![]() |
| সাউথওয়ার্ক ক্যাথেড্রালে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সাদিক খান। পাশে স্ত্রী সাদিয়া l ছবি: এএফপি |
সাদিক
খানের উত্থান যেন এক আধুনিককালের রূপকথা। সদ্য লন্ডনে আসা এক পাকিস্তানি
পরিবারে ১৯৭০ সালে জন্ম তাঁর। সাত ভাই ও এক বোনের মধ্যে সাদিক পঞ্চম। বেড়ে
ওঠেন দক্ষিণ লন্ডনের জাতিগত বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এলাকা টুটিংয়ে। থাকতেন
সরকারি আবাসনে। ঘরে জায়গা কম বলে ২৪ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত ঘুমিয়েছেন একাধিক
তলার খাটে। সাদিকের বাবা লন্ডনের গণপরিবহনের জনপ্রিয় লাল বাস চালাতেন।
নিজেই তা প্রায়ই বলে থাকেন তিনি। মা ছিলেন পোশাককর্মী। এক ভাই গাড়ি
সারাইয়ের কাজ করেন। সাদিক ক্রীড়ামোদী মানুষ। মুষ্টিযুদ্ধ শিখেছিলেন। তবে
মূলত পথেঘাটে বর্ণবাদী আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্যই শিখেছিলেন তা। তাঁর
দুই ভাই মুষ্টিযুদ্ধ-প্রশিক্ষক। সাদিক ২০১৪ সালের লন্ডন ম্যারাথনেও অংশ
নেন। স্কুলের ছাত্র অবস্থায় সাদিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি
তিনি হতে চেয়েছিলেন দন্ত চিকিৎসক। তবে এক শিক্ষক তাঁকে আইন নিয়ে পড়াশোনা
করতে উৎসাহ দেন। পরে সাদিক ইউনিভার্সিটি অব নর্থ লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে
ডিগ্রি নেন। ১৯৯৪ সালে তিনি একটি আইন-বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী
হিসেবে যোগ দেন। কালক্রমে ওই প্রতিষ্ঠানেরই একজন অংশীদার হন সাদিক। তিনি
মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইনে বিশেষজ্ঞ। তিন বছর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের
সংগঠন লিবার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাদিক খান ১৫ বছর বয়সে লেবার
পার্টিতে যোগ দেন। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রক্ষণশীল দলের মার্গারেট
থ্যাচার। ১৯৯৪ সালে সাদিক ওয়ান্ডসওয়ার্থ বরোর টুটিং এলাকা থেকে কাউন্সিলর
নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে তিনি পার্লামেন্ট সদস্য হন। দুই মেয়ে ও আইনজীবী
স্ত্রী সাদিয়াকে নিয়ে এখনো টুটিংয়েই বাস করেন সাদিক। ২০০৮ সালে
প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন তাঁকে কমিউনিটি-বিষয়ক মন্ত্রী নিয়োগ দেন।
পরবর্তী সময়ে পরিবহনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাজ্যের
মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া প্রথম মুসলিম ছিলেন তিনি। সাদিক খান পার্লামেন্টে
সমকামীদের বিয়ের পক্ষে ভোট দেন। এ কারণে তিনি হত্যার হুমকি পর্যন্ত পান।
মেয়র নির্বাচনের প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে লন্ডনবাসীর জন্য সামর্থ্যের
মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা ও পরিবহন ভাড়া স্থিতিশীল করার ওপর জোর দেন।

No comments:
Post a Comment