, আপনি স্বীকার করছেন যে, উনি (নিজামী) পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ছিলেন। তিনি যে অপরাধ করেছেন এটা প্রমাণে এই স্বীকার করাটাই কি যথেষ্ট নয়? সকাল ১১টা পর্যন্ত নিজামীর পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে ও আলবদর নেতা হিসেবে নিজামীর অবস্থান তুলে ধরে আদালতকে অবহিত করেন যে, যথেষ্ট তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছে। সুতরাং এই রায়কে পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। মাঝখানে আধ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে উভয়পক্ষে শুনানি শেষে ৫ই মে বৃহস্পতিবার রিভিউয়ের রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়ে দেন আদালত।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যারা মূল আসামি (১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী) তাদের ছেড়ে দিয়ে যারা সহযোগী ছিল তাদের বিচার হতে পারে না। তিনি বলেন, এ মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিল অত্যন্ত দুর্বল। বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী হত্যার যেসব অভিযোগ তাতে বিগত ৪০ বছরে নিজামীকে জড়িয়ে কেউ কোথাও কিছু বলেনি। কিন্তু ৪০ বছর পর ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষীরা শেখানো কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা আশাবাদী। সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশী। এরপর ভবিষ্যৎ ও ইতিহাসই এটি বিবেচনা করবে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি ও ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিষয়টি আসামিপক্ষ এর আগের মামলাগুলোতেও উল্লেখ করেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইন এ চুক্তির আগেই করা হয়েছিল। তাই এ আইনে বিচার চলতে কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, ৫ জন যদি পালিয়ে যায় বাকিদের বিচার হবে না-এমন তো আইনে নেই। সমস্ত তথ্য উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণ করেই এ বিচারকাজ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা পুনর্বিবেচনার কিছুই নেই। তাই সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকার বিষয়ে আমরা সমপূর্ণ আশাবাদী। এই রায়কে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন নেই।

No comments:
Post a Comment